সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪০ এম
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকায় নিজ বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন এনায়েত শেখ (৬০) নামে এক বাস মালিক।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মাঝিগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
নিহতের বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা এনায়েত শেখের মালিকানাধীন জিএমএস পরিবহণের বাসটি মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর ব্রেক করলে, পেছন থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এ সময় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এনায়েত শেখ ছিটকে সড়কে পড়ে গিয়ে নিজ বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নৃপেন দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য জাপানের বাজারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক জাপানে রপ্তানি করেছে। এই সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক। সাম্প্রতিক এই চিত্র বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পোশাক আমদানি বাজার জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল মন্তব্য করেন, "জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।" তিনি আরও জানান, "দেশটির বড় আমদানি বাজার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানিতে জাপানের অংশ বৃদ্ধি এ সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাজার বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে এবং প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
গত কয়েক বছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরবর্তী অর্থবছরে রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ফলে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের অংশ বৃদ্ধি দেশের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাপানের পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানও বাজারটির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরবর্তী ১২ মাসে আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। বিশাল এই আমদানির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও বাজার বৈচিত্র্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ বৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে রোববার সোনার দাম আবারও কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় (ভ্যাটসহ) বিক্রি হচ্ছে। নতুন এই দর গতকাল সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আজও একই দাম বহাল রয়েছে।
স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার (তেজাবি সোনা) দাম কমে যাওয়ার কারণে নতুনভাবে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ২৩ অক্টোবর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আগে দুই দফা সোনার দাম কমানো হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর এটি ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে সোমবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, দেশের অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকে বলে এল ক্লাসিকো নাকি অত হিসাব-নিকাশের ধার ধারে না। গেল রাতের ম্যাচটা তার দারুণ একটা প্রমাণ দিয়ে গেল।
এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ জিতবে, তা বোধ হয় পাঁড় রিয়াল-ভক্তও ভাবেননি। কিন্তু শেষমেশ হলো সে ‘অভাবনীয়’ ঘটনাটাই। লস ব্ল্যাঙ্কোসরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে ন্যু ক্যাম্পে। তুলে নিয়েছে ২-১ গোলের দুর্দান্ত এক জয়।
আর এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন দলটির কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচের আগে আর ম্যাচ চলাকালে তিনি বড় ৩টি সিদ্ধান্ত নেন। দিনশেষে সেগুলোই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে গেল। খেলার চেহারাটাই বদলে দিল রীতিমতো।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ১: বের্নার্দো সিলভা
এই ম্যাচে কোচ মরিনিও ফিরে গিয়েছিলেন তার ৪ জনের মিডফিল্ডের কৌশলে। যেখানে ডাবল পিভোটে রক্ষণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে বের্নার্দো সিলভা। এই এক সিদ্ধান্তই রিয়ালের মাঝমাঠে ভারসাম্য নিয়ে এসেছে।
রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকে সিলভাকে কোচ মরিনিও শুরুর একাদশে রেখেছেন মোটে ৪ বার। তাও সেসব ম্যাচে তিনি খেলেছেন আরও বেশি সেন্ট্রাল ভূমিকায়। গেল রাতের মতো রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেটাই গছিয়ে দেওয়া হয় তার কাঁধে, সে ভূমিকাতে তিনি শুধু উতরেই যাননি, দলকেও তরিয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে। সিলভার মতো একজন টেকনিক্যাল খেলোয়াড়, যিনি আবার রক্ষণকাজটাও সারছেন দুর্দান্তভাবে, এমন একজনের উপস্থিতি দলের ওপরের দিকের খেলোয়াড়দের নির্ভার করে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদ বল পায়ে বার্সার বিপক্ষে আরও বেশি সৃজনশীলতা দেখাতে পেরেছে, পেছনে তিনি ছিলেন বলেই তো।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ২: প্রেস রেজিস্ট্যান্সি
হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনা প্রেসিং ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। সেই বার্সার প্রেসকে হারানোর কার্যকর উপায় এই রাতে বের করে দেখিয়েছেন মরিনিও। রিয়ালের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে নিজেদের দিকে টেনে এনেছে, এরপর বল নিয়ে এগিয়েছে সেই জায়গা দিয়ে, যেখানে বার্সেলোনার রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল।
এই বল সার্কুলেশনই বার্সার বিপক্ষে দারুণ কাজে লাগে। কারণ কাতালানরা রক্ষণের পেছনে অনেক বেশি জায়গা রেখে এসেছে সবসময়। এমবাপ্পে ছাড়াও আরও একজন সবসময় লেট রান নিয়েছেন রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গায়। ফলে বার্সার রক্ষণকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ফাঁকা মনে হয়েছে গেল রাতে। প্রতি আক্রমণে অন্তত ৪ বার রিয়াল সংখ্যাগত আধিক্য নিয়ে ঢুকেছে বার্সার বিপদসীমায়।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ৩: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা
মরিনিওর শুরুর পরিকল্পনা যেমন ফল এনে দিয়েছে, তেমনি বেঞ্চ থেকে তার পরিবর্তনও ছিল সমান জরুরি। ফ্লিক ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে মাঠে এনে মাঝমাঠের দখল নিতে চেয়েছিলেন আরও ভালোভাবে। ফলে একটা সময় মনে হচ্ছিল অন্তত একটা পয়েন্ট নিয়ে বার্সা মাঠ ছাড়ছেই।
ঠিক তখনই নিজের দ্বিতীয় চালটা দেন মরিনিও। তিনি নামান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে। তাকে ব্যবহার করা হয়েছে আরও একটু ওয়াইড এরিয়াতে। জয়সূচক গোলে ভূমিকাটা তিনি রেখেছেন ওই ওয়াইড এরিয়াতেই। বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে গেছেন বার্সা রক্ষণে। সেখানে প্রায় পুরো ম্যাচ নিখুঁত খেলে চলা পাউ কুবারসিকে ধোঁকা দেন দারুণ এক মুভে, শেষমেশ তার বাড়ানো বলটা অনায়াসেই বার্সার জালে জড়ান এমবাপ্পে। কামাভিঙ্গার অবদান পেয়ে যায় তার যথার্থ পুরস্কার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ