ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়ম ভেঙে শাস্তি পেলেন ভারতীয় ব্যাটার শেফালি ভার্মা


নিয়ম ভেঙে শাস্তি পেলেন ভারতীয় ব্যাটার শেফালি ভার্মা

রায়পুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আইসিসির তিরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান শেফালি ভার্মা। এর পাশাপাশি, ভার্মার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১২তম ওভারে একটি ক্যাচ মিস করার পর শেফালি রাগ ও হতাশায় বলটি জোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন।

তিনি আইসিসি আচরণবিধির লেভেল ১-এর ২.২ ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা মূলত খেলার সামগ্রী, মাঠের সরঞ্জাম বা ফিটিংসের অবমাননা বা অপব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত। খবর আইসিসি।

আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পাশাপাশি শেফালির ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার প্রথম অপরাধ।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়, ৪৩০ রান তাড়া করে ইংল্যান্ডকে হারাল

ম্যাচ রেফারি জিএস লক্ষ্মীর দেওয়া এই শাস্তি শেফালি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

ভারত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে ২-০ সিরিজে জিতে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও, রায়পুরের এই ম্যাচে ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দল নির্ধারিত ওভারে ১০২ রানে ৮ উইকেট হারায়। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।

জবাব দিতে নেমে ভারত মাত্র নবম ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ওপেনার শেফালি ভার্মা মাত্র ২৫ বলে ৫৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ভারত সহজ জয় নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: টিভিতে আজকের খেলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার সোহরাবকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার সোহরাব উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব খোন্দকার সোহেল তার বাবার পকেটে তিন হাজার টাকা ঢুকিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে তার বাবা বিষয়টি তাকে জানালে তারা ওই টাকা ফিরিয়ে দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোন্দকার সোহেল বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক বৈঠক হওয়ার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছিলেন। এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাবকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো ঘটনা তার জানা নেই।


বার্তা প্রেরক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২০০ শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২০০ শিশু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২১৭ শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ৪২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৫৯ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। বাকি ১ হাজার ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ শিশু। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছে।

এ সময়ে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গের রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই বিভাগে নতুন করে ৪৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এছাড়া ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়রায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, কিডনি বিকলসহ গুরুতর জটিলতার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


কয়রায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, কিডনি বিকলসহ গুরুতর জটিলতার অভিযোগ

খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে আনিসা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ২১ বছর বয়সী প্রসূতি বৈশাখী রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর ক্লিনিকটিতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর আরও কয়েকজন রোগীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নিহত বৈশাখী রায় মৃত দিনবন্ধু রায়ের মেয়ে। তাঁর স্বামী বাধন ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, আনিসা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বৈশাখীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চার দিন পর তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাধন ঘোষ বলেন, "আমার স্ত্রীর আগে কিডনির কোনো সমস্যা ছিল না। সিজারের পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি, তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার সন্তান মাকে হারিয়েছে।"

বাধন ঘোষের অভিযোগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহম্মেদ আনিসা ক্লিনিকে তাঁর স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহকারী ছিলেন না। বাধন আরও জানান, চিকিৎসকের প্রভাব ও সম্ভাব্য হয়রানির আশঙ্কায় তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

বৈশাখীর মৃত্যুর পাশাপাশি আনিসা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর আরও কয়েকজন রোগীর গুরুতর জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চার মাস আগে ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করানো বেবী খাতুনের স্বামী ফারুক মোল্লা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্ত্রোপচারের গজ বা কোনো সরঞ্জাম রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর স্ত্রীর মূত্রনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফারুক জানান, "বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করাতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হলেও বেবী খাতুনের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।"

আরেক রোগী পলি দাসের স্বামী পঞ্চানন দাস অভিযোগ করেছেন, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর স্ত্রীর মূত্রনালি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্য হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে পাইপ বা স্টেন্ট বসাতে হয়। তিনি জানান, "খুলনার সিটি মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতে চিকিৎসা করাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারপরও তাঁর স্ত্রী পুরোপুরি সুস্থ হননি।"

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা অসহায় বোধ করছেন। তাঁরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত আনিসা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্লিনিকটির পরিচালনার সঙ্গে ডা. সুজাত আহম্মেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনের বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে সিজারিয়ান, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করানো ১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তবে পরিদর্শনের সময় কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি। রোগীদের কেউ ছোট খাটে, কেউ মেঝেতে পাটি বিছিয়ে শুয়ে ছিলেন। স্বাভাবিক প্রসবের কক্ষের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ক্লিনিকের অস্ত্রোপচারকক্ষের টিনের ছাউনি, দেয়ালের খসে পড়া পলেস্তারা এবং অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার। সেখানে আধুনিক অস্ত্রোপচার-সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা বলে দাবী ভুক্তভোগীদের। অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত ফরম ও পরবর্তী চিকিৎসাপত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর এবং অপারেশন নোট না থাকার অভিযোগও উঠেছে।

পরিদর্শনের সময় ক্লিনিকটিতে নিবন্ধিত ডিপ্লোমাধারী নার্স, ব্যবস্থাপক কিংবা ল্যাব টেকনিশিয়ানকে পাওয়া যায়নি। তানিয়া নামে এক নারীকে রোগীদের বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। তিনি কখনো নিজেকে নার্স, কখনো চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁর নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন বা লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডা. সুজাত আহম্মেদ নিজেই অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রোগীদের অ্যানেস্থেসিয়া বা অচেতন করার ওষুধ প্রয়োগ করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহম্মেদের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেলে সটকে পড়েন। বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠালেও কোন প্রতিউত্তর দেননি।

তাঁর বিরুদ্ধে সাবেক সিভিল সার্জন থাকাকালে নিয়োগে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানাগেছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেছেন, "উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত আনিসা ক্লিনিকের অনিয়ম, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা ও রোগীদের শারীরিক ক্ষতির বিষয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেছেন, "বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাসেবার নীতিমালা ও প্রযোজ্য বিধিবিধানের পরিপন্থী। আনিসা ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু এবং অন্য রোগীদের অঙ্গহানির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বৈশাখী রায়ের মৃত্যু এবং অন্য রোগীদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতার অভিযোগের পর আনিসা ক্লিনিকের নিবন্ধন, জনবল, অস্ত্রোপচারকক্ষের পরিবেশ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও রোগী ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি ঘটনার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়ম বা চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জি এম মেহেদী হাসান। বক্তৃতা করেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী এবং দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে সভাপতির বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে।

গৌতম কুমার দে লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%