ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সব সৃষ্টি যেভাবে আল্লাহর তাসবিহ পড়ে


সব সৃষ্টি যেভাবে আল্লাহর তাসবিহ পড়ে

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সাত আকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে, সবই তাঁর (আল্লাহর) পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এমন কিছু নেই, যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৪৪)

এই আয়াতটি একটি মহান বার্তা বহন করে। যে ব্যক্তি এই আয়াতের উপর গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে উপলব্ধি করতে পারবে যে সব সৃষ্টিই তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছে। মানুষ, গাছপালা, নক্ষত্র—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না।’

তিনি বলেননি, ‘কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ শুনতে পাও না।’ তাহলে কি এমন হতে পারে যে আমরা এসব সৃষ্টির তাসবিহের শব্দ শুনতে পারি, কিন্তু তার অর্থ বুঝতে পারি না? কারণ কোনো কথা শোনার পরেই তা বোঝার বিষয়টি আসে। অন্যভাবে বললে, যদি আমরা কাউকে বলি—‘তুমি আমাদের কথা বুঝতে পারছ না’, তাহলে এর অর্থ হতে পারে—আমরা তার সামনে কথা বলছি, সে আমাদের কথা শুনছেও, কিন্তু আমরা কী বলছি, তা সে বুঝতে পারছে না।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

এখান থেকে লেখক ধারণা করেছেন যে এই পবিত্র আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইঙ্গিত দিয়েছেন—আমাদের চারপাশের সব কিছু থেকে নির্গত তাসবিহের শব্দ আমরা শুনতে পারলেও সেগুলোর অর্থ উপলব্ধি করতে পারব না।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু বিষয় আবিষ্কার করছেন, যেগুলো নিয়ে এই ভাবনা আরো এগিয়ে নেওয়া যায়—

উদ্ভিদের শব্দ : বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, কিছু উদ্ভিদ থেকে এমন শব্দতরঙ্গ নির্গত হয়, যা মানুষের শ্রবণসীমার মধ্যে পড়তে পারে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পাঙ্কের মধ্যে থাকা শব্দ মানুষের শ্রবণযোগ্য সীমার অন্তর্ভুক্ত। তবে উদ্ভিদ থেকে নির্গত কিছু সংকেত এত দুর্বল হতে পারে যে সেগুলো সরাসরি শোনা যায় না; যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলোকে বিবর্ধিত করতে হয়।

নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের শব্দ : বিজ্ঞানীরা কিছু নক্ষত্র ও মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দসংকেত শনাক্ত করেছেন। নিউট্রন নক্ষত্র থেকে আসা সংকেতকে কখনো হাতুড়ির আঘাতের মতো শব্দ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গেও শব্দের ধারণা যুক্ত হয়েছে। এমনকি মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেত থেকেও বিজ্ঞানীরা শব্দের অনুরূপ উপস্থাপনা তৈরি করেছেন।

আরও পড়ুন: নিজের যা নেই, তা থাকার ভান করা নিন্দনীয়

জীবন্ত কোষের শব্দ : ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক গিমজেউস্কির (Gimzewski) মতে, বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জীবন্ত কোষের কম্পন শনাক্ত করা সম্ভব এবং বিভিন্ন কোষের কম্পনের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের কোষের কম্পন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রাণী, পোকামাকড় ও অণুজীবের শব্দ : ডলফিন, ঝিঁ ঝিঁ পোকা, পাখি, মৌমাছি এবং অন্যান্য জীব বিভিন্ন ধরনের শব্দ বা কম্পন তৈরি করে।

ভবিষ্যতে বিজ্ঞান হয়তো পরমাণুর কম্পন সম্পর্কেও আরো নতুন তথ্য আবিষ্কার করবে। তখন সৃষ্টিজগতের সবকিছু আল্লাহর তাসবিহ করে—এই কোরআনিক বক্তব্যের তাৎপর্য আরো গভীরভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হতে পারে।

সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য : আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব কম্পন বা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তাহলে এমন কোনো অদৃশ্য শক্তি কি নেই, যা সর্বত্র বিদ্যমান এবং আমরা যা দেখি বা অনুভব করি, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে?

আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত

সেই শক্তি কি মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা হতে পারে না? আর এসব শব্দ বা কম্পন কি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাঁর মহিমা ঘোষণা এবং তাঁর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে না?

কেন আল্লাহর তাসবিহ থেকে উদাসীন থাকব?

যদি সৃষ্টিজগতের সবকিছু রাত-দিন আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে ক্লান্ত না হয়ে এবং বিরতি না দিয়ে, তাহলে আমরা কেন আল্লাহর স্মরণ থেকে ভুলে থাকব? যদি এমন ক্ষুদ্র জীবও আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে—যাকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাহলে আমরা—যারা নিজেদের মুমিন বলে দাবি করি, আমাদের কি আরো বেশি তাসবিহ করা উচিত নয়?

(মাওসুআতুল ইজাজিল ইলমি ফিল কোরআনি ওয়াস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ অবলম্বনে)

আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে ১৫টি আমলে মনোযোগী হওয়া জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


জুমার দিনে ১৫টি আমলে মনোযোগী হওয়া জরুরি

জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। ফলে, জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে এক অপার্থিব সুখ ও মমতা অনুভূত হয়। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য এই দিনে বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। এদিনের জন্য কিছু বিশেষ ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিচে সেগুলোর আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের নামাজে তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরাগুলো তিলাওয়াত করার কারণ হলো, সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির বিষয়, পুনরুত্থান এবং কিয়ামতের দিন সকলের সমবেত হওয়ার আলোচনা রয়েছে। তাই এই সুরা পাঠের মাধ্যমে উম্মতকে স্মরণ করানো হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।" (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে জুমার নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। আরাফার দিবসের পর এদিন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ একত্রিত হয়। যারা জুমার নামাজকে অবহেলা করে, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : এদিন সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্য দিনের তুলনায় উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষ মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটি এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটি নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন।" তিনি বলেন, "সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশিরভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলের গোলাবর্ষণ, খিয়ামে চলছে তল্লাশি অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলের গোলাবর্ষণ, খিয়ামে চলছে তল্লাশি অভিযান

ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরের উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করেছে।

এ তথ্য লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি জানায়, নাবাতিয়েহ জেলার মায়ফাদুন ও জাওতার আশ-শারকিয়াহ শহরের নিকটবর্তী এলাকায় থেমে থেমে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, ইসরাইল সীমান্তের কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলের বারাআচিট ও ওয়াদি আল-সালুকি শহরের আশপাশেও গোলা নিক্ষেপ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

এর আগে বারাআচিট ও হাদাথা শহরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে এনএনএ জানিয়েছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খিয়াম শহরে ইসরাইলি বাহিনী তল্লাশি অভিযানকে জোরদার করেছে। এসব ঘটনার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালি নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ না করতে কড়া সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


ইতালি নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ না করতে কড়া সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইতালি দেশটিতে সব ধরনের ভ্রমণ স্থগিত রাখতে নাগরিকদের জন্য একটি কড়া সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার না করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার হালনাগাদ করা এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সৌদি আরবে সব ধরনের ভ্রমণ পিছিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি আরবের ভেতরে বা দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হলে আকাশপথের বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করা উচিত।

ইতালির যেসব নাগরিক ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করেছে। জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো এবং সামরিক তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান, নাজরান ও আসির প্রদেশে ভ্রমণের বিরুদ্ধেও ইতালি কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের ইতিহাসে প্রথম হজ পালনকারী শোতারো নোদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


জাপানের ইতিহাসে প্রথম হজ পালনকারী শোতারো নোদা

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, যখন ইসলাম এবং মুসলিম বিশ্বের জীবনযাত্রা জাপানের মানুষের কাছে ছিল অনেকটাই অজানা, তখন কয়েকজন জাপানি ধর্মীয় বিশ্বাস, জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নাম হলো ওমর ইয়ামাওকা এবং শোতারো নোদা। ১৯০৯ সালে পবিত্র মক্কায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ইয়ামাওকা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেন।

ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৮৯১ সালে ইস্তাম্বুলে ইসলাম গ্রহণ করে শোতারো নোদা জাপানের প্রথম নথিভুক্ত মুসলিম হিসেবে পরিচিত হন।

১৯০৯ সালে জাপান থেকে পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ওমর ইয়ামাওকা। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ পালন করার উদ্দেশ্যে তিনি এই সফর শুরু করেন। তাঁকে প্রথম জাপানি হজযাত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই সফরটি জাপান ও মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। সে সময় জাপানের মানুষের কাছে ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত।

মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনেকেরই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ইয়ামাওকার হজযাত্রা ছিল ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে একটি ভিন্ন ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

হজ শেষে ১৯১০ সালে জাপানে ফিরে আসেন ইয়ামাওকা। পরে ১৯১২ সালে তিনি তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাপানি ভাষায় একটি বই রচনা করেন। এই বইয়ের মাধ্যমে জাপানি পাঠকরা তাঁর সফর, আরব অঞ্চল এবং পবিত্র স্থানগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

সে সময় বিদেশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ পাঠকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। ইয়ামাওকার ভ্রমণবৃত্তান্তও জাপানি সমাজের কাছে মুসলিম বিশ্বের পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জাপান ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক তখন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছিল। বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারী, ইসলামী পণ্ডিত এবং ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও লেখালেখি জাপানের মানুষের সামনে ইসলামের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য তুলে ধরতে সাহায্য করে। ইয়ামাওকার হজযাত্রা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত প্রকাশ এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও ওমর ইয়ামাওকা প্রথম জাপানি হজযাত্রী হিসেবে পরিচিত, তবে জাপানের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয় না। ঐতিহাসিক নথিপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, শোতারো নোদার নাম এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নোদা ছিলেন একজন জাপানি সাংবাদিক।

১৮৯১ সালে তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি তুর্কি ভাষা, অটোমান ইতিহাস এবং ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, একই বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আব্দুলহালিম নাম ধারণ করেন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের জীবনকাহিনি জাপান ও মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%