বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪১ পি.এম
রাজশাহী, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নগরীর বোয়ালিয়া থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার এ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বোয়ালিয়া থানার হেতেমখাঁ এলাকার স্বপন শাহর ছেলে সোহান ইসলাম ওরফে নিশান (২৬), পঞ্চবটি এলাকার কালামের ছেলে অন্তু (২৩) এবং চন্দ্রিমা থানার হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন রানা (৩০)।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন ভদ্রা মোড় এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীরা ব্যানারসহ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় তারা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। স্থানীয় লোকজন ও বাদী মিছিলে বাধা প্রদান ও তাদের নিষেধ করলে তারা বাদীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
পরে বাদী পুলিশকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে মারধরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। এতে বাদী ভীত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে অভিযুক্তরাও ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় এজাহার নামীয় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে বোয়ালিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় এই তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান, চারটি পরিবর্তন নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে মাঠে নেমেছে। তবে, পরিবর্তন সত্ত্বেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা।
মোহাম্মদ ইমরান রানধাওয়া, রাজাউল্লাহ, গাজী ঘোরি ও সাইম আইয়ুব—এই চারজনের মধ্যে সাইম আইয়ুবই একমাত্র যিনি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
অন্য তিনজন আজ টেস্টে অভিষেক করেছেন। ইংল্যান্ডের মতো কঠিন কন্ডিশনে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ দল নিয়ে খেলতে নেমে যা হওয়ার, তাই ঘটেছে। লিডস ও লর্ডস টেস্টে পর পর বাজে হারের পর দলে পরিবর্তন আনলেও পাকিস্তানের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। বার্মিংহামের এজবাস্টনে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে তারা।
ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব ও আজান আওয়াইস এবং তিন নম্বরে নামা আবদুল্লাহ শফিক ইতিমধ্যেই আউট হয়ে ফিরেছেন। ১৯ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা আইয়ুব ‘ডাক মেরেছেন’ (০)। আওয়াইস ৯ ও শফিক ৩ রান করে আউট হয়েছেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২৬ রান, ৩ উইকেট হারিয়ে।
দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন শান মাসুদ (৫*) ও অধিনায়ক বাবর আজম (২*)। ওলি রবিনসন ২টি ও জফরা আর্চার ১টি উইকেট শিকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।
আজ দুপুরে জেলায় বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রুফটপ সোলার প্লান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তাও দিয়েছে সরকার।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল সংকটের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বাকেশির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগেই এটি উৎপাদনে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, কারখানার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পটির বিনিয়োগ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। বর্তমান জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করছে সরকার। ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসিক কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে। সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতেও কর ও শুল্ক সুবিধা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাকেশির ১ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট চাহিদা মেটাচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্লান্টটির সক্ষমতা ২ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও চলছে। বিটিসিএল, টেলিটক, হাইটেক পার্কসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জায়গার সুযোগ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাকেশির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।
এর আগে মন্ত্রী বাকেশি চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মৎস্য অবমুক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, সরকারি বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম এবং শিক্ষকদের ফাইল আটকে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এবিষয় উপজেলার একাধিক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংবাদ কর্মীদের বক্তব্য দিয়েছেন। একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আটকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বিল ও ফাইল।
অভিযোগ ও সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা, নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কার, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ডিভাইস, এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি, ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিকসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪২টি ভোটকেন্দ্রের সংস্কারের জন্য প্রতিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বরাদ্দ থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৯ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রায় চার মাস পর অর্থ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়ন পর্যায়ে যথাযথভাবে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের ডিভাইস কেনার জন্য বরাদ্দ ৯০ হাজার টাকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চরফ্যাশনের ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরের অর্থবছরে আরও ৮টি বিদ্যালয়ে ৩ লাখ টাকা করে এবং একটি বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, এসব বরাদ্দের বিপরীতে দৃশ্যমান কাজ না করেই অর্থের একটি অংশ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে বারবার বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে ১৮৬ নম্বর দক্ষিণ চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেরামত ও সংস্কার খাতে ২ লাখ টাকা পায়। একই অর্থবছরে আবার এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পূর্ব নুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ক্ষুদ্র মেরামত খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিল ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন অভিযোগ করেন, এরিয়ার বিলের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল দেখে অফিসের ‘সাত্তারের’ কথা বলে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় বিলে স্বাক্ষর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মিয়াজানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের বরাদ্দ থেকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
মধ্য উত্তর মাদ্রাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই খান বলেন, আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ বরাদ্দ তারা পাননি।
মধ্য উত্তর ফ্যাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই হাওলাদার বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা নেওয়া হলেও তারা কোনো ডিভাইস পাননি।
আসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টের বরাদ্দ না পাওয়ার কথা জানান।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দ ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ না থাকা বা ইন্টারনেট সচল না থাকার পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রত্যয়ন ছাড়াই একটি কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কনটিনজেন্সি, বই পরিবহন, টিএ, বিভিন্ন দিবস পালন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৬ শিক্ষকের বিনোদন ভাতার বিল ছাড়ের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিপক্ষে তার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের কথাও জানান।
শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, আমি এই প্রথম আপনার কাছে তার বিষয়ে এত অভিযোগের কথা শুনলাম। আমার কাছে মিজানুর রহমানের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে নাই। যে দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে তারা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন। আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমিও তদন্তও সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে।
তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে স্বাগত জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করেন এবং লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।
এসময় তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।"
রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলোও ঘুরে দেখেন। সেসময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রপতি শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।"
এসময় রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দের পাশাপাশি এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ