ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চরফ্যাশনে ফাইল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ,শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকদের নালিশ


চরফ্যাশনে ফাইল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ,শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকদের নালিশ

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, সরকারি বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম এবং শিক্ষকদের ফাইল আটকে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এবিষয় উপজেলার একাধিক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংবাদ কর্মীদের বক্তব্য দিয়েছেন। একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আটকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বিল ও ফাইল।
অভিযোগ ও সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা, নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কার, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ডিভাইস, এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি, ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিকসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪২টি ভোটকেন্দ্রের সংস্কারের জন্য প্রতিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বরাদ্দ থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৯ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রায় চার মাস পর অর্থ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়ন পর্যায়ে যথাযথভাবে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের ডিভাইস কেনার জন্য বরাদ্দ ৯০ হাজার টাকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চরফ্যাশনের ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরের অর্থবছরে আরও ৮টি বিদ্যালয়ে ৩ লাখ টাকা করে এবং একটি বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, এসব বরাদ্দের বিপরীতে দৃশ্যমান কাজ না করেই অর্থের একটি অংশ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে বারবার বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে ১৮৬ নম্বর দক্ষিণ চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেরামত ও সংস্কার খাতে ২ লাখ টাকা পায়। একই অর্থবছরে আবার এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পূর্ব নুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ক্ষুদ্র মেরামত খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি খাতে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিল ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন অভিযোগ করেন, এরিয়ার বিলের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল দেখে অফিসের ‘সাত্তারের’ কথা বলে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় বিলে স্বাক্ষর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মিয়াজানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের বরাদ্দ থেকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

মধ্য উত্তর মাদ্রাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই খান বলেন, আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ বরাদ্দ তারা পাননি।
মধ্য উত্তর ফ্যাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই হাওলাদার বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা নেওয়া হলেও তারা কোনো ডিভাইস পাননি।
আসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টের বরাদ্দ না পাওয়ার কথা জানান।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দ ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ না থাকা বা ইন্টারনেট সচল না থাকার পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রত্যয়ন ছাড়াই একটি কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কনটিনজেন্সি, বই পরিবহন, টিএ, বিভিন্ন দিবস পালন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৬ শিক্ষকের বিনোদন ভাতার বিল ছাড়ের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিপক্ষে তার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের কথাও জানান।
শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, আমি এই প্রথম আপনার কাছে তার বিষয়ে এত অভিযোগের কথা শুনলাম। আমার কাছে মিজানুর রহমানের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে নাই। যে দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে তারা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন। আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমিও তদন্তও সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে।

তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে স্বাগত জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করেন এবং লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।

এসময় তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।"

রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলোও ঘুরে দেখেন। সেসময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন।

রাষ্ট্রপতি শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।"

এসময় রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দের পাশাপাশি এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডনের আচরণে সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে : সিআইডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ডনের আচরণে সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে : সিআইডি

সিআইডি জানিয়েছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও চালচলন বিশ্লেষণ করে তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান।

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডন তাদের চেনেন বলে প্রকাশ করলেও মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে ডন সালমানের বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন।

আবেদনে আরো বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যু ও মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ডন অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেছেন। তবে মামলার ঘটনার আগে, পরে ও ঘটনার সময় তার আচরণ ও চালচলন বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

 

এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সিআইডি জানিয়েছে, ডন অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় মামলার ঘটনা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

 

পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২০ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ২৭ আগস্ট আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির ক্রাইম বিভাগে নতুন ডিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ডিএমপির ক্রাইম বিভাগে নতুন ডিসি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে একজন কর্মকর্তার পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এই আদেশের আওতায়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


যাত্রাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর ইমরান হত্যা মামলার মূল হোতা সহ পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে একটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, ছয়টি ককটেল, দুইটি চাপাতি, দুইটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫), মো. সাইফুল হোসেন (২০), মো. জামিল মিয়া দোলন (৩৫) এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু (৩৫)।

পুলিশ জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর বাদল সর্দার গলির শরিফের গ্যারেজে বসে থাকা ইমরান ও সাদ্দামকে লক্ষ্য করে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি করে।

এ সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন এবং সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ পরে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গতকাল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পাড় গেন্ডারিয়া খেজুরবাগ এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজকে গ্রেফতার করে।

রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে ডেমরা থানার পাড়াডগাইর এলাকা থেকে মো. কামরুল হাসান ও মো. সাইফুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।

এছাড়া আজ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. জামিল মিয়া দোলনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, ইমরান হত্যা মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%