১১:৪০ পি.এম
পাংখারচর গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন (৪৫) ছিলেন একজন কৃষক। তিনি নিজের তিন বিঘা জমি এবং অন্যের চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। তাঁর সংসার চলতো ৭ বিঘা জমির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু মধুমতি নদীর ভাঙনের কারণে তিনি ৪ বিঘা জমি হারিয়েছেন। বাকি জমিটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তাঁর রয়েছে। জামাল সরদারই একমাত্র নন, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের পাংখারচর এলাকায় মধুমতি নদীর ভাঙনে অসংখ্য কৃষক জমি হারিয়েছেন। এখনও জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন কয়েকশ কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাংখারচর এলাকায় মধুমতি নদীতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমি হারিয়ে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও শত শত বিঘা ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়ি। এসব জমিতে বোরো ধান, আমন ধান, আবার কোথাও আখসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা শঙ্কিত।
কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, “ভাঙন রোধ করা না গেলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা করতে পারবো না। মধুমতি নদী ধীরে ধীরে আমাদের সব জমি গ্রাস করে নিচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অনেক কৃষককে পথে বসতে হবে। জমি হারালে আমাদের আর বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন থাকবে না। আমরা গরিব মানুষ, জমিটুকুই আমাদের একমাত্র সম্বল। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন দ্রæত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে আমাদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন: মহেশখালীতে তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের
কৃষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “চোখের সামনে আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। কিছুই করতে পারছি না। এই জমি চাষাবাদ করেই আমাদের সংসার চলে। একের পর এক জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। বাকি জমিটুকুও হারানোর ভয় করছি। জমি না থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কী খেয়ে চলব। নদীভাঙন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের জমিগুলো রক্ষা করা হোক।”
গোপালগঞ্জ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই এবং এ বছর পর্যাপ্ত বরাদ্দও নেই। আগামীতে বরাদ্দ পেলে ভাঙনকবলিত এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন