সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৭ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আট মাস আগে ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ার পর পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিকল্প সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ জানান, "আট মাস ধরে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। গরমেও কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের।" তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান।
একই গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আট মাস ধরে এভাবে চলতে থাকায় তারা খুব কষ্টে আছেন।" তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, "সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তলদেশে ক্যাবল লাইনে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান বলেন, "বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো হওয়ায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হানি ট্র্যাপ প্রতারণার ঘটনায় জড়িত তিন নারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের বেশ কয়েকজন অনুসারী ও নেতার নাম এই চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।কুমুদিনী কলেজ,ফজিলাতুন্নেছা কলেজের বেশ কিছু নারী এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষকদের এই চক্রে জড়িত হবার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাদের গ্রেফতার করতে বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, অপরাধ চক্রটিকে আড়াল করতে এবং তদন্তের মুখ ঘুরিয়ে দিতে আড়ালে সক্রিয় রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী বলয়। বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সাধারণ সদস্যদের গ্রেফতার দেখানো হলেও চক্রটির মূল পৃষ্ঠপোষকদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে এই হানি ট্র্যাপ চক্রের সাথে জড়িত আরও অনেক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফরে যেতে পারেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সোমবার জানিয়েছে, সফরটির প্রস্তুতি চলছে। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাহবাজ শরিফের রাশিয়া সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত মার্চে তার মস্কো সফরের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসলামাবাদ সেই সফর স্থগিত করে। পরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল।
পাকিস্তান দুইটি বড় নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলে সংকট সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং ইরান থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য মস্কো সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তান নিয়েও পুতিন ও শাহবাজ শরিফের আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ১২ অক্টোবর রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ ইসলামাবাদ সফর করেন এবং পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের ‘ইতিবাচক অগ্রগতিতে’ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও রাশিয়া জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে কিছু বাধা রয়েছে।
বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধের কার্যকর পদ্ধতি এবং সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় শাহবাজ শরিফের সম্ভাব্য মস্কো সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে পারস্পরিক অবস্থান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সফরের সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার হওয়া ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, যা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম এবং সদস্য সচিব বায়েজীদ আল আমিন স্বাক্ষরিত, জানানো হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার অধীনস্থ ১নং ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও একটি ১৫০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ উদয় এবং মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মাদক মামলার মতো একটি স্পর্শকাতর অপরাধে দলের নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমন দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে ‘কোটা আন্দোলনের’ পক্ষে ছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সামনে এই দাবি করেন তিনি।
পলকের আইনজীবী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম ছিল না। তার দাবি, পলক এ মামলায় নির্দোষ এবং জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘কোটা’ বিরোধী আন্দোলনে তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন।
আদালতে শুনানি শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনজীবী এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
তবে আইনজীবীর এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মামলার অভিযোগ, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ