মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩১ পি.এম
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক প্রায় পাঁচ বছর স্থবির থাকার পর, অবশেষে ভারত ও চীনের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করেন। এটি ছিল ২০১৮ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফর করেন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে।
এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির শীর্ষ নেতাদের এই মেলামেশা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নতুন দর কষাকষি ও কূটনৈতিক কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের নীতির কারণে বিশ্ব রাজনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দিল্লি ও বেইজিংয়ের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি মোক্ষম সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সীমান্ত সমস্যা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা—এই সব বিষয় নিয়েই বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে একটি জটিল দরকষাকষি চলছে।
ভারতের পক্ষ থেকে তিনটি বড় দাবি উত্থাপন করা হয়েছে: সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, ন্যায্য বাজার সুবিধা বা বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা এবং সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা। অন্যদিকে, চীন তিব্বত ও তাইওয়ানের মতো ইস্যুতে ‘এক চীন’ নীতি মেনে নেওয়ার জন্য ভারতকে চাপ দিচ্ছে এবং স্থিতিশীল সীমান্তের বিনিময়ে বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা দাবি করছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চীনের যুক্তি হলো, ভারতের ‘চীন থেকে সরে আসার’ কৌশল ব্যর্থ হয়েছে, কারণ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৫৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ভারতের পালটা যুক্তি হলো, অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি করতে না পারা এবং রপ্তানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে চীনের অর্থনীতি বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক যখন নড়বড়ে, তখন ভারতীয় বাজার ধরে রাখা দেশটির জন্য খুবই জরুরি।
‘পারস্পরিক ছাড়’-এর সীমাবদ্ধতা
চীনকে আশ্বস্ত করতে ভারত ইতোমধ্যে বিনিয়োগ নীতি সংশোধন এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তাইওয়ান ও তিব্বত ইস্যুতে চীনকে শক্ত হাতে প্রতিহত করছে ভারত।
ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে চীন। এর জবাবে ভারত সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি জায়গার নতুন নামকরণও করেছে।
অন্যদিকে, সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলেও বিগত দুই বছরে সীমান্তে ‘বাফার জোন’ তৈরি এবং সংকট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু এবং নদী সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান চালুর মাধ্যমে বেইজিংও কিছুটা সদিচ্ছা দেখিয়েছে।
ব্রিকস ও নতুন ঐকমত্য
এদিকে ডলারমুক্তকরণ বা জ্বালানি নিরাপত্তার মতো ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখে ভারত ও চীন নতুন এক ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তাদের মূল বার্তা হলো—সব মতপার্থক্য দূর না করেও বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বীরাও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
তবে চীনের হাতে ব্রিকসের দায়িত্ব যাওয়া এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মতো বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে এই দুই দেশের মধ্যকার বোঝাপড়া বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়বে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তবে নিজেদের লাভ নিশ্চিত করে দেশ দুটি প্রতিপক্ষকে কতটুকু ছাড় দেবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের পুনরায় ফিরে আসা যেন কোন মায়ের বুক খালি করতে না পারে এবং স্বজনদের প্রতীক্ষায় থাকতে না হয়, এমন একটি পরিবেশ যেন আর ফিরে না আসে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের মধ্যে মতের অমিল থাকতে পারে, তবে একটি জায়গায় আমাদের মিল থাকতে হবে, যেহেতু এই দেশ আমাদের। এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে ফ্যাসিজমের পথ বন্ধ করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বাগেরহাট -৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পারকিনসন্স রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই এবং এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ‘বব হোপ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে ৬৫ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
টেলিভিশন একাডেমি জানায়, পারকিনসন্স রোগের গবেষণায় তার রূপান্তরমূলক অবদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে ফক্সকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
মঞ্চে আসার আগে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ফক্সের অভিনয় জীবন এবং পারকিনসন্স রোগের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়। হুইলচেয়ারে করে মঞ্চে আসার পর দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় মাইকেল জে ফক্স আবেগী কণ্ঠে তার শৈশব এবং প্রয়াত কমেডিয়ান বব হোপের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, তাতে আমি গর্বিত।’
রোগ লুকানোর পরিবর্তে সচেতনতার প্রতীক হয়ে ওঠা
মাত্র ২৯ বছর বয়সে ১৯৯১ সালে ‘ডক হলিউড’ সিনেমার কাজ করার সময় প্রথমবারের মতো পারকিনসন্স রোগের লক্ষণ দেখা দেয় তার শরীরে। তবে ৭ বছর পর, ১৯৯৮ সালে, তিনি জনসমক্ষে প্রথমবারের মতো এই রোগের কথা জানান।
শুরুর দিকে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন যে, রোগ মেনে নেওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়। কিন্তু রোগের কারণে কথা বলতে এবং লাইন মুখস্থ করতে সমস্যা হওয়ায় ২০২০ সালে অভিনয় থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।
তবে এর আগেই ২০০০ সালে তিনি ‘মাইকেল জে ফক্স ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পারকিনসন্স রোগের গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। পাঁচবারের এমি বিজয়ী এই অভিনেতা অবসরের সিদ্ধান্ত ভেঙে ২০২৫ সালে অ্যাপল টিভি প্লাসের জনপ্রিয় সিরিজ ‘শ্রিংকিং’-এ অভিনয় করেন এবং চলতি বছর তার ১৯তম এমি মনোনয়ন অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, বব হোপ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড মূলত টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এমন কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, যার জনহিতকর কাজগুলো কমেডিয়ান বব হোপের সমাজসেবামূলক আদর্শের সঙ্গে মিলে যায়। ২০০২ সালে প্রবর্তিত এই পুরস্কার এর আগে অপরাহ উইনফ্রে, জর্জ ক্লুনি এবং শন পেনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে হাবিবা আক্তার ইতি। সে পুলিশের এসআই নবী হোসেনের মেয়ে।
ইতির এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে খুশি ও আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। ইতির মা মোছাঃ পারভীন খানম জানান আমার মেয়ে ইতি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিল, নিয়মিত পড়াশোনা, অধ্যাবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তিনি বলেন -
ইতি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
হাবিবা আক্তার ইতির এই সাফল্যে গর্বিত তার বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজন এবং শিক্ষক শিক্ষিকা। তারা ইতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
ইতির বাবা সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানার এসআই নবী হোসেন বলেন, মেয়ের ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা ও মেয়ের পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও সে যেন ভালো রেজাল্ট ও আদর্শ মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ইতির কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এড়িয়ে আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই জোটকে আরও কার্যকর করার জন্য পারস্পরিক বিশ্বাস, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিমসটেককে সফল করতে হলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না, বরং সম্পৃক্ততার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে জোটের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও তার স্ত্রী সুষমা পান্ডে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিমসটেক সদস্য দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ বিমসটেকের সব সদস্য দেশ এবং বিমসটেক সচিবালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধনের পাশাপাশি পরবর্তী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। ২০২৭ সালে ঢাকায় পরবর্তী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এ শীর্ষ সম্মেলন অগ্রগতি পর্যালোচনা, নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং অভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচিতে আরও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আরও গতিশীল সেতুবন্ধন এবং আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বিমসটেকের সব সদস্য দেশের সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা থেকে সরে আসা উচিত নয়। আমাদের দৃঢ়তা থাকতে হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জ, কঠিন উত্তেজনা এবং কঠিন সংলাপকে মোকাবিলা করার মতো দূরদর্শিতা থাকতে হবে, যাতে পারস্পরিক আস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সফল করা যায়।’
তিনি বিমসটেকের মহাসচিব এবং তার দলের সদস্যদের অভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার ও অব্যাহত সেবারও প্রশংসা করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ১২ বছর আগে ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আঞ্চলিক এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। গত ১২ বছরে সচিবালয়টি বিমসটেকের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সহজ করা, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীদের সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানটির আয়োজক হতে পেরে গর্বিত এবং সচিবালয়কে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক আঞ্চলিকতাবাদের উত্থানের বহু আগে থেকেই বঙ্গোপসাগর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে আসছে। এই উপসাগর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি, জ্ঞান, বিশ্বাস ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বহন করেছে। বিমসটেক সেই ঐতিহাসিক সংযোগকে সমসাময়িক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—একসঙ্গে বিপুল জনসংখ্যা, সম্পদ, মেধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের কাজ হলো এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, খণ্ডিত সরবরাহ ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ কোনো দেশের সীমান্ত মেনে চলে না। কোনো দেশ এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। তাই শান্তি, সহনশীলতা ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য আরও শক্তিশালী বিমসটেক কেবল আকাঙ্ক্ষিত নয়; এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংগঠনটিকে আরও কার্যকর, দৃশ্যমান, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে জনগণকেন্দ্রিক করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমাদের কর্মকৌশল বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন— বিশেষ করে সুনীল অর্থনীতি ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ জোরদার করা, যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা ও জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান হুমায়ন কবির।
তিনি বলেন, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুমায়ন কবির সুনীল অর্থনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করে বঙ্গোপসাগরকে এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অভিন্ন সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ, নৌপরিবহন পথ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা টেকসই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
হুমায়ন কবির বলেন, ‘বিমসটেক উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই যোগাযোগব্যবস্থা থাকতে হবে।’ তিনি এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তির ওপরই সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তাই সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।’
হুমায়ুন কবির পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব বিনিময়, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক, থিংক-ট্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং বেসরকারি খাতগুলোর মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বিমসটেককে শুধু একটি আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি জীবন্ত আঞ্চলিক কমিউনিটিতে পরিণত হতে হবে।’
বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং বিমসটেক সচিবালয়ের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব শুধু সভা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সদস্য রাষ্ট্র ও সচিবালয়ের সঙ্গে কাজ করে বিমসটেকের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধন করবে এবং ২০২৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক কার্যক্রমগুলো আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ