শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০২ পি.এম
সউদী আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা জোটে রূপ নিতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুর্তুলমুশ। তিনি শুক্রবার এ কথা বলেন।
গত আগস্টে মক্কায় সউদী আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, পরে এতে তুরস্কও যুক্ত হয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সেটিকে সকল সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
কুর্তুলমুশ উল্লেখ করেন, চুক্তিটি মুসলিম বিশ্বের আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এমনকি ভবিষ্যতে ইরানকে এ কাঠামোর অংশ করার কথাও উল্লেখ করেন। চুক্তিটি আগামী মাস থেকে সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চুক্তির পক্ষগুলো পূর্বে জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। একই সঙ্গে, বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিকল্প হিসেবেও এটি কাজ করবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, তুরস্ক, সউদী আরব, পাকিস্তান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি সউদী আরবের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন এবং আঞ্চলিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সূত্র : রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মতো বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সচরাচর কোনো বিশ্বনেতার পক্ষে ভাবা সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকলেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতি সকলকে বিস্মিত করেছে।
চলুন জানি, কোন কোন বিশ্বনেতা এই মহাসমাবেশ থেকে দূরে থেকেছেন এবং এর পেছনের কারণ কী।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় বছর দায়িত্ব পালনরত ফ্রিডরিখ মার্ৎস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস-এর নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য তিনি নিজেই দেশে অবস্থান করছেন। তার বদলে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ জরুরি কাজের কারণে নিউইয়র্কে যাননি।
জুলাইয়ের শুরুর দিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটেশন অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান যে ইতালির কিছু পেন্ডিং কাজ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তাকে সামলাতে হবে। তার পরিবর্তে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্মেলনে যোগদান করেছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা
ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ করেননি। তার পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা যোগদান করেছেন।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি।
তার পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে কখনো যোগ দেননি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু
আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভুর অনুপস্থিতির কারণ হলো তার অবকাশ যাপন।
অগাস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার দেশ থেকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ভারত: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিতভাবে উপস্থিত হন না। এর আগে তিনি শেষবার ২০২১ সালে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন।
এরপর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে পাঠাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোদির নাম বক্তার তালিকায় থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
চীন: শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেননি।
এর পরিবর্তে তিনি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন, যেখানে তিনি হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন। তাই এবারও তার পরিবর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে তাকে পাঠিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানাননি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছরের মতো এবারও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
বাধ্য হয়ে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সমিতির মোট ৬৬ জন ভোটারের সবাই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আপন জুয়েলার্সের মালিক আবুল কালাম আজাদ।
সাধারণ সম্পাদক পদে হরিণ প্রতীকে ৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মদিনা জুয়েলার্সের আরিফ মাঈনুল ইসলাম রাকিব। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আপন চাচা নুর উদ্দিন রেদোয়ানকে (আনারস প্রতীক) পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে চন্দ্রিমা স্বর্ণ শিল্পালয়ের বাসুদেব বণিক দোয়াত-কলম প্রতীকে ৪৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৬/৯ ২৬ শনিবার" টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহএক যুব আটক মো. রাজিব হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সদর থানাধীন এতিমখানা রোডের বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল সদর থানাধীন এতিমখানা রোডের বেপারীপাড়া এলাকায় রাজিবের নিজ বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামির কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মো. রাজিব হোসেন ওই এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবির বুলবুল জানান, এ ঘটনায় উপপরিদর্শক তপু খান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘হুংকার দিয়েন না, সাহস থাকলে এখনই আসেন’—এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, যা বিরোধী শক্তির উদ্দেশে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা নৈরাজ্য, খুন, হত্যা ও গুমের দায় নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, তারা ডিসেম্বরে ফিরে আসার কথা বলছেন। দেশের জনগণই তাদের বিচার করবে বলে তিনি জানান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নেতৃত্বে সকাল বেলা নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মহাসড়কের পাশে একটি যাত্রীছাউনিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আরো পড়ুন
সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নৈরাজ্য, খুন, হত্যা ও গুমের দায় নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, তারা আবার বলতেছে ডিসেম্বরে আসবে। আরে হুংকার দিয়েন না, সাহস থাকলে এখনই আসেন। দেশের জনগণই আপনাদের সঠিক বিচার করবে।’
বিরোধী শক্তির উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কাকে ভয় দেখান? ৭১ সালে দেখিয়েছেন, ৯০-এ দেখিয়েছেন, ৯৬-এ দেখিয়েছেন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালেও দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের মাটিতেই প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘যেসব মায়েদের বুক খালি করেছেন, তারা আজ কী অবস্থায় আছে তা দেখে যান। প্রতিটি অপরাধের জন্য পইপই করে জবাব দিতে হবে।’
সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ