প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) মতো বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সচরাচর কোনো বিশ্বনেতার পক্ষে ভাবা সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকলেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতি সকলকে বিস্মিত করেছে।
চলুন জানি, কোন কোন বিশ্বনেতা এই মহাসমাবেশ থেকে দূরে থেকেছেন এবং এর পেছনের কারণ কী।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় বছর দায়িত্ব পালনরত ফ্রিডরিখ মার্ৎস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস-এর নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য তিনি নিজেই দেশে অবস্থান করছেন। তার বদলে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ জরুরি কাজের কারণে নিউইয়র্কে যাননি।
জুলাইয়ের শুরুর দিকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটেশন অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান যে ইতালির কিছু পেন্ডিং কাজ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তাকে সামলাতে হবে। তার পরিবর্তে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সম্মেলনে যোগদান করেছেন এবং ভাষণও দিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা
ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ করেননি। তার পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা যোগদান করেছেন।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি।
তার পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে কখনো যোগ দেননি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু
আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভুর অনুপস্থিতির কারণ হলো তার অবকাশ যাপন।
অগাস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার দেশ থেকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ভারত: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিতভাবে উপস্থিত হন না। এর আগে তিনি শেষবার ২০২১ সালে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন।
এরপর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে পাঠাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোদির নাম বক্তার তালিকায় থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
চীন: শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেননি।
এর পরিবর্তে তিনি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন, যেখানে তিনি হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন। তাই এবারও তার পরিবর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে তাকে পাঠিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানাননি।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছরের মতো এবারও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
বাধ্য হয়ে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন