বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণাঞ্চলের নারাথিওয়াত প্রদেশে একটি হামলায় পাঁচ সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের সেনাবাহিনী এ তথ্য বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
ব্যাংকক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি সরবরাহ করেছে।
সেনাবাহিনীর একটি রাতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় নারাথিওয়াত প্রদেশে একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলাকারীরা গুলি চালায় এবং পাইপ বোমা নিক্ষেপ করে, যা পাঁচ সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটায়।
নারাথিওয়াত থাইল্যান্ডের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি প্রদেশের একটি। এখানে কয়েক দশকের ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুধবার ইতালির সিসিলি, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু ঘটেছে।
কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিসিলি দ্বীপে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যার ফলে গরম বাতাসের ঝাপটায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ধরেই সেখানে দাবানল চলে এসেছে। রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সিসিলি অঞ্চলের প্রধান রেনাতো স্কিফানি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬ হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও সিভিল প্রোটেকশনের সদস্য কাজ করে চলেছেন। আগুন আতঙ্কের মধ্যেই তাদের সহায়তার জন্য পানি নিক্ষেপকারী বিমানও ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখনও ৫০টি স্থানেই দাবানল প্রজ্জ্বলিত রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা একমত পোষণ করেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানল ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলি আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি জানান, আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে একজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
ইতালির সিভিল প্রোটেকশন সংস্থার একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, সিসিলির পরিস্থিতি ‘গুরুতর’। অত্যধিক তাপমাত্রা ও অত্যন্ত শুষ্ক মাটির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবেশী কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান বলেন, এসব আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। তার অভিযোগ, ‘দুর্বৃত্তরা’ আগুন ছড়িয়ে দিতে দাহ্য তরলে ভেজানো কাপড় ভবঘুরে বিড়ালের লেজে বেঁধে দিয়েছে।
ফ্রান্সে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজ করার সময় দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু ঘটে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার নিহত দমকলকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করে যে, দমকলকর্মীরা চরম ক্লান্তি ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় দাবানলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে বোর্দোর কাছে মনোরম আরকাশঁ বেসিন এলাকায় একটি দাবানলে এক হাজার ৪০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উইলফ্রিড স্নাইডার এএফপিকে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ঘনভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পাইনগাছে ভরা একটি বনের আগুনের সঙ্গে লড়ছি।’ তিনি আগুনের তীব্রতাকে ‘বিরল’ বলে মন্তব্য করেন।
ল্য পোর্জের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি বলেন, বনপথ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত কোনো যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসন জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ল্য পোর্জে প্রায় ৭০০ মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া তিন হাজারের বেশি ক্যাম্পারকেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ ফ্রান্সের আরেকটি এলাকায় বনাচ্ছাদিত পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল বুধবার সকালেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। আগুনটি কয়েক শত মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। এতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দ্বিগুণ আয়তনের এলাকা পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার ভার অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা অপ্রত্যাশিত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় ৪০০ জনকে সরিয়ে নিতে হয় এবং দুই হাজার ৫৫০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়।
মার্সেই ও নিস শহরের মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার দমকলকর্মী এবং বিশেষায়িত পানি নিক্ষেপকারী বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মোট ৪ হাজার ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরোন্দ অঞ্চলের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকা আরও কয়েক শ’ মানুষকে এলাকা ছাড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেনে, মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বুধবার বড় ধরণের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সিভিল গার্ড জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টলেডো রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নতুন এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময়, মাদ্রিদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে আরেকটি ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কয়েক শত দমকলকর্মী কাজ করছিলেন। সেখানে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি অঞ্চল পুড়ে গেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান হলো ‘চরমপন্থী আলেমদের দ্বারা পরিচালিত একটি দেশ।’
তিনি তাদের অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি ‘উদাসীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। রুবিও বলেন, ‘তারা তাদের দেশ ধ্বংস করছে। ইরান যদি চাইতো, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারতো।’
বুধবার (২২ জুলাই) ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন ‘আসিয়ান’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এসব কথা বলেন রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিন্তু তা করার বদলে তারা তাদের অর্থ তুলে নেয় এবং তা হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের দিয়ে দেয়।
তারা এই অর্থ শিয়া মিলিশিয়াদের দেয়। পুরো বিশ্বে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদে তারা এই অর্থ ব্যয় করে।’ রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘একটি পারমাণবিক অস্ত্রশূন্য ইরান। তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। মানে চিন্তা করে দেখুন, তারা বিশ্বের সাথে কী করতে পারে!’
ইরান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছেন মার্কো রুবিও। তবে তার অভিযোগ, সংকট অবসানে তেহরান মোটেও আন্তরিক নয়। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হুমকির মুখে এশিয়ামুখী সৌদি আরবের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকেই পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিধানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) এনএক্স ভবনটি নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আজও সেই পোড়াবাড়িটি নানা রূপে ধ্বংসস্তূপ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ সরকারি খাতাপত্রে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের এই ভবনটি 'সংস্কার' হয়ে গেছে এবং তার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকা! অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ও হিসাব শাখার মধ্যে চরম অসঙ্গতির চিত্র। নথিপত্র অনুযায়ী, বিসিসির সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওসারের মেয়াদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে এনএক্স ভবনের মেরামত ও সংস্কার বাবদ ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। যদিও নথিতে অর্থ খরচের চূড়ান্ত হিসাব দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে পুরো ভবনটি এখনও আগের মতোই পরিত্যক্ত ও পোড়াবাড়ি হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে সংস্কারের কোন চিহ্ন নেই। শুধু এনএক্স ভবনই নয়, একই বাজেটের অধীনে সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন, পানি শাখা, আমানতগঞ্জের যান্ত্রিক শাখা এবং উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ভবনের একটিতেও সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। নথিতে দেখানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় গেল—এ বিষয়টি জানার জন্য হিসাব শাখায় ব্যাপকভাবে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল বারী এক দায়িত্বহীন বক্তব্যে জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে মূলত রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। তার এই বক্তব্যে নতুন করে বহু গুরুতর প্রশ্নের জন্ম হয়েছে, যেমন: যদি রাস্তার কাজেই অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে, তবে বাজেটে নির্দিষ্ট ভবন সংস্কারের নামে খাত কেন দেখানো হলো? নিয়ম অনুযায়ী কোন কোন খাতে কত টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে, তার অনুমোদিত কার্যাদেশ, বিল ও ভাউচার কোথায়? পরবর্তী সময়ে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথ্যে নানা টালবাহানা করেন এবং তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। জনগণের রাজস্ব ও সরকারি অর্থের এমন অসচ্ছ ব্যবহার নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অনতিবিলম্বে প্রতিটি টাকার হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বেগতিক হওয়ার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল পারস্য উপসাগরীয় তেল পরিবহন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বড় একটি অংশ অন্য পথে তেল পাঠানো সম্ভব হতে পারে।
হরমুজ প্রণালীর উপরে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা তেল সরবরাহ লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল ও ওমান উপসাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরকারি কর্মকর্তা, তেল কোম্পানি এবং বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে অন্তত সাতটি বড় পাইপলাইন প্রকল্প নির্মাণাধীন, পরিকল্পনাধীন অথবা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তবে হরমুজে বিকল্প পথগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই সপ্তাহে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে лোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
এই সংঘাতটি উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসাবে কাজ করেছে এবং তারা এখন হরমুজ প্রণালীতে নির্ভরতা কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু বিকল্প পথে তেল পরিবাহনের ক্ষেত্রে বাজারে পৌঁছাতে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ পাড়ি দিতে হবে।
তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ভিক্টোরিয়া গ্রাবেনভোগার বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর এতটা বেশি নির্ভরতা ‘দীর্ঘমেয়াদে আর কোনো বিচক্ষণ কৌশল নয়’।
লোহিত সাগর এবং ওমান উপসাগর বিকল্প হিসেবে চলে এসেছে। ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কায় একটি পাইপলাইন নির্মাণ করেছিল। এই পাইপলাইনটি না হলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারতো।
সৌদি আরবের ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’ মরুভূমির মধ্য দিয়ে আবকাইক-এর প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহন করে। সেখানে পৌঁছানোর পর তেল ট্যাংকারে ভরা হয় এবং সেগুলো আরব সাগরের দিকে দক্ষিণে অথবা সুয়েজ খালের দিকে উত্তরে রওনা হতে থাকে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওমান উপসাগরের তীরবর্তী ফুজাইরাহ বন্দরে আরও বেশি তেল পাঠাচ্ছে, যেটি হরমুজ থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনার্জি ইনফরমেশন এজেন্সি’-র তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে এই দুটি পাইপলাইনের সম্মিলিত অতিরিক্ত সক্ষমতা ছিল দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেল। বর্তমানে পাইপলাইন দুটি তাদের পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি পর্যায়ে চলছে। আগামী বছরের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরের মাধ্যমে আরও বেশি তেল পরিবহন শুরু হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের মধ্যে আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ফুজাইরাহ পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ের একটি পাইপলাইন নির্মাণের কাজ দ্রুততর করছে। বিদ্যমান একটির সমান্তরালে নির্মিতব্য এই পাইপলাইনটির লক্ষ্য ফুজাইরাহে তেল সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি বৃদ্ধি করা।
‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর আগেই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ বর্তমানে প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে পাইপলাইনটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও, কেপলারের মতে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ ফুজাইরাহ বন্দরের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
কেপলারের গ্রাবেনভোগার বলেন, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সময়সীমাটি কেবল ‘হরমুজ প্রণালী অবরোধের প্রেক্ষাপটেই বাস্তবায়নযোগ্য’।
তুরস্ক ও সিরিয়ায় আরও বেশি তেল সরবরাহের পরিকল্পনাও চলছে। ইরাকের কর্মকর্তারা বসরা-সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা জোরদার করছেন, যেহেতু হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরাকের নির্ভরতা বেশি হওয়ায় তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে আনতে হয়েছে।
তেল বিক্রি থেকে আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্জনকারী ইরাকি সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় বসরার তেল টার্মিনালจาก যেখানে যুদ্ধের পূর্বে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি হতো, তা থেকে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের তুরস্কের জেইহান বন্দরে তেল পরিবহন করা হবে।
এই পাইপলাইনের একটি শাখা সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বানিয়াস বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পথটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পাশাপাশি বসরা থেকে আকাবা পর্যন্ত তেল পরিবহনের জন্য একটি দীর্ঘদিনের আলোচিত পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জর্ডানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইরাকি কর্মকর্তারা। আকাবা থেকে লোহিত সাগর বা সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সেই তেল রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
নতুন পাইপলাইনে সময় ও খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যাওয়ার জন্য গৃহীত নতুন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী বছরের শেষ নাগাদ দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেল এবং ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ দৈনিক ৭৩ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
তাদের ভাষ্যমতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধের আগে দৈনিক যে ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো, তার প্রায় ৬০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
পারস্য উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনগুলো তেলকে বিপরীত দিকে নিয়ে যায়, যা হরমুজ হয়ে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলোর জন্য খুব একটা সহায়ক নয়। তেলকে তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হবে; তবে তা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অতীতে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে (যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে) জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।
ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল বোঝাই করা জাহাজগুলো বিকল্প হিসেবে সুয়েজ খাল ব্যবহার করতে পারে; কিন্তু এই খালে শিল্পের বৃহত্তম ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলের ব্যবস্থা নেই। যেহেতু প্রতিটি ট্যাঙ্কারে ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল ধারণ করা যায় এবং দীর্ঘ দূরত্বে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে এরাই প্রায়শই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এমনকি ইরান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত পাইপলাইনগুলোও আধা-সামরিক বাহিনী ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’ কিংবা ওই অঞ্চলের তাদের মিত্র উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। ২০১৯ সালের মে মাসে হুথিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম (ইস্ট-ওয়েস্ট) পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যেতে হয়েছিল।
যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি শিল্প হরমুজ প্রণালী বাইরে দিয়ে তেল সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, তখন তাদের সামনে আরও একটি জটিল ও ব্যয়বহুল সমস্যা রয়ে গেছে যার সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ কাতার থেকে আসতো, যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ