প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বিধানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) এনএক্স ভবনটি নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আজও সেই পোড়াবাড়িটি নানা রূপে ধ্বংসস্তূপ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ সরকারি খাতাপত্রে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের এই ভবনটি 'সংস্কার' হয়ে গেছে এবং তার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকা! অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ও হিসাব শাখার মধ্যে চরম অসঙ্গতির চিত্র। নথিপত্র অনুযায়ী, বিসিসির সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওসারের মেয়াদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে এনএক্স ভবনের মেরামত ও সংস্কার বাবদ ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। যদিও নথিতে অর্থ খরচের চূড়ান্ত হিসাব দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে পুরো ভবনটি এখনও আগের মতোই পরিত্যক্ত ও পোড়াবাড়ি হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে সংস্কারের কোন চিহ্ন নেই। শুধু এনএক্স ভবনই নয়, একই বাজেটের অধীনে সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন, পানি শাখা, আমানতগঞ্জের যান্ত্রিক শাখা এবং উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ভবনের একটিতেও সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। নথিতে দেখানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় গেল—এ বিষয়টি জানার জন্য হিসাব শাখায় ব্যাপকভাবে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল বারী এক দায়িত্বহীন বক্তব্যে জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে মূলত রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। তার এই বক্তব্যে নতুন করে বহু গুরুতর প্রশ্নের জন্ম হয়েছে, যেমন: যদি রাস্তার কাজেই অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে, তবে বাজেটে নির্দিষ্ট ভবন সংস্কারের নামে খাত কেন দেখানো হলো? নিয়ম অনুযায়ী কোন কোন খাতে কত টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে, তার অনুমোদিত কার্যাদেশ, বিল ও ভাউচার কোথায়? পরবর্তী সময়ে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথ্যে নানা টালবাহানা করেন এবং তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। জনগণের রাজস্ব ও সরকারি অর্থের এমন অসচ্ছ ব্যবহার নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অনতিবিলম্বে প্রতিটি টাকার হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন