রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৬ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করা হলে ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রেজাই বলেছেন, কাতার ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। রেজাই এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও আলোচনার জন্য সাতটি শর্তের কথা জানান।
রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই এসব শর্ত মেনে নেওয়া উচিত। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও পাকিস্তান তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা করছে। এদিকে সংঘাত বন্ধে আঞ্চলিক দেশগুলোও উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত এবং আগের দুই দফা সংঘর্ষের পর তাদের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রেজাইয়ের দাবি, ইরানের বর্তমান সামরিক পরিকল্পনার লক্ষ্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরজুড়ে থাকা মার্কিন নৌসম্পদ। ভবিষ্যতে ইরানের জবাব আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থানীয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকেও লক্ষ্য করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান রেজাই। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড ইরানকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এ ছাড়া বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে রেজাই বলেন, এটি ইয়েমেনের বিষয় এবং হুথি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি জানান, ইরান ও ওমানের একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো এখনো প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।
ভর্তিতে লাগবে যেসব কাগজপত্র
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।
কোন কলেজে ভর্তি ফি কত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী
গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর সদর উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন লাগার ফলে প্রায় ৩৮টি ঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঘরগুলোর আসবাবপত্রসহ অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বানিয়াচালা মধ্যপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, কারখানার ছুটি শেষে ভাড়াটিয়ারা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় একটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন একটি ঘর থেকে আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় ৩৮টি ঘর পুড়ে যায়।
প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কারখানার ছুটি শেষে ভাড়াটিয়ারা রান্নাবান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভাড়াটিয়া স্বপ্না আক্তার বলেন, কারখানার ছুটি শেষে বাড়িতে আসার পর হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এর আগেই আমাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রাত ১১টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণের দামে। সবশেষ ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
বাজুস জানিয়েছে, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শনিবার রোমার মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে ড্র করে সিরি আ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। এই ম্যাচে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ।
মৌসুমের শুরুতে দুই দলেরই ছিল শতভাগ জয়ের রেকর্ড। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই একে অন্যের ওপর চাপটা ধরে রাখল।
জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির রোমা এই মৌসুমে ইতালির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দনিয়েল মালেনের গোল করার ক্ষমতা এবং শক্ত রক্ষণভাগের সুবাদে চার ম্যাচেই জিতেছে তারা।
প্রথমার্ধে মানু কোনের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রোমা। কিন্তু সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসে ক্রিস্তিয়ান কিভুর দল। মার্তিনেজের জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়ায় চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের দিন সকালে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন সান্দ্রো মাজ্জোলা। ইন্টার মিলান এবং ইতালির সাবেক এই তারকা প্লেমেকারকে শ্রদ্ধা জানায় দুই দলই। খেলা শুরুর আগে নীরবতা পালন করা হয়। কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামে ইন্টারের খেলোয়াড়েরা।
ম্যাচ শুরুর ছয় মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় রোমা। নাহুয়েল মলিনার নামানো বল দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়ান কোনে। এই মৌসুমে এটি ছিল তার প্রথম গোল। আবারও ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে ইন্টার। এই বিষয়টি কোচ ক্রিস্তিয়ান কিভুর জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
সোমবার উদিনেসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা শুরুর ১৬ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৫-৩ গোলে জিতেছিল ইন্টার। এবারও একইরকম পরিস্থিতির মুখে পড়ে তারা।
প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় স্তাদিও অলিম্পিকোতে খেই হারিয়ে ফেলে ইন্টার। পাওলো দিবালা দুইবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন। ২৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পান মার্কাস থুরাম। কিন্তু তার শট সরাসরি রোমার গোলরক্ষক মিলে স্ভিলারের হাতে চলে যায়।
সাত মিনিট পর কার্টিস জোন্সের চমৎকার পাস থেকে সুযোগ পান আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। কিন্তু কোনাকুনি জায়গা থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ইন্টার যখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল, ঠিক তখনই ৩৭ মিনিটে আবার গোল করেন কোনে। কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমে সহকারী রেফারির পতাকায় উদযাপন থেমে যায় তার। পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি দাভিদে মাসসা। এটি ছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সিরি আ গোল।
সাবেক ইন্টার ডিফেন্ডার কিভু বিরতিতে নিশ্চয়ই খেলোয়াড়দের কড়া কথা শুনিয়েছিলেন। কারণ দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই দাপট দেখায় তার দল। বিরতির পর এক মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান কমান অধিনায়ক মার্তিনেজ। থুরামের বাড়ানো বল থেকে তার নেওয়া শট গোলরক্ষক স্ভিলারের দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে জালে ঢুকে যায়।
৬৮ মিনিটে আরেকটি গোলের কাছাকাছি চলে যান মালেন। ভিড়ের মধ্যে দারুণ টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শট নেন তিনি। কিন্তু বল ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজের কপালে লেগে নিরাপদে চলে যায়। এই মৌসুমে এটি হতে পারতো তার ষষ্ঠ গোল।
ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে যখন মনে হচ্ছিল খেলা একইভাবে শেষ হবে, তখনই গোলমুখে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। প্রথমে দারুণ সেভ করেন স্ভিলার। এরপর চাপের মুখে হেড নিয়ে ক্রসবারে মারেন মার্তিনেজ। তবে বল ফিরে আসার পর আবার বক্সের মধ্যে সেটি পান আর্জেন্টাইন এই তারকা। এবার আর ভুল করেননি তিনি। উরু দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সার্বিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সমতা ফেরান তিনি। ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ