ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙামাটি ও বান্দরবান সফর বাতিল: রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম


রাঙামাটি ও বান্দরবান সফর বাতিল: রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার পূর্বনির্ধারিত তিন দিনের সফর বাতিল করা হয়েছে। সফরের সূচি অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর (বুধবার) চট্টগ্রাম, ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাঙামাটি এবং ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) বান্দরবান সফরের কথা ছিল রাষ্ট্রপতির।

পাহাড়ের চলমান অস্থিরতা এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে এই তিন জেলার সফর বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান সফরে যাচ্ছেন না।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার চট্টগ্রামে পুরাতন হাউজ পরিদর্শন এবং একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতযাপন শেষে ২৯ অক্টোবর রাঙামাটিতে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। ওই দিন বিকেলে বান্দরবানের নীলগিরিতে পৌঁছে সেখানে রাতযাপনের পর ৩০ অক্টোবর কেওক্রাডং পরিদর্শনের কথা ছিল রাষ্ট্রপতির।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


ধামরাইয়ে দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ঢাকার ধামরাইয়ে দুটি ইটভাটার একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে, কারণ সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে, ভাটা দুটির মালিককে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ভাটা দুটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুশুড়া ইউনিয়নের মধুডাঙ্গা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফাহিম শাহরিয়ার। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মদিনা ব্রিকস ও সাজেদা ব্রিকসের মালিককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সূত্র জানায়, মধুডাঙ্গা এলাকায় সাজেদা ব্রিকস ও মদিনা ব্রিকস প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভাটা দুটিকে জরিমানা করা হয় এবং ভাটার একাংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মালিকদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, "মঙ্গলবার উপজেলার দুটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

এদিকে, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটার কারণে এলাকার ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ট্রাক্টরে মাটি পরিবহণের ফলে সৃষ্ট ধুলোবালিতে আশপাশের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, শুধু এই দুটি ইটভাটাই নয়, ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, পরিবেশবিদরা মনে করেন, ইটভাটার মালিকদের মধ্যে আইনগত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারিও জোরদার করতে হবে। অনুমোদনহীন এসব ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সবুজ বেষ্টনীও ধ্বংস হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্বজুড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্বজুড়ে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি খরা, অতিবৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি ল্যানসেট কাউন্টডাউন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৩০টির বেশি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ১৪৬ জন গবেষক এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তীব্র গরমের সঙ্গে বছরে গড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। ২০২৩ সালে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাদের মতে, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার গতি মোকাবিলার উদ্যোগের চেয়ে দ্রুততর হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তীব্র গরমের কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য আয়হানি ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। টানা তৃতীয় বছরের মতো এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

এছাড়া, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আগের দশকের তুলনায় চরম খরার কবলে পড়া স্থলভাগের বিস্তারের গতি প্রায় ৭০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি স্থলভাগ অন্তত এক মাস চরম খরার শিকার হবে। অন্যদিকে, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে পড়া স্থলভাগের হার ২০০৬–২০১৫ সালের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬–২০২৫ সালে ১৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে রেকর্ড ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই বিনিয়োগ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেশি।

২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হওয়ার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, "আমাদের এই একমাত্র গ্রহটিকে রক্ষার জন্য এ চুক্তিই এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় সুযোগ।"

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ২০১৬ সালের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পরিচ্ছন্ন বায়ুর কারণে বিভিন্ন দেশে বছরে আনুমানিক ৩ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে অন্য অঞ্চলে বায়ুদূষণ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে এই সুফলের পুরোটা পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

গবেষকেরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও ন্যায্যভাবে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর, স্বাস্থ্যকে জলবায়ু নীতির মূল লক্ষ্য করার, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি এবং উন্নত দেশগুলোর অনুদান ও স্বল্প সুদের ঋণ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া

ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা, মরিয়ম বেগম, মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ খুলনায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক হলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একসময় ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মায়ের মৃত্যুর খবরটি চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার ১২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২৭ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছর সরকার বাজেট ঘোষণা করে, যেখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতি মেটাতে মূলত দুটি উৎস—অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাতের ওপর নির্ভর করা হয়। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পাওয়া গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সঞ্চয়পত্র খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংক খাত সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে নিট ২৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের স্থিতি ৭ লাখ ১৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ৯৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যে বাজেট ঘোষণা করছে, তাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই ঘাটতি বাজেট দিতে হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এর ফলে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুদের বোঝাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বড় ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। এমনকি পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য চলতি অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৬৮.৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে সরকারের ঋণের স্থিতি ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাতে ঋণের স্থিতি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, সরকারের ব্যয়ের বোঝা বিভিন্ন কারণে ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে, অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%