ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পোশাক রপ্তানিতে ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উৎস তিন প্রধান পণ্য


পোশাক রপ্তানিতে ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উৎস তিন প্রধান পণ্য

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৬.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে ১০ হাজার ৫৭৮.৫৬ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৯৭০.৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৬০৮.১৪ মিলিয়ন ডলার। তবে, এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে তিনটি প্রচলিত পণ্য—ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট, সোয়েটার এবং টি-শার্ট থেকে। অন্যদিকে, উচ্চমূল্যের পোশাকের কয়েকটি শ্রেণিতে রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে মোট আয়ে এসব পণ্যের অংশও সংকুচিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে বেসিক বা মৌলিক পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ হাজার ২৫৭.৪২ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৮৪.৭৩ মিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি ৭.৪৫ শতাংশ হয়েছে, আর আয় বেড়েছে ৫৭২.৬৯ মিলিয়ন ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে এই শ্রেণির অবদান ৭৭.০৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮.০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মৌলিক পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট থেকে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫.৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৮৪.৪৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৬.৫২ শতাংশ বেশি। এ খাতে আয় বেড়েছে ২০১.১১ মিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: চীন স্মার্ট মিটার-জ্বালানি খাতে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোয়েটার ও কার্ডিগান। এ শ্রেণিতে রপ্তানি আয় ১ হাজার ৮৭০.১৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৮.২৯ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৯.৫২ শতাংশ, আর অতিরিক্ত আয় ১৭৮.১১ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে টি-শার্ট ও ভেস্ট রপ্তানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৫৮১.৮০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৭৭.৫৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.০৫ শতাংশ বেশি। এই তিন শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪৮৩.৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক আয় বৃদ্ধিতে প্রচলিত পণ্যগুলোর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া, আন্ডারওয়্যার, স্লিপওয়্যার ও অন্যান্য অন্তর্বাসজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৭২.১৬ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৯১৪.৭৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৬.২৮ শতাংশ হয়েছে। শিশুদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০.১৯ শতাংশ, যা মৌলিক শ্রেণির মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এ খাতে আয় ৩০০.৩৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে, ছোটখাটো আনুষঙ্গিক পণ্য, গ্লাভস ও হোসিয়ারি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৩৮.৬৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৩.২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, সেমি-বেসিক বা আধা-মৌলিক পোশাকের মধ্যে শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪১.৭৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৮২৭.০৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৭৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে এ শ্রেণির অংশ ৮.৩০ শতাংশ থেকে কমে ৭.৯৬ শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল আমার দেশকে বলেন, "বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে রয়েছে প্রচলিত পণ্য। মৌলিক পোশাকের হিস্যা বাড়ার বিপরীতে উন্নত শ্রেণির অংশ কমে যাওয়ায় পণ্য বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্যের বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জটি আরো স্পষ্ট হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বাড়াতে প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পোশাকের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"

আরও পড়ুন: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার: ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে, টাকার মান কমছে

উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনাময় অ্যাডভান্সড বা উন্নত শ্রেণির পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আরো ধীর। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৯.৪১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৫৮.৬৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ১.৪২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, অতিরিক্ত আয় এসেছে ২০.৭৭ মিলিয়ন ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে এ শ্রেণির হিস্যা ১৪.৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৩.৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চমূল্যের পণ্যের মধ্যে জ্যাকেট ও কোটসহ আউটারওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৯১.৬৯ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ। টেকনিক্যাল ওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৮.০৭ শতাংশ, আয় দাঁড়িয়েছে ২৪৬.৮৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে, পোশাকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ড্রেস রপ্তানি আয় ১০.৬৬ শতাংশ কমে ১২৪.৬৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যার থেকে আয় কমেছে ১১.২৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৮০.৪৪ মিলিয়ন ডলারে। স্যুট ও এনসেম্বল রপ্তানি কমেছে ১৪.৪৮ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩৫.৭৮ মিলিয়ন ডলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তন আনছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তন আনছে

ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন প্রজন্মের নেতাদের ইসরাইল সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনায় উৎসাহিত করার কাজও করেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে নিজের স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল।

৩১ বছর বয়সী খলিল মঙ্গলবার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা খলিলের এটি ছিল ২০২৫ সালের ৮ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফর। এ উপলক্ষে তার নতুন বই "নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন: নোটস ফ্রম ডিটেনশন" নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিল উল্লেখ করেন, "যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ অবশেষে পরিবর্তিত হচ্ছে। তারা ফিলিস্তিনিদেরও সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।"

শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিকে খলিল ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে এবং ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর মুছে ফেলতে চায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ইহুদি সংগঠন তার ক্যাম্পাসে ফেরার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, "ভিন্নমতের মধ্যে কঠোর বিতর্ক, অনুসন্ধান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ সংলাপের পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, শিক্ষকদের একাডেমিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের অধিকারকে তারা সমর্থন করে। তবে কাউকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর অর্থ এই নয় যে, তার মতামতকে বিশ্ববিদ্যালয় সমর্থন করছে।

২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে খলিল ছিলেন। ওই আন্দোলন পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

এরপর বিদেশি শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অভিযানের সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ খলিলকে গ্রেপ্তার করে। স্থায়ী মার্কিন বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াই তাকে তিন মাস আটক রাখা হয়।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে খলিল জানান, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এএফপিকে খলিল বলেন, "তারা দমন-পীড়ন বেছে নিয়েছে। তারা নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিয়েছে।"

তবে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল, বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। আটকের আগে ক্যাম্পাসে হয়রানির শিকার হওয়া থেকে তাঁকে সুরক্ষা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন খলিল।

ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক চাপের মুখে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। প্রগতিশীল প্রার্থীদের নির্বাচনি সাফল্যকে এ পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন খলিল।

তিনি বলেন, "মাঠপর্যায়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আরও বেশি প্রগতিশীল প্রার্থী মার্কিন কংগ্রেস ও ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নির্বাচিত হচ্ছেন।"

এ প্রসঙ্গে মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. আবদুল আল-সায়েদ এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৫ সালের ২০ জুন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে মুক্তি পান খলিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলমান আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

খলিল বলেন, "আমার লড়াইয়ের বড় একটি অংশ হলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করা। আবার সেই তরুণ বাবা হতে চাই, যিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে পার্কে যাবেন, আর কেউ তাদের বিরক্ত করবে না।"

তবে চলমান আইনি লড়াই তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেনি বলে জানান খলিল। তার মতে, এই সংগ্রাম কেবল যুক্তরাষ্ট্রে তার বসবাসের অধিকার নিয়ে নয়; বরং দেশটির মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও।

তিনি বলেন, "আমার লড়াই শুধু আমি এই দেশে থাকতে পারব কি না, তা নিয়ে নয়। বরং এই দেশের মানুষ নিজেদের মনের কথা বলতে পারবে কি না, সেটিও এই লড়াইয়ের অংশ।"

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের ১৫ বছর পর সাবেক বাগদত্তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


নিখোঁজের ১৫ বছর পর সাবেক বাগদত্তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক বাগদত্তা মিশেল পার্কারকে হত্যার অভিযোগে ডেল স্মিথ জুনিয়রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে। ২০১১ সালে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিখোঁজ হন ৩৩ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা মিশেল। প্রায় ১৫ বছর পর গত ১৪ অক্টোবর ৫৫ বছর বয়সী স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ এবং নতুন প্রকাশিত আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের তিন বছর বয়সী যমজ সন্তানকে বাবার কাছে পৌঁছে দিতে স্মিথের বাড়িতে গিয়েছিলেন মিশেল। সেখানে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তবে মিশেলের মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। স্মিথের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, মিশেল নিখোঁজ হওয়ার পরদিন স্মিথের মুখ, ঠোঁট, কবজি ও কনুইয়ে আঁচড় এবং আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নতুন করে মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, মিশেল স্মিথের বাড়িতে এক ঘণ্টার বেশি সময় ছিলেন। অথচ স্মিথ দাবি করেছিলেন, মিশেল সেখানে মাত্র ১০ মিনিট ছিলেন। তার ফোন থেকে বার্তা মুছে ফেলা এবং ফোনটি একটি হ্রদে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

মিশেল নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের মধ্যে সন্তানদের দেখাশোনা, সম্পর্ক ও অর্থ নিয়ে একাধিকবার বিরোধ হয়েছিল। এর কয়েক দিন আগে দুজন একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে বাগদানের আংটি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বিচারক দুজনকেই দায়ী করেন এবং মিশেলকে স্মিথকে আড়াই হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশের নথিতে আরও বলা হয়েছে, স্মিথের বিরুদ্ধে অতীতে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল এবং ২০০১ সালে তৎকালীন স্ত্রীর ওপর সহিংসতার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

বর্তমানে স্মিথ জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী বলা যাবে না।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ মাসে বিএসইসি অনুমোদন করল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


পাঁচ মাসে বিএসইসি অনুমোদন করল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাঁচ মাসের মধ্যে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করেছে, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি করপোরেট বন্ডের লেনদেন বৃদ্ধি করতে তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বিধিমালা সংস্কারের জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুমোদিত বন্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার কোটি টাকার তিন বছরমেয়াদি জিরো-কুপন গ্রিন বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার সাসটেইনেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এবং ওয়ান ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড।

বন্ডবাজারকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে বিএসইসি অনুমোদিত বন্ডগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত আরোপ করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ড বিক্রি করে বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, "বন্ডবাজার গতিশীল করতে এবারই প্রথম মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে দ্বিতীয় বাজারে বন্ড লেনদেনের সুযোগ বাড়বে।"

কমিশন বন্ডের ধরন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে। নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়নের লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি টাকার ‘অরেঞ্জ বন্ড’ অনুমোদন করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অর্থায়নের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ডও অনুমোদিত বন্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বন্ডবাজারে বীমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি পৃথক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ ও সময়োপযোগী করতে ডেট ইস্যু রুলস সংশোধন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে করপোরেট বন্ডের চাহিদা ও লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং শেয়ারনির্ভর পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগ পণ্যের পরিধি বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


স্থানীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: শাহে আলম

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন যে, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন যেভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তেমনই জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনও হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।

তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করবে সরকার। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%