সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০০ পি.এম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মদনের ঘাট নামক স্থানে একটি চৌকস বিজিবি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ০১টি এক নলা দেশীয় পিস্তল এবং ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক সিজার মূল্য (দশ হাজার চারশত) টাকা।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাত্রীরা নতুন টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত রুটে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বহির্গমনের জন্য চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রয়েছে দুটি লাগেজ বেল্ট, সিসিটিভি, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে ও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা। এছাড়া ডিউটি-ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট এবং একাধিক চেক-ইন কাউন্টারও সেখানে রয়েছে।
নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রথম দিনেই যাত্রীরা এর সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের জন্য আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে বিদেশি পর্যটক আগমনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একজন যাত্রী মন্তব্য করেছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের জন্য এ ধরনের আধুনিক বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়লে পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম দিনের যাত্রীদের একজন বলেছেন, নতুন টার্মিনাল দিয়ে প্রথম যাত্রী হিসেবে সেবা নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এটি কক্সবাজারবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আগে যেখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছিল, নতুন টার্মিনাল চালুর পর তা প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে পর্যটকদের কক্সবাজারে আসা আরও সহজ হতে পারে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, হোটেল-মোটেল ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল কক্সবাজারের পর্যটন, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে এবং দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, সরকারের সাত মাসের শাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, এমপি ও সংরক্ষিত নারী এমপিরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাক রয়েছেন। জনগণ ধীরে ধীরে সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল জনগণের। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্লজ্জভাবে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সিন্ডিকেট করে গোটা দেশকে ফ্যাসিবাদী পন্থায় একটি দলের নিয়ন্ত্রণে আনার চক্রান্ত করছে। এর ফলে দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে সার ডিলার, ইমাম-খতিবের ভাতা, কৃষক-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তালিকা ও সুপারভাইজারি করাসহ প্রত্যেকটি ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে মারামারি ও গন্ডগোল হচ্ছে। সার বিতরণ নিয়ে ইউএনও অফিসে হামলা হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের ইতিহাস, অনুশীলন ও নজিরকে উপেক্ষা করে ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। বেছে বেছে যুবদল, ছাত্রদল যারা করেছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শাহবাগে নিয়োগবঞ্চিত সমস্ত শিক্ষিত নারী-পুরুষ তাদের অধিকার আদায়ে আহাজারি করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে— আগামী নির্বাচনে পোলিং ও প্রিসাইডিং হিসেবে বেছে বেছে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই খারাপ মনোভাব থেকেই এসব করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মহিলা এমপিদেরও এই দলীয়করণে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচিত এমপিদের উপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের খবরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত এমপিদের ডিও লেটার খারিজ করে সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের ডিও লেটার দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা অতীতে ছিল না। মহিলা এমপির ইন্ধনে, মদদে দেশজুড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর ঘটছে। এ সময় মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সব অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা। সরকারের উপর লেভেল থেকে সিগন্যাল পাওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা সুযোগ পাচ্ছে। সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নিজের দলের লোকদের কথা বলে না, বিরোধীদলের উপর চাপাতে চায়। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীতে মানুষের জীবন ও মাল নিরাপদ নয়। একইভাবে সারা দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করতে পারেনি। তারা গণভোটের গণরায়ও বাস্তবায়ন করেনি। তাই তাদের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে— সেটি ঢাকতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা এসব করছে যাতে বিরোধীদল আসল অ্যাজেন্ডা নিয়ে কথা বলতে না পারে।
তিনি বলেন, সরকার গণভোটকে সরাসরি অস্বীকার করে, গণরায়কে কার্যকর না করে আরও ভয়ংকর পথে হেঁটেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ফরম্যাট তৈরি করে দিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। সেটি বাদ দিয়ে এবং সংস্কার না করে জাতিকে আরেকটি চ্যালেঞ্জ ও সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ধৃষ্টতা দেখিয়ে এবং অপরিণামদর্শী হয়ে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করেছে। তারা গণভোট বাতিল করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলে নিজেদের দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পথ ধরেছে। এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে সংসদের ভিতরে ও বাইরে। দাবি আদায়ে আমরা সোচ্চার আছি, থাকবো। অতীতে যারা (সংসদে) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায়কে উপেক্ষা করে জনগণের উপর ছড়ি ঘোরাতে চেয়েছেন, তারা কেউ টিকতে পারেনি। ইতিহাসের করুণ পরিণতির দায় নিয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। সরকার গণবিরোধী কাজে গেলে তীব্র প্রতিবাদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সেক্রেটারি জেনারেল এ সময় সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হামলায় জড়িত সব দুর্বৃত্ত ও তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার; লুট হওয়া টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি উদ্ধার, যাতে কোনো শিশুর টিকার ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু; স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ, এবং জমি দখলের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা; ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত ও আতাউর রহমান সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেবহাটা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহমেদ অপু, দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিন, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কামান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল বারী মোল্ল্যা, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি চন্দ্র কান্ত মল্লিক, দেবহাটা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নুরুল ইসলাম, দেবহাটা বিবিএমপি ইন্সটিটিউটের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মাছুম বিল্লাহ, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ।
সভায় মাদক, ইভটিজিং, শারদীয় দুর্গোৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের বাগমারা-সৈয়দপুর-মেহেরকুল দৌলতপুর নূরানী মাদ্রাসা ভায়া হাজী বাড়ি-বিসি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষকসহ হাজারো সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে থাকলেও, সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পুরো এলাকা যেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এম্বুল্যান্স রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কটি ভেঙ্গে পড়ে। বর্ষাকালে সড়কটি চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটির দ্রুত সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এই একটিমাত্র সড়কটির ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে মেহেরকুল দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরকুল দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডারগার্টেন এবং ৩টি মাদ্রাসাসহ মোট ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া, সড়কটির পাশে দুটি মসজিদ এবং চারটি গণকবরও রয়েছে। দৈনিক প্রায় ৮ শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। স্থানীয় কৃষকদেরও এই পথ দিয়েই ফসল ঘরে তুলতে হয়।
সড়কটি সংস্কার হলে পূর্ব নয়াগাঁও, পশ্চিম নয়াগাঁও, বিজয়পুর, দিঘলঘাঁও, পিপুলিয়া, জয়কামতা, ধনপুর, উত্তর ধনপুর ও পরানপুর গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। এলাকার বাসিন্দারা এই রাস্তা ব্যবহার করে সরাসরি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে সহজে উঠতে পারবেন।
ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সড়কটি পরিদর্শনের সময় বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির করুণ দশা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এলাকার অবহেলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সড়কটি দ্রুত মেরামত করা জরুরি।"
সামাজিক ব্যক্তিত্ব কামাল হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহাজাহান আক্ষেপ করে বলেন, "রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে বর্ষাকালে যেমন কাদাপানি মাড়াতে হয়, তেমনি শুকনা মৌসুমে ধুলাবালিতে চলাচল করতেই হয়। পুরো এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদ সহকারী অধ্যাপক তারেক উল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা এলাকাবাসী বঞ্চিত, সড়কটির কাজ হলে প্রতিটা মানুষ শান্তি পাবে।"
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল ওহাব, আব্দুল কুদ্দুস, যুবদল নেতা সোহেল, রুবেল, শাহ আলম, খোরশেদ মজুমদার সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকিব।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের নিকট এলাকাবাসীর লিখিত আবেদন বা দরখাস্তের ভিত্তিতে সম্প্রতি স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কার্য সহকারী মানসুর হাল্লাজ সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, "সড়কটির গুরুত্ব ও বর্তমান নাজুক অবস্থার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে, যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়।"
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, "সড়কের বেহাল দশার কথাটি শুনেছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—কাগজে-কলমে নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটে যেন সড়কটি সচল হয় এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলে হাজারো মানুষের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ