প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাত্রীরা নতুন টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত রুটে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বহির্গমনের জন্য চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রয়েছে দুটি লাগেজ বেল্ট, সিসিটিভি, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে ও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা। এছাড়া ডিউটি-ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট এবং একাধিক চেক-ইন কাউন্টারও সেখানে রয়েছে।
নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রথম দিনেই যাত্রীরা এর সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের জন্য আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে বিদেশি পর্যটক আগমনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একজন যাত্রী মন্তব্য করেছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের জন্য এ ধরনের আধুনিক বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়লে পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম দিনের যাত্রীদের একজন বলেছেন, নতুন টার্মিনাল দিয়ে প্রথম যাত্রী হিসেবে সেবা নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এটি কক্সবাজারবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আগে যেখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছিল, নতুন টার্মিনাল চালুর পর তা প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে পর্যটকদের কক্সবাজারে আসা আরও সহজ হতে পারে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, হোটেল-মোটেল ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল কক্সবাজারের পর্যটন, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন