প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে এবং দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, সরকারের সাত মাসের শাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, এমপি ও সংরক্ষিত নারী এমপিরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাক রয়েছেন। জনগণ ধীরে ধীরে সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল জনগণের। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্লজ্জভাবে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সিন্ডিকেট করে গোটা দেশকে ফ্যাসিবাদী পন্থায় একটি দলের নিয়ন্ত্রণে আনার চক্রান্ত করছে। এর ফলে দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে সার ডিলার, ইমাম-খতিবের ভাতা, কৃষক-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তালিকা ও সুপারভাইজারি করাসহ প্রত্যেকটি ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে মারামারি ও গন্ডগোল হচ্ছে। সার বিতরণ নিয়ে ইউএনও অফিসে হামলা হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের ইতিহাস, অনুশীলন ও নজিরকে উপেক্ষা করে ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। বেছে বেছে যুবদল, ছাত্রদল যারা করেছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শাহবাগে নিয়োগবঞ্চিত সমস্ত শিক্ষিত নারী-পুরুষ তাদের অধিকার আদায়ে আহাজারি করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে— আগামী নির্বাচনে পোলিং ও প্রিসাইডিং হিসেবে বেছে বেছে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই খারাপ মনোভাব থেকেই এসব করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মহিলা এমপিদেরও এই দলীয়করণে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচিত এমপিদের উপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের খবরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত এমপিদের ডিও লেটার খারিজ করে সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের ডিও লেটার দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা অতীতে ছিল না। মহিলা এমপির ইন্ধনে, মদদে দেশজুড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর ঘটছে। এ সময় মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সব অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা। সরকারের উপর লেভেল থেকে সিগন্যাল পাওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা সুযোগ পাচ্ছে। সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নিজের দলের লোকদের কথা বলে না, বিরোধীদলের উপর চাপাতে চায়। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীতে মানুষের জীবন ও মাল নিরাপদ নয়। একইভাবে সারা দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করতে পারেনি। তারা গণভোটের গণরায়ও বাস্তবায়ন করেনি। তাই তাদের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে— সেটি ঢাকতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা এসব করছে যাতে বিরোধীদল আসল অ্যাজেন্ডা নিয়ে কথা বলতে না পারে।
তিনি বলেন, সরকার গণভোটকে সরাসরি অস্বীকার করে, গণরায়কে কার্যকর না করে আরও ভয়ংকর পথে হেঁটেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ফরম্যাট তৈরি করে দিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। সেটি বাদ দিয়ে এবং সংস্কার না করে জাতিকে আরেকটি চ্যালেঞ্জ ও সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ধৃষ্টতা দেখিয়ে এবং অপরিণামদর্শী হয়ে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করেছে। তারা গণভোট বাতিল করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলে নিজেদের দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পথ ধরেছে। এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে সংসদের ভিতরে ও বাইরে। দাবি আদায়ে আমরা সোচ্চার আছি, থাকবো। অতীতে যারা (সংসদে) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায়কে উপেক্ষা করে জনগণের উপর ছড়ি ঘোরাতে চেয়েছেন, তারা কেউ টিকতে পারেনি। ইতিহাসের করুণ পরিণতির দায় নিয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। সরকার গণবিরোধী কাজে গেলে তীব্র প্রতিবাদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সেক্রেটারি জেনারেল এ সময় সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হামলায় জড়িত সব দুর্বৃত্ত ও তাদের নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার; লুট হওয়া টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি উদ্ধার, যাতে কোনো শিশুর টিকার ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু; স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ, এবং জমি দখলের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা; ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত ও আতাউর রহমান সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন