০৬:০৫ পি.এম
চীনের এক ব্যবসায়ী প্রমাণ করেছেন, প্রতারিত মানুষ কতটা বেপরোয়া হতে পারেন। ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী তার নগদ টাকা, সম্পত্তির দলিল এবং মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
তার আগে বিয়ের পরপরই গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যারও চেষ্টা চালায় সেই নারী।
বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি লি পিং নামের ওই বিনিয়োগ ব্যবসায়ী। তিনি পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজে পেতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল এক অভিযান শুরু করেন।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
৯ বছর ধরে অভিযান চালিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত বের করেন সেই প্রতারককে। এতে তার ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি রুপি।
৫২ বছর বয়সী লি পিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বিষয়টি চীনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চীনা একটি নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, ১৫ মিনিটের ভিডিওতে ৬৯ হাজারেরও বেশি লাইক পড়েছে এবং মন্তব্য করেছেন ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লি জানিয়েছেন যে, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ৭০ মিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি আয় উপার্জন করেছিলেন।
২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেওয়ার সময় তার সঙ্গে ঝাং শুদান নামের এক নারীর পরিচয় ঘটে। তিনি একজন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ছিলেন।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
আলাপে জানতে পারেন, তারা দুজনেই চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের হানঝং-এর বাসিন্দা। পরিচয়ের এক পযায়ে ঝাং লির কাছে তার জীবনের বেদনাদায়ক কাহিনী তুলে ধরেন। ঝাং দাবি করেন, তার বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।
এক দরিদ্র দম্পতির কাছে তিনি বেড়ে উঠেছেন। ঝাং আরো দাবি করেন, নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে তিনি ব্যাংকার হতে পেরেছেন।
পরে লি বুঝতে পারেন, পরিচয়ের আগেই ঝাং তার আর্থিক সামর্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হলে লি ঝাং যে ব্যাংকে কাজ করতেন সেখানে ২০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা রাখেন।
যে বৃদ্ধ দম্পতি ঝাংকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিকিৎসার কথা বলে ঝাং প্রায়ই লির কাছ থেকে অর্থ ধার নিতেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং জানায়, তিনি লি’কে ভালোবাসেন।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
তিনি লির সন্তানের মা হওয়া এবং একসঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখান। ঝাং লির আট বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ারও অঙ্গীকার করে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ঝাং দাবি করেন যে, তিনি গর্ভবতী।
পরের মাসে লি শেনঝেনে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেটি ঝাং-এর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এর কিছুদিন পরই তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর দিন লি তার একটি বন্ধুর সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে শেনঝেনে ফিরছিলেন। আর ঝাং ফিরছিলেন বিমানে। পথে গাড়ির ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তখনও লি কোনো সন্দেহ করেছিলেন না।
স্ত্রী, সংসার আর অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর, ঝাং লির কাছে অনুরোধ জানান তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেন ১০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা দেওয়া হয়। ঝাং দাবি করে এতে তার পেশাগত উন্নতির পথ সহজ হবে।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
সম্পূর্ণ অর্থ না পারলেও লি ২ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ইউয়ান জমা করেন ঝাং-এর একাউন্টে। তারপরেই হাওয়া হয়ে যান ঝাং।
পরে পুলিশ জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে গেছেন। লি দাবি করেন, যাওয়ার সময় ঝাং তার অর্থ, চারটি সম্পত্তির মালিকানার দলিল এবং মূলবান সব কাগজপত্র নিয়ে গেছে।
ভালোবাসার স্ত্রী এভাবে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া লি খুব কষ্ট পেয়েছেন। পরে যখন জানতে পারেন, সমস্ত সম্পত্তি দখল করতে ঝাং এবং তার এক সহযোগী মিলে গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তখন সেই কষ্ট আরো বাড়ে।
লি তার ভিডিওতে বলেছেন, 'তিনি যদি কেবল আমার টাকা আত্মসাৎ করতে চাইতেন, তবে আমি হয়তো এই বিষয়ে আর এগোতাম না। কিন্তু আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার আমার গাড়িটি নষ্ট করা উচিত হয়নি। তার পরিকল্পনা স্পষ্টতই ছিল আমার স্ত্রী হিসেবে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া।'
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
ঝাংকে খুঁজে বের করতে মরিয়া লি তার হদিস পেতে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা সামাজিক সংস্থা, গির্জা এবং মাতৃত্বকালীন ক্লিনিকে যোগাযোগ করেন।
লি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী ও ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ অবশেষে ঝাং এবং তার সন্তানকে খুঁজে পায়। পরে একটি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, সন্তানটি লির নয়।
লি জানান, ঝাং আইনগতভাবে তখনও তার স্ত্রী থাকায় প্রাথমিকভাবে তার প্রতারণার মামলাটি থমকে গিয়েছিল। তবে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল করে এবং ঝাং-এর নামে নিবন্ধিত চারটি সম্পত্তি লির কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
লি আরো দাবি করেন, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং-কে প্রতারণা, অবৈধ অভিবাসন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এসব অপরাধে ঝাং-এর বেশ কয়েকজন সহযোগীও ছিল বলে দাবি করেন লি।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন