বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২১ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নতুন ছবি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মরত কিছু সদস্য গোপন পরিচয়ে এসব ছবি সরবরাহ করেছেন। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সেই তথ্য পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
ছবি প্রকাশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যরা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকার কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছবিগুলো দিয়েছেন।
একজন মার্কিন সেনাসদস্য বলেন, "ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো মার্কিন জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।"
সিবিএস নিউজের প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে একটি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে তোলা বলে দাবি করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায় একটি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট সামরিক বিমানে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার ফলে বিমানটির পেছনের অংশ মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তবে প্রকাশিত ছবিগুলোর সত্যতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন প্রকাশিত এসব ছবি সেই হামলাগুলোর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় প্রকাশিত হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একই সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, তাদের নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
বোর্ডের সূত্র মতে, গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা। ভর্তি নীতিমালার আওতায়, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পেরেছেন। এবারের ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এর আগে, ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নীতিমালার অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে পরে সময় বাড়ানো হয়। ফলে ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে ফল পরিবর্তিত হওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন।
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি করা হবে।
ভর্তি নীতিমালার অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসনের ৭ শতাংশ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার পর, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
যেভাবে ফল দেখবেন
একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল দেখতে শিক্ষার্থীদের প্রথমে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ওয়েবসাইটে xiclassadmission.gov.bd প্রবেশ করতে হবে।
এরপর হোমপেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।
এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করলে ফল দেখা যাবে। ফলাফলে শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রণোদনাটি প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হবে। বর্তমানে সব গ্রেডের চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন, কিন্তু নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে এই হার নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কাঠামোর অধীনে, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৫ শতাংশ থাকবে। গ্রেড-৫-এ এই হার ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন বৃদ্ধি পেলেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম হবে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এদিকে, নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কারণে ভাতার টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি পাবে।
চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়।
সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারিনা কাপুর খানের দুই ছেলে তৈমুর ও জেহের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের ব্যবহার নিয়ে তিনি সন্তানের ওপর নজর রাখেন। ছেলেদের হাতে যদি দীর্ঘ সময় ফোন থাকে, তাহলে সেটি কেড়ে নিতেও তিনি দ্বিধা করেন না।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কারিনা সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও শঙ্কা জানিয়েছেন।
তৈমুর ও জেহের হাতে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ দেখা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কারিনা জানিয়েছেন, ছেলেদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। তৈমুর অবশ্য তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ফোনকে নিজের ফোন হিসেবে দাবি করে।
এ প্রসঙ্গে কারিনা বলেন, তিনি তৈমুরকে বুঝিয়েছেন, সেটি তার ফোন নয়। এমনকি, বন্ধুদের কাছে ওই ফোনটিকে নিজের বলে পরিচয় দিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে তৈমুর মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল। কারিনা তখন সরাসরি না করে দেন।
সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তাকে বেশ চিন্তায় রাখে বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছুটা বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে তৈমুর তাকে পাল্টা মনে করিয়ে দেয়, বাবা-মাও তো ফোনে কথা বলেন। কিন্তু ছেলেরা যখন দীর্ঘ সময় গেম খেলতে থাকে, তখন তাদের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিতে হয় বলে জানান কারিনা।
সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে কারিনার এই কড়াকড়ি নিয়ে স্বামী সাইফ আলি খানের সঙ্গে মাঝে মাঝে মতের অমিলও হয়। কারিনা জানান, সাইফ মনে করেন তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করেন এবং তার কিছুটা শান্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে কারিনার মতে, সন্তানদের ক্ষেত্রে তাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। এই বিষয়টিই সম্ভবত তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মতবিরোধের কারণ বলেও জানান তিনি।
ছেলেদের শৈশব যতটা সম্ভব দীর্ঘ হোক—এমনটাই চান কারিনা। তার ভাষায়, তিনি চান তৈমুর ও জেহ যতদিন সম্ভব ছোটই থাকুক।
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন কারিনা। তবে তা যেন বিপজ্জনক পর্যায়ে না পৌঁছায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিছু দিক তাকে অস্বস্তিতে ফেলে বলেও জানান অভিনেত্রী।
কারিনা বলেন, তার সন্তানদের বয়স এখন ৯ ও ৫ বছর। তাই এআই নিয়ে তিনি বিশেষভাবে চিন্তিত। তার মতে, প্রযুক্তির কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন, আবার কিছু ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার, মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। তবে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় জানায়, ‘মক্কা শহরে বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
এর আগে, সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হায়োম-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
সোমবার, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার একদিন পরই এসব সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিকে, মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ এক্সে লিখেছেন, ‘মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ পুরোনো ও ভিত্তিহীন মিথ্যা, যা আগে বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারে না।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগে এবং বহু মানুষ আহত হয়।
হুথিদের দাবি, তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।
হুথি নেতা হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে গেলে ইয়েমেনের প্রতিক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরালো হবে।’
এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।
এ অবস্থায়, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে ক্রমবর্ধমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ