মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫০ পি.এম
সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। এই কারণে, বিশেষ এই তদন্ত দল হাইকোর্টে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে পুনরায় সময় চেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। যা বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু সোমবার টাস্কফোর্স সময় চেয়ে আবেদন করেছে। তারা একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে (বর্তমানে এসআরবি) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকার কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর পর ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তিন দফায় আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় উঠেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ইসরাইলের নাগরিকরা। দেশটির ভোটাররা গভীরভাবে বিভক্ত এই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইসরাইলের ক্রমশ ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করবেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া একাধিক ফ্রন্টে আঞ্চলিক যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভোট দিতে যাচ্ছে ইসরাইলিরা। এই যুদ্ধের ক্ষত এখনও তাদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাই নির্বাচনী প্রচারে হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি— এই দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণের বিস্তার ও সহিংসতা এবং উগ্র ডানপন্থী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার প্রধান মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জনপ্রিয়তায় প্রায় সমান সমান লড়াই চলছে। সাবেক এই সেনাপ্রধান রাজনীতিতে নবীন।
ইসরাইলে প্রায় ৭৩ লাখ মানুষের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। জরিপ অনুযায়ী, এসব তরুণের অধিকাংশই নিজেদের মধ্য-ডানপন্থী বা ডানপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলে মনে করেন।
ইসরাইলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে কয়েক দশ হাজার ইসরাইলি দেশে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগের দিন জেরুজালেমে এএফপিকে ৫৮ বছর বয়সী আবাসন ব্যবসায়ী উরিয়েল ব্র্যান্ডলার মন্তব্য করেন, ‘আমার মনে হয়, ইসরাইল রাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশের ভালো পরিবর্তন প্রয়োজন।’ ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু বিরতি দিয়ে মোট ১৯ বছরেরও বেশি সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরাইলিদের নিরাপদ রাখার সক্ষমতা একমাত্র তারই রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরাইল। এসব অভিযানে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
দেশের ভেতরেও ইসরাইলিরা ইরান, হামাস, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়েছেন। ৮৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী জিপ্পোরাহ বেনেট জানান, তিনি নেতানিয়াহুকেই ভোট দেবেন। তার মতে, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে দেশকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেতানিয়াহুর রয়েছে।
বেনেট বলেন, ‘মার্কিন সরকারের পূর্ণ সমর্থন তার রয়েছে। আর আমি বিশ্বাস করি, তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি পদক্ষেপ নিতে ভয় পান না।’ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি তার সরকারে উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর থেকে ইসরাইলের রাজনীতিতে এসব দলের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সামরিক বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নেতানিয়াহুকে সমালোচনা করছে বিরোধীরা। এ ক্ষেত্রে তার সরকারের অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতাও বিরোধীদের সমালোচনার অন্যতম কারণ।
তবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার দায় তিনি স্বীকার করেননি। ওই হামলাটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত। সাবেক সেনাপ্রধান ও ৬৬ বছর বয়সী বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ওই হামলার পেছনে থাকা নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। নেতানিয়াহুর সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের তদন্তের উদ্যোগ নিতে অনীহা দেখিয়েছে।
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটি অনানুষ্ঠানিক জোট গড়ে উঠেছে। তার দল ‘ইয়াশার’-এর নেতৃত্বে থাকা এই জোটে ডানপন্থী থেকে মধ্য-বামপন্থী বিভিন্ন মতাদর্শের দল রয়েছে। আইজেনকোট ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন এবং ইসরাইলি বসতি স্থাপনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সহিংসতায় জড়িত ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট— কেউই প্রকাশ্যে প্রধানত আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের জোটে যাওয়ার ঘোষণা দেননি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব। নির্বাচনে প্রত্যাশিত ব্যবধানে ফলাফল হলে এসব দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরইলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনে কোনো একক দলই এই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।
দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
#বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক ও মন্ত্রী পর্যায়ের
#যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
#ছয় বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণে সহযোগিতা কামনা
#রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে টোকিওর সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।" ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।" ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।"
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।"
এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণা
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, "এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।"
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অবকাঠামো, দ্রুতগতির রেল ও যোগাযোগব্যবস্থা
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।"
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।"
একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছি।"
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে হবে। এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।"
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয়
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, "গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, "পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দুই সরকার প্রধান গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’তে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তিনি এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে এবং বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। জাপান বাংলাদেশে মেরিটাইম সেফটির জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
এছাড়া, বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে যুগোপযোগী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে জানান তাকাইচি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই দুই দেশের লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর সদর উপজেলার ১ নং কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, সেবার মান ও চলমান উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, কালভার্ট ও ট্র্যাকস-সংক্রান্ত বিষয়, জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিষদের বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য সৈয়দুর রহমান (আর্মি), প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামছুন্নাহার
গ্রাম আদালতের জেলার ম্যানেজার (ডিএম) মাহফুজা রহমান, উপজেলা সমন্বয়কারী শারমিন নাহার সহ
পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী
উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ