মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দুই সরকার প্রধান গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’তে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তিনি এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে এবং বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। জাপান বাংলাদেশে মেরিটাইম সেফটির জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
এছাড়া, বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে যুগোপযোগী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে জানান তাকাইচি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই দুই দেশের লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর সদর উপজেলার ১ নং কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, সেবার মান ও চলমান উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, কালভার্ট ও ট্র্যাকস-সংক্রান্ত বিষয়, জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিষদের বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য সৈয়দুর রহমান (আর্মি), প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামছুন্নাহার
গ্রাম আদালতের জেলার ম্যানেজার (ডিএম) মাহফুজা রহমান, উপজেলা সমন্বয়কারী শারমিন নাহার সহ
পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী
উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পেনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বাংলাদেশের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগী হন।
তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্পেনের সেভিলে তৃতীয় বাংলাদেশ-স্পেন এক্সপো ২০২৬ উদ্বোধনকালে এই আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ওষুধ, চামড়া ও জুতা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পে উল্লেখযোগ্য সুযোগ বিদ্যমান।
এই অনুষ্ঠানে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, আন্দালুসিয়া সরকারের মন্ত্রী, সিনেটর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এক্সপোতে প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি ও স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করে, যার মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক ও গৃহস্থালির সামগ্রী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগের প্রশংসা করেন, যা দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করবে। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ পাটের বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
তার মতে, আধুনিক ফ্যাশন, নকশা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে পাটের উদ্ভাবনী ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নকশা, ফ্যাশন এবং সাংস্কৃতিক শিল্পসহ সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এক দিনব্যাপী এই এক্সপোর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও স্পেনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা, স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও টেকসই উৎপাদনে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) একটি নতুন চালান এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিশেষ গাড়িবহর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
প্রকল্পের সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে (রাত প্রায় আড়াইটায়) রাজধানী ঢাকা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয় ইউরেনিয়ামবাহী এ বহরটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
নিরাপত্তা এবং পরিবহন বিঘ্নহীন রাখার জন্য ভোর থেকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে প্রবেশ করার পর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হয় এবং চলতি বছরের মে মাসে তা পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়, যা প্রকল্পটির কমিশনিং কার্যক্রমে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য আরও দুটি চালান আনা হবে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সবই রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমানে দেশে পৌঁছানোর কথা। ধারাবাহিক এই জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুটি এলাকা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে যে, এসব ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকতেই ধ্বংস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি জোট জানায়, ইরান-সমর্থিত হুতিরা দেশের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন পাঠানো হয়।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ পূর্বাঞ্চল এবং খার্জ প্রদেশে সম্ভাব্য শত্রুতার হুমকির জন্য প্রাথমিক সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায় যে, উভয় এলাকাতেই বিপদ কেটে গেছে। গত মাসে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত কিছু এলাকা দখল করে নেয় হুতিরা। এরপর থেকেই সৌদি আরব তাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা জোরদার করেছে।
হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্র বাণিজ্য পথ। পারস্য উপসাগরের তেল রফতানিকারকদের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালীর মতোই এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
সাম্প্রতিক এই সংঘাতের ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘ-মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি হুমকির মুখে পড়েছে। ওই চুক্তির পর সৌদি জোট ও হুতিদের মধ্যে আক্রমণ বড় পরিসরে বন্ধ ছিল।
উল্লেখ্য, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন জোগায়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বড় একটি অংশ বর্তমানে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ