ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাঙ্গলকোটে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


নাঙ্গলকোটে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভাড়াটিয়া চুক্তিনামার শর্ত লঙ্ঘন করে বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মার্কেটের সাতটি দোকান জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ভাড়াটিয়াগণ চুক্তিনামায় উল্লেখিত শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানগুলোকে অন্যদের কাছে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় হস্তান্তর করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বারবার নোটিশ প্রদান করেও ব্যর্থ হলে গত সোমবার দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালান মাদ্রাসার দোকান ঘর অবৈধভাবে দখলে রাখা মধ্যস্বত্ত্বভোগী নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন। এই অপপ্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বাঙ্গড্ডা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই, খোরশেদ আলম, মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী। বক্তারা বলেন, ভাড়াটিয়া নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিগত সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তোপের মুখে পড়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পায় যে, মাদ্রাসা নথিতে উল্লেখিত টাকার ছেড়ে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। পরে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যের সত্যতার ভিত্তিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট থেকে দোকান ঘরগুলো উদ্ধারের নির্দেশনা প্রদান করেন তৎকালীন মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান মাদ্রাসার ৯৬ নং সভার রেজুলেশনে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে, একই বিষয়ে বর্তমান সভাপতি ডক্টর হেদায়েতুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০৯ নং সভার রেজুলেশনে একই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সভাপতিদের নির্দেশনায়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ ভাড়াটিয়াদের বারবার নোটিশ প্রদান করে, কিন্তু ভাড়াটিয়াগণ সাড়া না দেয়ায় সর্বশেষ তালা ঝুলিয়ে দেয়। বক্তারা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খোরশেদ আলম, আমজাদ হোসেন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডি সদস্য আব্দুল গফুর মজুমদার-সহ মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষার্থী বৃন্দ ও এলাকাবাসী। অপপ্রচারের ঘটনায় অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেনকে দোকানে গিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, "বিষয়টি আমি জেনেছি। মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয়রা বসে সমাধান করতে পারলে ভাল। আমার কাছে আসলে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।"

আরও পড়ুন: বরিশাল মহানগরের নিরাপত্তায় নতুন ছক, থানার সংখ্যা ৮ করার পরিকল্পনা বিএমপির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৌদ্ধ সম্প্রদায়: নিরীহ লোকজনর হয়রানি বন্ধে বিতর্কিত মামলার নিষ্পত্তি চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


বৌদ্ধ সম্প্রদায়: নিরীহ লোকজনর হয়রানি বন্ধে বিতর্কিত মামলার নিষ্পত্তি চান

রামু সহিংসতার ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। এই সময়ের মধ্যে বৌদ্ধদের মধ্যে সম্প্রীতি ফিরে এসেছে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাশৈলীতে নির্মিত বিহারগুলোতে পূণ্যার্থীদের পাশাপাশি বেড়েছে পর্যটক আকর্ষণ। বর্তমানে পুজাপার্বন ও ধর্মীয় উৎসবে অন্য ধর্মালম্বীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গন। সম্প্রীতিতে ফিরে আসায় বৌদ্ধরা খুশি। কিন্তু মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা নিরীহ লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশের দায়েরকৃত এসব মামলার বিষয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই বিদ্যমান। রাজনৈতিক দলের নেতাদের টার্গেট হিসেবে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে পুলিশ অসংখ্য নিরীহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়েছে। আবার বিভিন্ন এলাকার লোকজন পুলিশকে ম্যানেজ করে এসব মামলায় ফাঁসাতে নাম জড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনায় বৌদ্ধ সম্প্রদায় কোনো মামলা করেনি। তবে পুলিশের দায়েরকৃত বিতর্কিত মামলাগুলোতে আদালতে বছরের পর বছর হাজিরা দিয়ে নিরীহ লোকজন চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সাক্ষীর অভাবে এসব মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়ার পরও ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি মামলারও নিষ্পত্তি হয়নি। বারবার নোটিশের পরও সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হওয়ার পথে। অর্থাৎ, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন থমকে গেছে।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহার এবং বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ও ৪১টি বসতঘর পুড়ে যায়। ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহারসহ অর্ধশত বৌদ্ধ বসতঘর। এতে কয়েক শত বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পুড়ে যায়। ঘটনার পরপরই পোড়া মন্দিরে নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এই নারকীয় হামলার বিচারপ্রক্রিয়া ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। সাক্ষীর অভাবে বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভয়াল রাতে দুষ্কৃতিকারীদের আগুনে বসত ঘরে পুড়ে যায় এডভোকেট সুমথ বড়ুয়ার ঘর। তিনি জানান, বর্তমানে পুলিশের দায়েরকৃত মামলাগুলোতে অনেক নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। যা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাই তিনি একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এতে নিরীহ লোকজনের হয়রানি বন্ধ হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধদের আক্ষেপ ও অভিযোগ হলো মামলার আসামী এবং সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে। বৌদ্ধরা মনে করেন, মামলার আসামী এবং সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেয়া হয়েছিল, তাদের নাম যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে সাক্ষীর তালিকায় থাকা অনেকেই জানেন না যে তাদের নাম সেখানে রয়েছে। এই কারণে ১৪ বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়ার অচলাবস্থা নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ বিদ্যমান।

রামু সহিংসতার সেই কালো রাতের ঘটনা স্মরণ করে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পরিচালক শীলপ্রিয় থের বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের বৌদ্ধ বিহারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সম্পদ ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সেই সময়ে কিছু দুর্বৃত্তের একটি রাত ছিলো। ঘটনার স্মরণে এখনও চোখ দিয়ে জল বাহির হয়ে আসে। কঠিন সময় গেছে আমাদের। দুর্বৃত্তরা আমাদের বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ পল্লী পুড়িয়ে দিয়ে অনেক ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, আমরা হারিয়ে যাওয়া দিনের চেয়ে বর্তমানে অনেক সম্প্রীতি ভোগ করছি। এখন আমাদের সম্প্রীতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা রামুবাসিরা সম্প্রীতিতে আছি। আগামী দিনেও আমাদের এ সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর ১২ বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘর, পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফে ৭টি বৌদ্ধ বিহার, ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুড়ে যায় এসব মন্দিরে থাকা হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক সব নিদর্শন। লুটপাট ও ভাংচুর করা হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহার, অর্ধশত বৌদ্ধ বসতঘরে। এ ঘটনার পর দায়ের করা হয় ১৯টি মামলা। এর মধ্যে রামুর আটটি মামলায় ৪৫৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে রামু থানায় জনৈক সুধাংশু বড়ুয়ার করা মামলাটি দু’পক্ষের আপস মীমাংসার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হয়।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, রামু সহিংসতার ১৪ বছরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে এসেছে। রামুর বৌদ্ধরা পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার। কিন্তু রামুর ঘটনার মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিলেও একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।

বৌদ্ধদের অভিযোগ, ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামু ও উখিয়া-টেকনাফে বৌদ্ধপল্লীতে চালানো নারকীয় হামলার ১৮ মামলার একটি বিচারও শেষ হয়নি। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় দায়ীরা কেউ শাস্তি পায়নি এখনও। ঘটনার পর বিভিন্ন মামলায় ৯৯৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় আটকরা সবাই এখন জামিনে মুক্ত। অনেকেই বিদেশে চলে গেছে। ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করেছে সরকার। দীর্ঘ ১৪ বছরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আবারও ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন রামুর বৌদ্ধরা।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, কয়েকটি মামলায় স্বাক্ষীরা আসলেও অনেক মামলায় স্বাক্ষীরা এখনো সাক্ষ্য দিতে আসেননি। সাক্ষীরা যদি যথাযথ সাক্ষ্যদান করেন, তাহলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করা যাবে এবং ঘটনার সত্য উদঘাটন হবে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামু ট্র্যাজেডির ঘটনায় ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার ছবি ট্যাগকারী উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে সপরিবারে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে এ ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রামুতে বৌদ্ধ বিহার পোড়ানোর দিন থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন উত্তম বড়ুয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে আর্ন্তজাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করার আহবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


কক্সবাজারে আর্ন্তজাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করার আহবান

কক্সবাজার, যা পর্যটনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত, সেখানে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আর্ন্তজাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন। এই তথ্যটি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা কক্সবাজার এর সাধারণ সভায় জানানো হয়েছে। সভাটি সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে রামুর চাকমারকুল আল জামিয়া আল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রবীন আলেমেদ্বীন, ধাওনখালী মাদ্রাসার মুহতামিম ও সংস্থার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ মোসলেম।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহছেন শরীফ। বিগত বছরে অনুষ্ঠিত আর্ন্তজাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয় এবং আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের বাজেট, বক্তা নির্ধারণ এবং সম্মেলন সংস্থাকে আরও ব্যাপক ও সৃদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা গৃহীত হয়।

বক্তারা সভায় উল্লেখ করেন যে, দ্বীনের প্রচার ও বাতিল মতবাদের মূলোৎপাঠনের লক্ষ্যে মুরব্বীদের নিয়ে গঠিত এই সম্মেলন সংস্থার ভূমিকা অপরিসীম। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো দাওয়াত ও তাবলীগ। বর্তমান যুগে হকের দাওয়াত ও বাতিলের প্রতিরোধের কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে ইসলামী সম্মেলনকে দেখা হচ্ছে। তাই উপস্থিত ওলামায়েকেরাম এবং সম্মেলন সংস্থার দায়িত্বশীলবৃন্দ অত্র সংস্থার কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক ও সৃদৃঢ় করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের শীর্ষ সংস্থানীয় ও আর্ন্তজাতিক মানের বক্তাদের দাওয়াত প্রদান এবং সর্বাধিক সংখ্যক শ্রোতার উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই আয়োজনকে জেলার সর্ববৃহৎ ইসলামী মহাসম্মেলনে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মূফতি এনামুল হক, মাওলানা হোছাইন আহমদ, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা শেখ আখতার, মাওলানা মোহাম্মদ হারুন, মাওলানা ইমাম জাফর আলম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা ফিরোজ আহমদ, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা রিদুয়ানুল হক, মাওলানা রফিক উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শাহেদ নূর, মাওলানা রুহুল কাদের, মাওলানা জুনাইদ জারুল্লাহ, মাওলানা ক্বারী শাকেরসহ জেলার শীর্ষ আলেম-ওলামাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন— প্রকল্পের মেয়াদ যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিদ্যমান সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো যায়।’

যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরো চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, রংপুর বিভাগে গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজও করছে সরকার।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করতেও সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প

সকাল থেকে দুপুর, দুপুরের পর বিকেল, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দৃশ্যপটও পাল্টায়। সকালের কোমল রশ্মিতে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত পায়ে ক্লাসের দিকে ছুটে যায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ প্রিয়জন বা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্যারিস রোড। কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা। যদিও দৈর্ঘ্যে এটি খুব বেশি নয়, তবে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না এবং একাকিত্বের নানা অভিজ্ঞতার সাক্ষী এই প্যারিস রোড।

এখানে সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ এবং তরুণদের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এই পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছায় না, বরং অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প তৈরি করে।

বিকেল নামলেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটি চারপাশকে মুখরিত করে তোলে। কেউ এখানে মনের কথা বলতে আসে, কেউ ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা।

বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস নতুন আবহ পায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দে মেতে ওঠে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করে। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা হয়ে ওঠে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্যারিস রোড প্রতিদিন সরব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছে এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ স্থান।

প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও পরিবর্তিত হয়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়।

ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি—এসব মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হলেও প্যারিস রোডের কথা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"

রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।"

দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া এবং নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ—সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ।

এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ।

জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।

এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা।

সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।

লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%