মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন— প্রকল্পের মেয়াদ যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিদ্যমান সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো যায়।’
যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরো চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, রংপুর বিভাগে গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজও করছে সরকার।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে।
এ উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করতেও সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সকাল থেকে দুপুর, দুপুরের পর বিকেল, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দৃশ্যপটও পাল্টায়। সকালের কোমল রশ্মিতে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত পায়ে ক্লাসের দিকে ছুটে যায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ প্রিয়জন বা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্যারিস রোড। কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা। যদিও দৈর্ঘ্যে এটি খুব বেশি নয়, তবে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না এবং একাকিত্বের নানা অভিজ্ঞতার সাক্ষী এই প্যারিস রোড।
এখানে সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ এবং তরুণদের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এই পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছায় না, বরং অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প তৈরি করে।
বিকেল নামলেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটি চারপাশকে মুখরিত করে তোলে। কেউ এখানে মনের কথা বলতে আসে, কেউ ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা।
বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস নতুন আবহ পায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দে মেতে ওঠে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করে। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা হয়ে ওঠে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্যারিস রোড প্রতিদিন সরব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছে এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ স্থান।
প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও পরিবর্তিত হয়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়।
ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি—এসব মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হলেও প্যারিস রোডের কথা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"
রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।"
দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া এবং নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ—সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ।
এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ।
জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।
এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা।
সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।
লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক ‘ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্মকর্তাদের সাথে মহানগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সিইও রুম্পা সিকদার এবং প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করে নগরীতে উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উন্নত ও অত্যাধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, স্বল্পমূল্যে নগরবাসীকে পানি প্রদানের লক্ষ্যে ‘ওয়াটার এটিএম বুথ’ স্থাপন, বিতরণ ব্যবস্থা পুনর্বাসন এবং আধুনিকায়নের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, পরিবেশসহায়ক সোলার সিস্টেম নির্ভর পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত সাভারে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ লঙ্ঘনের জন্য ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। অভিযানের সময় জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
সাভার উপজেলায় আজ অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক অভিযানের নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপ।
সাভারের উলাইল, গেন্দা এলাকার ভরসা বেকার্সে অভিযান চলাকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিস্কুট, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যের মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্যসংবলিত লেবেল ব্যবহার করছে। কারখানায় উৎপাদনের সময় অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হলেও বিস্কুটের মোড়কে সেই উপাদানের উল্লেখ ছিল না। এছাড়া, কারখানার উৎপাদন পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিষ্কার ছিল এবং খাদ্যকর্মীরা গ্লাভস, মাস্ক, ক্যাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার না করে কাজ করছিলেন। এসব অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অন্যদিকে, কর্ণপাড়ার বেকো লাইভ বেকারিতে অভিযানের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করছে। একই রেফ্রিজারেটরে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া, বিভিন্ন খাদ্য ও খাদ্য উপাদান কোনো লেবেল ছাড়াই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক এবং পানি পরীক্ষার হালনাগাদ সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর মহাখালী অঞ্চলে পথচারীদের অবাধ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মহাখালী জোন ফুটপাথের অবৈধ দোকানপাট ও হকারদের উচ্ছেদে একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
ডিএমপির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাখালী এলাকার নতুন ফুটওভার ব্রিজ থেকে টার্মিনাল ইনগেট পর্যন্ত ইনকামিং রাস্তার ফুটপাথ অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে এবং ফুটপাথ থেকে ১৫টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করে তোলে।
পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ