প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভাড়াটিয়া চুক্তিনামার শর্ত লঙ্ঘন করে বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মার্কেটের সাতটি দোকান জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ভাড়াটিয়াগণ চুক্তিনামায় উল্লেখিত শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানগুলোকে অন্যদের কাছে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় হস্তান্তর করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বারবার নোটিশ প্রদান করেও ব্যর্থ হলে গত সোমবার দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালান মাদ্রাসার দোকান ঘর অবৈধভাবে দখলে রাখা মধ্যস্বত্ত্বভোগী নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন। এই অপপ্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বাঙ্গড্ডা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই, খোরশেদ আলম, মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী। বক্তারা বলেন, ভাড়াটিয়া নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিগত সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তোপের মুখে পড়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পায় যে, মাদ্রাসা নথিতে উল্লেখিত টাকার ছেড়ে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। পরে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যের সত্যতার ভিত্তিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট থেকে দোকান ঘরগুলো উদ্ধারের নির্দেশনা প্রদান করেন তৎকালীন মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান মাদ্রাসার ৯৬ নং সভার রেজুলেশনে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে, একই বিষয়ে বর্তমান সভাপতি ডক্টর হেদায়েতুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০৯ নং সভার রেজুলেশনে একই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সভাপতিদের নির্দেশনায়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ ভাড়াটিয়াদের বারবার নোটিশ প্রদান করে, কিন্তু ভাড়াটিয়াগণ সাড়া না দেয়ায় সর্বশেষ তালা ঝুলিয়ে দেয়। বক্তারা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খোরশেদ আলম, আমজাদ হোসেন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডি সদস্য আব্দুল গফুর মজুমদার-সহ মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষার্থী বৃন্দ ও এলাকাবাসী। অপপ্রচারের ঘটনায় অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেনকে দোকানে গিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, "বিষয়টি আমি জেনেছি। মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয়রা বসে সমাধান করতে পারলে ভাল। আমার কাছে আসলে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন