রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৭ পি.এম
রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে দলবদলের বাজার কাঁপিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া ইয়ান দিওমান্দেকে নিয়ে উন্মাদনার অন্ত ছিল না। তবে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার পরও আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন এই আইভরিয়ান উইঙ্গার। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে হোসে মরিনহোর রিয়াল ৪-১ গোলের বড় জয় পেলেও দর্শকদের ক্ষোভ এবং শিস থেকে রেহাই পাননি ফুটবলাররা।
ঘরের মাঠে এত বড় জয়ের পর উল্লাসের পরিবর্তে গ্যালারিজুড়ে অসন্তোষের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আলভারো কারেরাসের গোলে প্রথমার্ধেই মাদ্রিদ চালকের আসনে বসেছিল। জুড বেলিংহামের উপস্থিতি এবং ২১ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলের ব্যবধান একপেশে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু রিয়ালের মাঠের ফুটবল কট্টর বার্নাব্যু সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি।
বিশেষ করে বেতিসের কাছে সাম্প্রতিক হারের ক্ষত এবং ইন্টার মিলান ম্যাচে পারফরম্যান্সের খাঁজ এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে রায়োর ক্যামেলো গোল শোধ দেওয়ার পর এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলে ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন গ্যালারি বাঁধ ভাঙা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। একের পর এক বিদ্রূপাত্মক শিসে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা দিওমান্দে লা লিগার ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ফুটবলার হিসেবে বার্নার্দো সিলভা ও রুডিগারদের সঙ্গে একাদশে নামলেও পুরো ম্যাচে কার্যত ‘অদৃশ্য’ ছিলেন। তার নিষ্ক্রিয়তা বার্নাব্যুর দর্শকদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ দিকে থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি চমৎকার সেভ না করলে এবং এমবাপ্পে রিয়ালের হয়ে চতুর্থ গোল না করলে বিপদের মাত্রা আরো বাড়তে পারত।
কাতালান দৈনিক ‘স্পোর্ত’-এর মতে, কেবল জয় নয়, মরিনহোর রিয়ালের কাছ থেকে ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দেখতে চায় সমর্থকরা। রায়োর বিপক্ষে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার পরও গ্যালারির অসন্তোষ স্পষ্ট করে দিল, মরিনহো এবং তার আনা নতুন তারকারা বার্নাব্যুর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোল্লাহাটের বাগেরহাটে বাড়ির নিকটবর্তী মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে জান্নাতী আক্তার (১১) ও লামিয়া আক্তার (৮) নামের দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু ঘটে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দারিয়ালা গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জান্নাতী মুস্তাইন শেখের কন্যা এবং লামিয়া মোস্তাক শেখের কন্যা।
পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মোল্লা জসিম উদ্দিন জানান, সকালে দাদী নাছিমা বেগমের সঙ্গে বাড়ির কাছে একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে যায় জান্নাতী ও লামিয়া। এক পর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা তাদের খোঁজাখুঁজি করে উদ্ধার করে।
পরে তাদের চুনখোলা এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। পারিবারিকভাবে তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের মেগা ফাইনালে ভারত এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। উভয় দলই টুর্নামেন্টে অপরাজিত অবস্থায় ফাইনালে প্রবেশ করেছে, তবে ভারতীয় দলের জন্য দুই বছর আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে হারের স্মৃতি এখনও তাজা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ আঠেরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সামনে ২০২৪ সালের ডাম্বুলার ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেদিন চামারি আতাপাত্তু এবং হর্ষিতা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটের বিশাল জয় অর্জন করেছিল।
বর্তমান টুর্নামেন্টে অপরাজিত অবস্থায় ফাইনালে পৌঁছানো হরমনপ্রীতরা এবার ৮ম বার এশিয়া কাপ ট্রফি জয়ের জন্য মরিয়া।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কাও টুর্নামেন্টে অপরাজিত রয়েছে এবং ভারতকে হারানোর স্মৃতি তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। ভারতীয় দলে শেফালি বর্মা এবং দীপ্তি শর্মা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, আর লঙ্কানদের শক্তি হলো শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা।
মেগা ফাইনালের আগে ভারতীয় অধিনায়ক সতীর্থদের চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অসাধারণ কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা রাখা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই আসল কথা।”
এদিকে, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দলের ভরসার মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নিজেদের সেরাটা দিতে তারা প্রস্তুত।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ স্লো এবং স্পিন-বান্ধব। শুরুতে উইকেটে সেট হতে ব্যাটসম্যানদের জন্য কিছুটা সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ৩১টি লড়াইয়ের মধ্যে ভারত ২৫টিতে জয়ী হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ৫টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, তাদের শেষ জয় ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজনৈতিক সম্মেলন সাধারণত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং গুরুগম্ভীর আলোচনা নিয়ে হয়ে থাকে। তবে ভারতে সফররত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সেই পরিচিত পরিবেশে ভিন্নতা এনেছেন। তিনি একটি সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে বলিউডের জনপ্রিয় গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের আনন্দে মাতিয়ে তোলেন।
আনোয়ার বর্তমানে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের ডিনারের সময় তিনি কিংবদন্তি শিল্পী কিশোর কুমারের ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত’ পরিবেশন করেন। গানটি এস ডি বর্মনের সুরে এবং মাজরুহ সুলতানপুরীর কথায় ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
লাইভ পিয়ানোর সঙ্গতে আনোয়ারের গান অনুষ্ঠানটির সকলের নজর আকর্ষণ করে। কূটনীতি ও রাজনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই মুহূর্তটি উষ্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময়ে পরিণত হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গুরু, একটু গান গাওয়ার অনুমতি দেবেন?’ ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার গায়কির প্রশংসা করেন অনেকে।
ভারতীয় গান ও সিনেমার প্রতি আনোয়ারের ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগে তিনি একই কিশোর কুমারের গান পরিবেশন করেছেন। ২০২৪ সালে দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রহা’ও গেয়েছিলেন।
হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতি আনোয়ারের আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এর আগে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আনোয়ারের এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও পুরনো তামিল চলচ্চিত্রের গানের প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন।
ব্রিকসের অংশীদার দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও মালয়েশিয়ার পার্শ্ববৈঠকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈশ্বিক অবস্থানের প্রশংসা করেন আনোয়ার। তিনি জানান, ভারত সফরের আগে নিজ দেশে অনেকেই তাকে মোদির প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গলাচিপা উপজেলার নিকটবর্তী আগুনমুখা নদী থেকে ধরা পড়েছে আড়াই কেজি ওজনের একটি রাজা ইলিশ। মাছটি নদীর তীরবর্তী পানপট্টি আড়তে উম্মুক্ত নিলামে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গলাচিপার পানপট্টি এলাকার জেলে ইয়াকুব মাঝি মাছটি শিকার করেন। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের লঞ্চঘাটে সোহাগ হাওলাদারের আড়তে মাছটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন গলাচিপা আড়তদার মো. মনির হোসেন।
আড়তদার রিয়াদ হোসেন এবং স্থানীয়রা জানান, পানপট্টির জেলে ইয়াকুব মোল্লা শনিবার ভোরে আগুনমুখার মোহনায় মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। জাল টেনে তোলার সময় বিভিন্ন আকারের ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই রাজা ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে সকালে মাছটি বিক্রির জন্য পানপট্টি লঞ্চঘাট সোহাগ হাজীর আড়তে নিয়ে আসা হলে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বড় ইলিশটি দেখতে এবং কিনতে ঘাটে ভিড় করেন অনেকেই। অবশেষে উম্মুক্ত নিলামে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ১২ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত গলাচিপা আড়তদার মনির হোসেন মাছটি কিনে নেন।
জেলে ইয়াকুব মাঝি বলেন, শনিবার আগুনমুখার মোহনায় নদীতে জাল ফেলার সময় অন্যান্য ছোট আকারের ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্য মাছের সঙ্গে ইলিশটিও আড়তে নিলামে তোলা হয়।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুনবী বলেন, আড়াই কেজি ওজনের ইলিশটি জেলের জালে ধরা পড়লেও বিষয়টি অন্য জেলেদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। সামনে অন্য জেলের জালে বড় ইলিশ ধরা পড়বে আশা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ