ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রীলঙ্কার ‘স্পিন ফাঁদ’ ভেঙে ট্রফি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ভারত


শ্রীলঙ্কার ‘স্পিন ফাঁদ’ ভেঙে ট্রফি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ভারত

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের মেগা ফাইনালে ভারত এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। উভয় দলই টুর্নামেন্টে অপরাজিত অবস্থায় ফাইনালে প্রবেশ করেছে, তবে ভারতীয় দলের জন্য দুই বছর আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে হারের স্মৃতি এখনও তাজা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ আঠেরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সামনে ২০২৪ সালের ডাম্বুলার ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেদিন চামারি আতাপাত্তু এবং হর্ষিতা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটের বিশাল জয় অর্জন করেছিল।

 বর্তমান টুর্নামেন্টে অপরাজিত অবস্থায় ফাইনালে পৌঁছানো হরমনপ্রীতরা এবার ৮ম বার এশিয়া কাপ ট্রফি জয়ের জন্য মরিয়া।

আরও পড়ুন: হৃদয় ভেঙে ইয়ামাল-এমবাপেকে পেছনে ফেলে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কাও টুর্নামেন্টে অপরাজিত রয়েছে এবং ভারতকে হারানোর স্মৃতি তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। ভারতীয় দলে শেফালি বর্মা এবং দীপ্তি শর্মা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, আর লঙ্কানদের শক্তি হলো শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা।

মেগা ফাইনালের আগে ভারতীয় অধিনায়ক সতীর্থদের চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অসাধারণ কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা রাখা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই আসল কথা।”

 

এদিকে, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দলের ভরসার মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নিজেদের সেরাটা দিতে তারা প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড-ভারতের ম্যাচসহ আজকের খেলা টিভিতে

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ স্লো এবং স্পিন-বান্ধব। শুরুতে উইকেটে সেট হতে ব্যাটসম্যানদের জন্য কিছুটা সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ৩১টি লড়াইয়ের মধ্যে ভারত ২৫টিতে জয়ী হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ৫টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, তাদের শেষ জয় ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে।

আরও পড়ুন: হ্যারি কেইনের হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে কিশোর কুমারের গান গেয়ে অতিথিদের মাতালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে কিশোর কুমারের গান গেয়ে অতিথিদের মাতালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

রাজনৈতিক সম্মেলন সাধারণত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং গুরুগম্ভীর আলোচনা নিয়ে হয়ে থাকে। তবে ভারতে সফররত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সেই পরিচিত পরিবেশে ভিন্নতা এনেছেন। তিনি একটি সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে বলিউডের জনপ্রিয় গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের আনন্দে মাতিয়ে তোলেন।

আনোয়ার বর্তমানে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের ডিনারের সময় তিনি কিংবদন্তি শিল্পী কিশোর কুমারের ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত’ পরিবেশন করেন। গানটি এস ডি বর্মনের সুরে এবং মাজরুহ সুলতানপুরীর কথায় ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

লাইভ পিয়ানোর সঙ্গতে আনোয়ারের গান অনুষ্ঠানটির সকলের নজর আকর্ষণ করে। কূটনীতি ও রাজনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই মুহূর্তটি উষ্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময়ে পরিণত হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গুরু, একটু গান গাওয়ার অনুমতি দেবেন?’ ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার গায়কির প্রশংসা করেন অনেকে।

ভারতীয় গান ও সিনেমার প্রতি আনোয়ারের ভালোবাসা নতুন নয়। এর আগে তিনি একই কিশোর কুমারের গান পরিবেশন করেছেন। ২০২৪ সালে দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রহা’ও গেয়েছিলেন।

হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতি আনোয়ারের আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এর আগে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আনোয়ারের এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও পুরনো তামিল চলচ্চিত্রের গানের প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্রিকসের অংশীদার দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও মালয়েশিয়ার পার্শ্ববৈঠকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈশ্বিক অবস্থানের প্রশংসা করেন আনোয়ার। তিনি জানান, ভারত সফরের আগে নিজ দেশে অনেকেই তাকে মোদির প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আড়াই কেজির রাজা ইলিশ ১২ হাজার টাকায় বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


আড়াই কেজির রাজা ইলিশ ১২ হাজার টাকায় বিক্রি

গলাচিপা উপজেলার নিকটবর্তী আগুনমুখা নদী থেকে ধরা পড়েছে আড়াই কেজি ওজনের একটি রাজা ইলিশ। মাছটি নদীর তীরবর্তী পানপট্টি আড়তে উম্মুক্ত নিলামে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গলাচিপার পানপট্টি এলাকার জেলে ইয়াকুব মাঝি মাছটি শিকার করেন। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের লঞ্চঘাটে সোহাগ হাওলাদারের আড়তে মাছটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন গলাচিপা আড়তদার মো. মনির হোসেন।

 আড়তদার রিয়াদ হোসেন এবং স্থানীয়রা জানান, পানপট্টির জেলে ইয়াকুব মোল্লা শনিবার ভোরে আগুনমুখার মোহনায় মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। জাল টেনে তোলার সময় বিভিন্ন আকারের ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই রাজা ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে সকালে মাছটি বিক্রির জন্য পানপট্টি লঞ্চঘাট সোহাগ হাজীর আড়তে নিয়ে আসা হলে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বড় ইলিশটি দেখতে এবং কিনতে ঘাটে ভিড় করেন অনেকেই। অবশেষে উম্মুক্ত নিলামে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ১২ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত গলাচিপা আড়তদার মনির হোসেন মাছটি কিনে নেন।

জেলে ইয়াকুব মাঝি বলেন, শনিবার আগুনমুখার মোহনায় নদীতে জাল ফেলার সময় অন্যান্য ছোট আকারের ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্য মাছের সঙ্গে ইলিশটিও আড়তে নিলামে তোলা হয়।

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুনবী বলেন, আড়াই কেজি ওজনের ইলিশটি জেলের জালে ধরা পড়লেও বিষয়টি অন্য জেলেদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। সামনে অন্য জেলের জালে বড় ইলিশ ধরা পড়বে আশা করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কদমতলীর ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


কদমতলীর ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

রাজধানীর কদমতলী থানার ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের জাপানি বাজার জিয়া সরণি খালেরপাড় এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

একই অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূল, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উদ্বোধন করেন কর্মসূচিটি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, খাল ও ড্রেন দখল ও দূষণ বন্ধ করা, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, মাদক প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।

আবদুস সালাম আরো জানান, ডিএসসিসির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ১৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেনের দুই পাশে জায়গা রেখে পাড় তৈরি করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ড্রেন দখলের সুযোগ কমে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আবার ময়লা ফেলা হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই খাল ও ড্রেন দখল ও দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও নিতে হবে। তিনি অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে খাল ও ড্রেনের জায়গায় অবৈধ দোকানপাট না করার আহ্বান জানান।

মাদক প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। এ কাজে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ থাকলে অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, রাস্তাঘাট ও ড্রেন উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

কুমিল্লার মুরাদনগরে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আনোয়ার তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।

এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নই গ্রামে। বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে এবং শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। আনোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আনোয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদনগর আসনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় তিনি আধিপত্য বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অনুমতি ছাড়াই মানুষের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি বিক্রি করতেন। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনসহ স্থানীয়রা একাধিকবার তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছেন বলে জানা গেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আনোয়ার বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এলাকাবাসীর বাধার কারণে ফিরতে পারেননি।

এছাড়া ২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের সময় আনোয়ার ও তার সহযোগীরা মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে গোপনে গ্রামে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার। গভীর রাতে একদল লোক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আনোয়ারকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আনোয়ারের স্ত্রী মোমেনা বেগমকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টু তার স্বামীর কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলামের দাবি, আনোয়ার হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ভোররাতে জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে ঢুকে আনোয়ারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আনোয়ারের বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। রাত ৪টার দিকে আমরা খবর পাই, আনোয়ার মেম্বারকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%