ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত


কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

কুমিল্লার মুরাদনগরে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আনোয়ার তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।

এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নই গ্রামে। বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে এবং শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। আনোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত

আনোয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদনগর আসনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় তিনি আধিপত্য বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অনুমতি ছাড়াই মানুষের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি বিক্রি করতেন। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনসহ স্থানীয়রা একাধিকবার তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছেন বলে জানা গেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আনোয়ার বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এলাকাবাসীর বাধার কারণে ফিরতে পারেননি।

আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে

এছাড়া ২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের সময় আনোয়ার ও তার সহযোগীরা মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে গোপনে গ্রামে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার। গভীর রাতে একদল লোক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আনোয়ারকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আনোয়ারের স্ত্রী মোমেনা বেগমকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

আরও পড়ুন: জয়-পুতুলসহ ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টু তার স্বামীর কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলামের দাবি, আনোয়ার হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ভোররাতে জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে ঢুকে আনোয়ারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আনোয়ারের বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। রাত ৪টার দিকে আমরা খবর পাই, আনোয়ার মেম্বারকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

আরও পড়ুন: কর্ণফুলী ওপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, তিন জেলার মানুষের স্বস্তি মিলবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, ট্রাক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, ট্রাক আটক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএডিসির গোডাউন থেকে বরাদ্দ করা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া সড়কের চিৎলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে হাপানিয়া ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জব্দ করা সার ও ট্রাকটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

 

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সরকারি সার অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি আটক করেন। আটক ট্রাকের চালানে পণ্যের বিবরণ, টিএসপি সারের পরিমাণ এবং পরিবহনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য হাতে লেখা ছিল। তবে চালানে উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে জব্দ করা সারের পরিমাণ, ট্রাকের গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের মধ্যে কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জব্দ করা সার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের মুদি ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামের। সার আটকের পর মিনারুল ইসলাম জানান, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ট্রাকে করে সারগুলো আনা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে না পারায় নওয়াপাড়া থেকে সার এনে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, সার পাচারের সাথে জড়িত অভিযুক্ত মিনারুল ইসলামসহ জব্দকৃত সার এবং ট্রাক চালককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬ ঘণ্টায় দুই দ্বীপ দখল করল হুতিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


৩৬ ঘণ্টায় দুই দ্বীপ দখল করল হুতিরা

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ৩৬ ঘণ্টার একটি অভিযানে কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির প্রবেশমুখের পরিম দ্বীপ দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনি বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক কাজ করছিলেন। একই সময়ে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা হুতিদের বড় ধরনের হামলার বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছিলেন।

মার্কিন সহায়তা বন্ধ ও দ্বীপ দখল

বৃহস্পতিবার সকালে মোচা অভিমুখে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুতিরা। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সহায়তায় দফায় দফায় যোদ্ধা পাঠায় হুতিরা।

যখন পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তখন ইয়েমেনি সামরিক সূত্রটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেন্টকম তাদের জানায়, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিমান সহায়তা আর আসেনি।

এরপর মোচা দখলের পরদিন পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বাহিনী। এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালিকে দুটি নৌপথে ভাগ করেছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত।

মার্কিন সহায়তার অনুরোধ সৌদির

এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানাচ্ছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প এতে সম্মতি দেননি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন কাজ করছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

শতাধিক মার্কিন উপদেষ্টা নিয়োগ

এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক পাঠানোর তথ্য প্রকাশ হয়েছিল।

সব মিলিয়ে এ প্রচেষ্টার সঙ্গে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও।

দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকি

তবে সিএনএন বলছে, শুধু গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শক দিয়ে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও এতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে পশ্চিমা সূত্রের দাবি, বাহিনীর তালিকায় এমন অনেক ‘ভুয়া’ সদস্যের নাম ছিল, যারা বেতন পেলেও যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কাগজে থাকা জনবলের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও একক কমান্ড কাঠামোর অভাবও বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে।

১৮ ঘণ্টায় লোহিত সাগর উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের জন্য বাব আল-মানদাব প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই নৌপথটি ইরান যুদ্ধের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরমুখী হওয়ায় ওই নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রা এখানেই থেমে নাও যেতে পারে। স্যাটেলাইট ছবি ও উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুতি বাহিনী আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকরা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন, যেখানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে জানান, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন, যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।

এছাড়া, জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবি প্রতিষ্ঠায় আহ্ছানউল্লার অবদান অনস্বীকার্য: উপাচার্য ড. ওবায়দুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ঢাবি প্রতিষ্ঠায় আহ্ছানউল্লার অবদান অনস্বীকার্য: উপাচার্য ড. ওবায়দুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিষ্ঠায় হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার (র.) অবদানকে অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এই রেনেসাঁপুরুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কাছে অশেষ ঋণে আবদ্ধ।"

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’। এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউট।

উপাচার্য আরও বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের পর্বে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন। ব্রিটিশ-ভারতে তিনি প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার ছিলেন, শিক্ষা বিভাগের একমাত্র ভারতীয় সহকারী পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির প্রথম ফেলো।

 

বঙ্গীয় মুসলিম রেনেসাঁয় তার অবদানের কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, "বৃহৎ বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকা ছিল উত্তর ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মতোই।" স্যার সৈয়দ আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খসড়া বিলের স্পেশাল কমিটির সদস্য হিসেবে বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করে আহ্ছানউল্লা অনুরূপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সমাজ সংস্কার ও শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে ‘বাংলার স্যার সৈয়দ’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচ এম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্জ আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার স্ট্যামফোর্ড রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী।

 

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারে আরো আলোচনায় অংশ নেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফারসি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%