ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোডাউনেই নষ্ট হচ্ছে পাট, বেকার হতে পারেন হাজারো শ্রমিক


গোডাউনেই নষ্ট হচ্ছে পাট, বেকার হতে পারেন হাজারো শ্রমিক

খুলনা অঞ্চলে প্রায় ৯ মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কাঁচাপাট রপ্তানি। রপ্তানিকারকরা দাবি করেছেন যে, কাঁচাপাটকে শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই সংকট শুরু হয়েছে। তাই বিপুল পরিমাণ পাট গোডাউনে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, এবং এর মান ও বাজারমূল্য কমছে। একদিকে, ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে, অন্যদিকে হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

খনার দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও আশপাশের এলাকার পাট গোডাউনের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেই সময়ে যখন শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর জন্য কাঁচাপাট বাছাই, প্রেসিং ও বেইলিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, তখন গোডাউনগুলো এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন যে, কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হাজার হাজার মণ পাট মাসের পর মাস ধরে গোডামে মজুত রয়েছে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণে থাকার কারণে অনেক পাটের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাঁচাপাটকে শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকে খুলনা অঞ্চলে রপ্তানি কার্যকরীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সংকট সমাধানের দাবিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে তারা একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন, তবে কার্যকর কোনো সমাধান এখনো আসেনি।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী গাজী শরীফুল ইসলাম বলেছেন, রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ পাট গুদামে আটকে রয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়ে যাচ্ছে, গুদামভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম সংকটে রয়েছেন। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. আলমগীর খান বলেছেন, কাঁচাপাট রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই খাত অচল থাকার ফলে ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিক—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

রপ্তানি বন্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খুলনা অঞ্চলের প্রায় ২০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কাজ না থাকায় অনেক শ্রমিক বিকল্প পেশার খোঁজ করছেন।

দৌলতপুরের শ্রমিক আব্দুল গফ্ফার বলেছেন, আগে সপ্তাহে ছয় দিন নিয়মিত কাজ করেছি। এখন মাসে কয়েকদিনও কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় ধারদেনা করতে হচ্ছে। আরেক শ্রমিক মো. সোহেল রানা বলেছেন, পাট প্রেসিং ও লোডিংয়ের কাজ করেই পরিবারটি চলছিল। কাজ না থাকায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়িভাড়া, বাজার খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে শ্রমিকদের মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। শ্রমিক রহিমা বেগম বলেছেন, আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। সন্তানদের লেখাপড়া, খাবার ও পরিবারের অন্যান্য খরচ ঠিকভাবে বহন করতে পারছি না। অনেক নারী শ্রমিক এখন বিকল্প কাজের খোঁজ করছেন, তবে সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেইলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু বলেছেন, ‘শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা এখন বিপদের সম্মুখীন। কয়েক দফা আন্দোলন করেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে এবং সামাজিক সংকটও তৈরি হতে পারে। দ্রুত যদি সরকার আমাদের কর্মের ব্যবস্থা না করে, তাহলে আরও বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’

যদিও পাট অধিদপ্তর বলছে, সমস্যা সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। খুলনা পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরজিৎ সরদার বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। আমরা দ্রুত ইতিবাচক সমাধানের আশা করছি।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছিল। অথচ চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু রপ্তানিকারক নয়, কৃষক, শ্রমিক ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝড়-তুফানের সময় যে দোয়া পড়তেন নবীজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ এম


ঝড়-তুফানের সময় যে দোয়া পড়তেন নবীজি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে মানুষের জীবনের একটি অনিবার্য বাস্তবতা। ঝড়, তুফান, অতিবৃষ্টি কিংবা বজ্রপাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

কোরআন ও হাদিসে এমন দুর্যোগের সময় পড়ার জন্য একাধিক দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা একজন মুসলমানের ঈমান, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার প্রকাশ ঘটায়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা বালা-মুসিবতের সময় বলে নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত; এবং তারাই হেদায়তপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)

যখন জোরে বাতাস বা ঝড় শুরু হয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ। উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা ফীহা, ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহী। ওয়া আঊযু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফীহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে আপনি একে প্রেরণ করেছেন তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যে উদ্দেশ্যে এটি প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম: ৮৯৯; সহিহ বুখারি: ৩২০৬, ৪৮২৯)

বজ্রপাতের শব্দ শুনলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন, اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا، اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيئًا، اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ। উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফিআ, আল্লাহুম্মা সায়্যিবান হানীআ। আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বি-গাদাবিকা, ওয়ালা তুহলিকনা বি-আযাবিকা, ওয়া আফিনা কাবলা যালিক।

অর্থ: হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি দিন। হে আল্লাহ, শান্তিময় বৃষ্টি দিন। আপনার গজব দিয়ে আমাদের হত্যা করবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না। এর আগে আমাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমা দান করুন। (সহিহ বুখারি: ৭২১; জামে তিরমিজি: ৩৪৫০; সুনানো নাসায়ি: ৯২৭; মুসনাদে আহমাদ: ৫৭৬৩)

অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের কষ্ট হলে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন, اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ। উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়ায যিরাবি, ওয়াবুতুনিল আওদিয়াতি, ওয়ামানাবিতিশ শাজার।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের ওপর নয়; আমাদের আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, উঁচু ভূমি, পাহাড়, উপত্যকা এবং বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। (সহিহ বুখারি: ৯৩৩; সহিহ মুসলিম: ৮৯৭)

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা, বেশি বেশী ইস্তিগফার ও দোয়া করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। কারণ একজন মুমিন জানে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয় এবং তিনিই সব বিপদ থেকে রক্ষা করার একমাত্র মালিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির যে রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ এম


মেসির যে রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন

হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে 'এল' গ্রুপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। ইংল্যান্ডের 'থ্রি লায়ন্স'রা রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট একত্র করেছে। দুইবার সমতায় ফেরার পরও ক্রোয়াটরা ইংলিশদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে নি। ফলে ইংল্যান্ড দাপুটে জয়ে টুর্নামেন্টে একটি শুভসূচনা করল।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) ইংল্যান্ডের বড় জয়ের রাতে জোড়া গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এর ফলে একাধিক রেকর্ডে নাম উঠেছে তার। তার মধ্যে একটি রেকর্ডে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন কেইন, আর অন্য রেকর্ডে ইংল্যান্ডের শীর্ষে পৌঁছেছেন ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।

ম্যাচের শুরুতে লুকা মদ্রিচের ফাউলের জন্য ইংলিশরা পেনাল্টি পায়। ১১ মিনিটে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের পেনাল্টি শট ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচের দ্বারা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শট নেওয়ার আগে গোলকিপার লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় কেইন পুনরায় শট নেওয়ার সুযোগ পান। ১২ মিনিটে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি শট আর ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।

পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেইন। এই বিশ্বকাপের প্লাটফর্মে এটি কেইনের পঞ্চম পেনাল্টি গোল (টাইব্রেকার বাদে)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে এত গোল করতে পারেননি আর কোনো ফুটবলার। এ রেকর্ড গড়ার পথে কেইন ছাড়িয়ে গেছেন বিশ্বকাপে যৌথভাবে ৪ গোল করা লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রব রেনসেনব্রিঙ্ককে।

কেইনের শট জালে জড়াতেই আরেকটি রেকর্ডে তার নাম ওঠে। ডেভিড ব্যাকহামের (১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬) পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়লেন কেইন (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬)।

হ্যারি কেইন দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাচের ৪০ মিনিটে। আর ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে দৌড়ে বক্সে ঢুকে ক্রোয়েশিয়ার জালে গোল করেন জুড বেলিংহাম। বদলি নেমে শেষ দিকে ইংল্যান্ডের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে গোলটি করেন এই ইংলিশ তারকা।

ইংল্যান্ডের জন্য এই জয় অনেক হিসাবের। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হারানোর প্রতিশোধ নিচ্ছে 'থ্রি লায়ন্স'রা। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে এল গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাচ শেষের ১ মিনিট আগের গোলে বিজয়ী ঘানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ এম


ম্যাচ শেষের ১ মিনিট আগের গোলে বিজয়ী ঘানা

বিমানযাত্রার ৮ বছর পরে বিশ্বকাপে ফিরে এসে বড় ধাক্কা খেল পানামা। ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে ঘানা গোল করে মধ্য আমেরিকার এই দেশটিকে রুখে দেয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫ টায় মুখোমুখি হয় দুই দল।

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য ছিল। এরপর অতিরিক্ত ৬ মিনিট যোগ করা হয়। এর পঞ্চম মিনিটে ঘানার কালেব ইয়েরেঙ্কি প্রতিপক্ষের জালে বল ঢুকিয়ে দেয়। ফলে তারা ১-০ ব্যবধানে ‘এল’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতলো।

তবে এদিন পুরো ম্যাচ জুড়ে পানামার দাপট ছিল। পানামা ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। পানামা ১১টি শট নিয়েছিল, বিপরীতে ঘানা মাত্র আটটি শট নেয়। ঘানার বদলি গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে শেষ ৪৫ মিনিট গোলপোস্টে থেকে ৩টি সেভের মাধ্যমে পানামাকে হতাশ করেন। এর মধ্যে তিনি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া দুটি শট ঠেকান।

প্রথমার্ধে গোলে নেওয়া একমাত্র শট এসেছিল দুই মিনিটের মধ্যে। পানামা ফরোয়ার্ড সিসিলিও ওয়াটারম্যান নিচু ক্রস পান আমির মুরিলোর কাছ থেকে। বক্সের মাঝ থেকে তিনি শট নেন। কিন্তু আতি জিগি ডানপাশে ডাইভ দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন।

এই গোলকিপার কয়েকটি সংঘর্ষের ফলে ধাক্কা সামলানোর পর হাফটাইমে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নেমে নায়কের ভূমিকা পালন করেন আসারে।

‘এল’ গ্রুপে আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করছে। পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে ইংল্যান্ডের তুলনায় পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঘানা। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে পানামা ও ক্রোয়েশিয়া যথাক্রমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাওনা টাকার বিরোধের জেরে যুবক হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ এম


পাওনা টাকার বিরোধের জেরে যুবক হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চর শিলমন্দি এলাকার যুবক আরিফ হোসেন (৩৭) এর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে যুক্ত প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, হত্যার পিছনে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। ‍

পিবিআই সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আরিফ হোসেনের ছোট ভাই আকাশ বেপারী কসাইয়ের কাজের সূত্রে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নূর মোহাম্মদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। গত ১৩ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুন্সীরহাট এলাকায়, আরিফ ও আকাশ যখন পাওনা টাকা চাইতে যান, তখন নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তিনি আরিফকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নূর মোহাম্মদ আরিফ ও আকাশের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজও করেন।

পরদিন অর্থাৎ ১৪ জুন বিকেলে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জমির নগর এলাকার একটি অনাবাদি জমি থেকে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ জুন রাত থেকে ১৪ জুন ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আরিফকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে নূর মোহাম্মদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ১৭ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%