হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তীর্থযাত্রা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি তীর্থ যাত্রীবাহী একটি গাড়ির সড়কের বিভাজকে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যাওয়ার ফলে ঘটে। এই ঘটনায় ১৬ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাগপত জেলার পূর্বাঞ্চলীয় পরিধি মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সকলেই উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ জেলার বাসিন্দা। তারা রাজস্থানের বাগাড় ধাম থেকে তীর্থযাত্রা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে মোট ৩২ জন তীর্থযাত্রী ছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে খেকড়া কোতওয়ালি এলাকার বাসি ও বড়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজকে ধাক্কা দেয় এবং পরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা যাত্রীদের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বদায়ুঁতে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তীর্থযাত্রা শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার বদলে একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ওজন পরিমাপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ওয়েব্রিজ স্থাপন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
আজ সোমবার ঢাকায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)-এর পুরাতন ও সম্প্রসারিত জোনে স্থাপিত দু’টি আধুনিক ওয়েব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ঢাকা ইপিজেডের পুরাতন ও সম্প্রসারিত জোনের মূল গেটে স্থাপিত এ দু’টি ওয়েব্রিজের মাধ্যমে জোনে প্রবেশ ও বহির্গমনকারী পণ্যবাহী কনটেইনার, কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনে পরিবাহিত পণ্যের ওজন নির্ভুলভাবে পরিমাপ ও তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মনিটরিং আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে জোনে প্রবেশ ও বহির্গমনকারী পণ্যের তথ্যের নির্ভুলতা, আমদানিকৃত কাঁচামালের যথাযথ ব্যবহার এবং বন্ডিং কার্যক্রমের মনিটরিং আরও কার্যকর হবে। এর ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজস্ব সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ ব্যবস্থা।
ঢাকা ইপিজেডের পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ইপিজেড, আদমজী ইপিজেড, কুমিল্লা ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডে একই ধরনের আধুনিক ওয়েব্রিজ স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বেপজা। পর্যায়ক্রমে বেপজাধীন সব জোনে ওয়েব্রিজ স্থাপন করবে বেপজা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. মহসীন হাসান, ঢাকা ইপিজেডের কাস্টমসের সহকারী কমিশনারসহ ইপিজেডের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে মানুষকে অভ্যস্ত করতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ক্যাশলেস বুথ চালু করেছে পূবালী ব্যাংক। ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ বুথে গ্রাহকদের হাতে-কলমে নগদ টাকা ছাড়াই লেনদেনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজারে এ ক্যাশলেস বুথের উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তর অঞ্চল প্রধান ও ডিজিএম এ কে এম মাসুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বুথটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক ও এজিএম ইকবাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংকের দীঘিনালা উপশাখা প্রধান পিও ইভান ত্রিপুরা। এ সময় বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ দীঘিনালা উপজেলার পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
বুথটি তিন দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ সময়ে আগ্রহী গ্রাহকদের নগদ অর্থ ছাড়াই ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কেও সচেতন করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিজিএম এ কে এম মাসুদ বলেন, “বর্তমান সময়ে ক্যাশলেস লেনদেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে অর্থ স্থানান্তর করা যায়। লেনদেনের হিসাবও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে টাকা বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমে, লেনদেনে সময় সাশ্রয় হয় এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাশলেস পদ্ধতি ব্যবহার করলে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
ক্যাশলেস বুথে এসে গ্রাহকরা ডিজিটাল লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও ব্যবহার করে দেখতে পারছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দীঘিনালার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নগদবিহীন লেনদেনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আগস্ট মাসে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এ মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
আজ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচক সংক্রান্ত মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী মাস জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বিবিএস জানায়, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দরপতন। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ভৌগোলিক ক্ষেত্র বিবেচনায় বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে রূপ নিয়েছে।
একই সময়ে শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শহর এলাকায় আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও কিছুটা মন্থর হয়েছে। আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ে ‘মজুরি হার সূচক’-এর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর আগে জুলাই মাসে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।
খাতওয়ারি বিন্যাসে আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচিত তিন খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির গতি ছিল তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ