ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কটিয়াদীতে ডেঙ্গুর হানা, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১৬ জন


কটিয়াদীতে ডেঙ্গুর হানা, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১৬ জন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে ১৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেলেও, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে এখানে একজন মাত্র ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

৬ই অক্টোবর মঙ্গলবার কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে জ্বর ও ডেঙ্গুর উপস্বর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখানে ডেঙ্গু সনাক্তকরণের কীট ও এন এস -১(ঘঝ-১) পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি, ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মশারির ভিতরে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক বলেন, "আবহাওয়া পরিবর্তন ও থেমে থেমে বৃষ্টি আসার কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে।" তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই মুহূর্তে সামাজিক সচেতনা বাড়ানোই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, "বাড়ির আশেপাশে ঝুপঝার, ফুলের টপ কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি রাখতে দেওয়া যাবে না।" তাছাড়া, কারো তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা বা বমি ভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের ৩ বিশেষ টিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের ৩ বিশেষ টিম

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৮৯টি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ৫৫৪ জন আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের বজ্রকণ্ঠ হলরুমে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। সভায় উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শুকদেব মণ্ডল, সম্পাদক দুলাল চন্দ্র সিকদার, পাঁচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী, উপজেলা আনসার কর্মকর্তা সালমা আক্তার, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পূজামণ্ডপের আশপাশের সড়কে কোনো দোকানপাট বা মেলা বসানো যাবে না। যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মণ্ডপগুলোতে দুই শিফটে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জেনারেটর ও এসি-ডিসি বাতির ব্যবস্থা, রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, টুঙ্গিপাড়ার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবারের দুর্গাপূজা ৮৯টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলা আনসার কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান, ৮৯টি পূজামণ্ডপে মোট ৫৫৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি মণ্ডপে আটজন করে মোট ৮০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

ওসি আইয়ুব আলী বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করবে। এছাড়া ১৬টি কেন্দ্রে ১৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৮৯টি মণ্ডপের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় ৩টি, পাটগাতী ইউনিয়নে ১১টি, ডুমুরিয়া ইউনিয়নে ২০টি, গোপালপুর ইউনিয়নে ৪৭টি, কুশলী ইউনিয়নে ৪টি এবং বর্ণী ইউনিয়নে ৪টি মণ্ডপ রয়েছে।

আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহেশপুরে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে কলা ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


মহেশপুরে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে কলা ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া এই শিলাবৃষ্টিতে কলা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাঠে মাঠে শিলার আঘাতে লাউ, শিমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত তছনছ হয়ে গেছে।

​

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বিশেষ করে উপজেলার স্বরূপপুর ও শ্যামকুড় ইউনিয়নে ক্ষতির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। রাতভর বৃষ্টির পর আজ সকালে কৃষকেরা মাঠে গিয়ে এক হাহাকার দৃশ্য দেখতে পান। শিলার আঘাতে কলার পাতা চিরে গেছে এবং অনেক গাছ ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে শিম, লাউসহ অন্যান্য সবজির মাচা ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ফলে শিলার আঘাতে পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে ফলন।

ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষি নাজমুল হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "হঠাৎ রাতে এমন শিলাবৃষ্টি হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। সকালে মাঠে গিয়ে দেখি সব শেষ। ঋণের টাকায় চাষ করা সবজি ক্ষেত এক রাতের শিলাবৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেল।"

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিশেষ দুটি ইউনিয়নে কলা ও শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। কতটুকু জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণে কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশান-বারিধারার লেকের পানি ঠিক না হলে দেশের পরিবেশ কিভাবে রক্ষা হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


গুলশান-বারিধারার লেকের পানি ঠিক না হলে দেশের পরিবেশ কিভাবে রক্ষা হবে?

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের মন্তব্য করেছেন যে, গুলশান-বারিধারার মতো একটি বিশিষ্ট এলাকার লেকের পানি যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তাহলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব।

তিনি আরও বলেন, "দুঃখজনক হলেও সত্য, শুধু গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক এবং হাতিরঝিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে প্রায় ছয়বার বৈঠক করেছেন।"

গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, কীভাবে এসব এলাকার পরিবেশ ঠিক করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে নিয়ম অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জাকারিয়া তাহের বলেন, রাজধানীতে নামিদামি ডেভেলপাররা ভবন নির্মাণ করেছেন, কিন্তু এসটিপি করে যাননি। এর ফলে স্যুয়ারেজের পানি স্টর্ম ওয়াটারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তিনি জানান, "আমরা সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন-চারবার বৈঠক হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বৈঠকে আমাদের চেয়ারম্যান, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্টরা এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। শুধু গুলশান-বারিধারার মতো একটি বিশিষ্ট এলাকার লেকের পানি যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তাহলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব?"

মন্ত্রী জানান, প্রথমবারের মতো আমরা প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রথমে দেশের মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ শুরু হচ্ছে। পরে বড় শহরগুলো এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সারাদেশকে এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রকৃত মাস্টারপ্ল্যান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জোনিং করা হবে, কোথায় কী হওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, "আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে চাই। সেই কারণেই নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে (ইউডিডি) শক্তিশালী করছি এবং এই বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।"

মন্ত্রী আরও জানান, পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত থাকলেই পরিকল্পনা যথাযথভাবে করা সম্ভব। তিনি বলেন, "সর্বশেষ যে আদমশুমারি হয়েছে, সেটিও অনেকদিন আগের। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আরেকটি সঠিক আদমশুমারি করা উচিত, যাতে এর ভিত্তিতে আমরা পরিকল্পনা করতে পারি।"

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে আমরা বেশ কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। যেমন বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ)। আগে একটি প্ল্যান পাস হতো একজন আর্কিটেক্টের মাধ্যমে। এখন আমরা চেষ্টা করছি, আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং— সবকিছু সমন্বয় করে যেন প্ল্যান জমা দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর যে ভবনটি তৈরি হবে, সেটির অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রেও ডিজাইনকারীদের সার্টিফাই করতে হবে যে ভবনটি যথাযথভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "বাস্তবতা হলো, শুধু ঢাকা শহরের কথা বললে— রাজউকের আওতাধীন এলাকা এবং গণপূর্তের আওতাধীন ধানমন্ডির মতো এলাকাগুলোতে প্ল্যান পাস হচ্ছে।" এর বাইরে পর্যাপ্ত অনুমোদন ছাড়া অনেক ভবন রয়েছে। তিনি জানান, "আমরা এখন এগুলো শনাক্ত করছি।"

মন্ত্রী বলেন, গত সাত মাসের মধ্যে বেশ কিছু কাজ হয়েছে। তিনি জানান, "আপনারা জেনে খুশি হবেন, রাজউকের মতো আরও ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি আমরা করেছি।" এগুলো হলো ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরও চারটি ছিল। তিনি বলেন, "পর্যায়ক্রমে আগামী সেশনে বগুড়া নিয়েও কাজ করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "অনেক শহরে ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকায় সিটি করপোরেশন ও ডেভেলপমেন্ট অথরিটি একইসঙ্গে পরিকল্পনা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজ করছে। ফলে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে না।"

মন্ত্রী জানান, যারা এরইমধ্যে প্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণ করেছেন অথবা অনুমোদিত প্ল্যানে বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন, তাদের জন্য একটি বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "এ নিয়ে কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে হয়তো এটি মন্ত্রিসভায় উঠবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, "এটি পাস হলে আমরা সংশ্লিষ্ট আইনকে আরও শক্তিশালী করতে পারব।"

গৃহায়ন মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ঢাকা শহরের অবস্থা দুঃখজনক। তিনি জানান, "১৭৩টি শহরের মধ্যে আমরা ১৭১তম অবস্থানে আছি।" তিনি বলেন, "আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে পরিস্থিতির উন্নতি করার।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, "এটাও বাস্তবতা যে, আমরা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরের মধ্যে আছি।" তিনি বলেন, "সঠিক পরিকল্পনা এবং সব সেক্টরের সম্মিলিত অবদান ছাড়া এটিকে সফল করা খুবই কঠিন।" তিনি বলেন, "বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন।" তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করেন, যাতে আরও সুস্থ পরিবেশ, পরিবেশ রক্ষা এবং সঠিক আবাসন নীতিমালা তৈরি করা যায় এবং জনগণকে আরও ভালো সুযোগ দেওয়া যায়। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর জনসংখ্যা, আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনার আওতায় না আনলে বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "ঢাকায় প্রতিদিন মানুষ আসছে, কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা বস্তি উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।" তিনি বলেন, "দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।"

টোকিওর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "জাপান কয়েক দশক ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, আমাদেরও পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করে ২৫-৩০ বছর ধরে বাস্তবায়ন করার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে।"

মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর দুরবস্থার অন্যতম কারণ আইন না মানার প্রবণতা। তিনি বলেন, "রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের দায়িত্ব ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের।" তিনি জানান, "রাজউক নকশা অনুমোদন করে, প্রতিটি বাড়ি কীভাবে নির্মিত হচ্ছে তা নিয়মিত পুলিশিংয়ের মতো করে নজরদারি করা সম্ভব নয়।" তিনি বলেন, "মাত্র প্রায় ১ হাজার ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শতাধিক পরিদর্শক দিয়ে পুরো ঢাকার ভবন পর্যবেক্ষণ করা বাস্তবসম্মত নয়।" তাই তিনি সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে আইন মানতে আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রাজধানীর পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবাদাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গ্রিন বিল্ডিংয়ে ৫ শতাংশ প্রণোদনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনে অতিরিক্ত ফ্লোর স্পেস, ভবনের নকশায় সৌরবিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত করা এবং এক বিঘা জমিতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সরকারি ভবনে পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লক ব্যবহারের দিকেও যাওয়া হচ্ছে।" পাশাপাশি ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আর্থকোয়েক সেফটি ও গবেষণার জন্য জায়গা ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এসব উদ্যোগ সফল করতে শুধু সরকার বা রাজউক নয়, ডেভেলপার, ভবন মালিক, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

কনক্লেভে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের এমডি শ্রাবন্তী দত্ত, স্পেসজিরো লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির এমডি ও সিইও নাসিমুল বাতেন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরি, ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের এমডি নাসিম বিশ্বাস এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় মাদক ও মিষ্টির কারখানায় অভিযান যুবকের কারাদণ্ড, কারখানা মালিককে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় মাদক ও মিষ্টির কারখানায় অভিযান যুবকের কারাদণ্ড, কারখানা মালিককে জরিমানা

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান ও ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। পৃথক দুই অভিযানে গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদন ও মিষ্টিতে অননুমোদিত রং ব্যবহারের দায়ে এক কারখানা মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অনিক দাস (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অনিক দাস পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার সুজন দাসের ছেলে।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে উপজেলার আদি ইসলামীয়া মিষ্টান্ন ভান্ডারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদন, দধি এবং মিষ্টিতে অননুমোদিত রং ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোস্তফা হাওলাদারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোস্তফা হাওলাদার উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের দাদন আলী হাওলাদারের ছেলে। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির জন্য রাখা ছানা জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ছানা আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যে অননুমোদিত রং ব্যবহারের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%