বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মিসর সফরে গিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এটি চার বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রথম সফর। ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রভাবের অনিশ্চয়তার মধ্যে বেইজিং এ অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করতে চায়।
বুধবার কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। বিমানবন্দরে শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বৈঠকে শি অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ‘নিরাপত্তা স্থাপত্য’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল, বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষিতে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।
বার্ষিক প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা পাওয়া মিসর ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষাসঙ্গী হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি কায়রো চীনের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি করছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক শক্তির লড়াইয়ের মধ্যে মিসর একটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে বলে সফরসূচির আগে প্রেসিডেন্ট সিসি জানিয়েছেন। সাবেক মিসরীয় কূটনীতিকদের মতে, কায়রো চায় বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের পরিধি বৃদ্ধি করতে, যা চীনের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিভাগ দাবা ও ক্যারাম প্রতিযোগিতা-২০২৬। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেশিয়ামে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। গত ৩১ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা-১৭ আসনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালিটি আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থান রোড থেকে শুরু হয়। পরে এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাখালী বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
ঢাকা-১৭ আসনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালির চলাকালে নেতাকর্মীরা দলের প্রধান ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রিক নানা স্লোগান দেন।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল চেতনা তুলে ধরেন। এ সময় তারা গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনর্বহালের সংগ্রামকে আরো বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২৪০ জন গোলপাতা চাষির মধ্যে আধুনিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গোলপাতার গুড় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয়। এ উপলক্ষে চাষিদের জন্য একটি সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনও করা হয়।
বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম চাষিদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমানুল ইসলাম এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৪০ জন চাষিকে অন্তত ১২ ধরনের উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এসব উপকরণের মধ্যে গোলের রস জ্বাল দেওয়ার ডোংগা, কলস ও লোহার কাঁচিসহ বিভিন্ন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চাষিদের গোলপাতা চাষ ও গুড় উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে অর্থকরী ফসল হিসেবে গোলপাতার চাষ সম্প্রসারণ এবং গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এসব উপকরণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন, গোলপাতার গুড় তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর একটি প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনের জন্য সেখানে উপস্থিত হয়।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ এবং সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং ভূটানের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে।
বিশেষ করে তারা জানতে চেয়েছে, কুড়িগ্রাম থেকে সোনাহাট হয়ে ভূটানের দূরত্ব কত, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে, ভবিষ্যতে নতুন কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে এবং বন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজসহ ২২টি পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং ভুটান থেকেও আমদানির অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি পণ্যের মধ্যে গার্মেন্টস ঝুট, প্লাস্টিক পণ্য, জুস, টয়লেট টিস্যু, মশারি, বই এবং তৈরি পোশাক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শনের আগে একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভূটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর প্রতিনিধি দল ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছে।
সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং কুড়িগ্রাম পরিদর্শন করা।
কুড়িগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সোনাহাট স্থলবন্দর এবং চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিনিধি দলে GMCA-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কালডেন দর্জি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর নিম লাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সফরটি সমন্বয় করেন ঢাকায় রয়্যাল ভূটানিজ এম্বাসির মিনিস্টার-কাউন্সেলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং।
তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন BEZA-GMCA Joint Working Group Meeting-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ভূটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ভূটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে সড়কপথে ভূটানে গিয়েছেন।
ওই দিন রাজা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভূটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে কুড়িগ্রামে ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভূটানের সরকারি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ভূটানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গেলেফু থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সোনাহাট স্থলবন্দরের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় GMCA প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর, কুড়িগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সময় প্রোটোকল ও সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামান, ওসি আজিম উদ্দিন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম আকন্দ এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কয়েকজন প্রতিনিধি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ