ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাতায়ায় বাংলা খাবারের চাহিদা বাড়লেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে বাংলাদেশি কর্মীরা


পাতায়ায় বাংলা খাবারের চাহিদা বাড়লেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে বাংলাদেশি কর্মীরা

থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ায় বাংলাদেশি খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, আসিয়ানভুক্ত দেশের নাগরিকেরা বেশি সুবিধা পাওয়ার কারণে বাংলাদেশিরা কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা এবং ব্যাংককের মধ্যে শ্রমবিষয়ক চুক্তির মাধ্যমে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রবাসীরা।

পাতায়া, রাজধানী ব্যাংকক থেকে সড়কপথে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, রাতভর পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করে। এখানে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ, হাঁটা, কেনাকাটা এবং অবসর কাটানোর নানা আয়োজন রয়েছে, যা এই শহরটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশি ও ভারতীয় খাবারের স্বাদ দিতে পাতায়ায় বেশ কিছু রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। পাতায়ার কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মানসুরা আলম সনি জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকে থাইল্যান্ডে এসে পাতায়ায় ঘুরতে আসেন। তাদের খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে সব জায়গায় হালাল খাবার পাওয়া যায় না। তাদের কথা ভেবেই এখানে ১০ বছর আগে রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলেছি। আগে আমার তিনজন কর্মী ছিলেন, এখন আছেন আটজন।’

আরও পড়ুন: কুয়েতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের ৭৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উদযাপন

শখের বশে গড়ে তোলা এসব রেস্তোরাঁর খাবার ও আতিথেয়তায় অতিথিরা মুগ্ধ। আগে থেকে জানালে পর্যটক ও অতিথিদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা সম্ভব। একজন পর্যটক মন্তব্য করেন, ‘এখানে খেতে এলে মনে হয়, রেস্তোরাঁয় নয়, নিজের বাসায় খাচ্ছি। খাবার খুব ভালো।’

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোতে অন্য দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দিতে হচ্ছে। কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আমরা নেপালি ও বার্মিজ কর্মী রাখি। কারণ, তারা এলে থাইল্যান্ডে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটসহ তাদের পেছনে বছরে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার বাত খরচ হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনতে পারি না, কারণ কর দিতে হয় অনেক বেশি। একটি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য সারা বছর চার ধরনের কর দিতে হয়। এতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মী আনি না।’

এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা ও ব্যাংককের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সহজে কাজের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে প্রবাসী আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

পাতায়ার প্রাণো কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক কোনো চুক্তি নেই। এ ধরনের চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পর্যায়ের কর্মীরাও এখানে আসতে পারতেন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন, তাদের বেশিরভাগই ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেন। তারা নিচের স্তরের কাজ করতে পারেন না। বাংলাদেশে শ্রমিকের অভাব নেই, অন্যদিকে এখানে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আমরা এই ব্যবধানকে কাজে লাগাতে পারি।’

আরও পড়ুন: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ভালো বলতে পারবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়

জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোর একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করতে দিলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পাবে?

একটি গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের সমৃদ্ধির পথ খুলে দিতে পারে। তবে সেই বন্দরের উপযোগিতা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর—বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, খরচ কত, আর সুবিধা কারা পায়? মাতারবাড়ীর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান এই বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়তে আগ্রহী। এটি বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আগেই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক শর্ত স্পষ্ট করা হয়নি। খরচ কীভাবে ভাগ হবে, তাও বলা নেই। বাংলাদেশ কী সুবিধা পাবে, সেটিও অস্পষ্ট।

এই না-বলা কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। অন্যরা যেমন জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বাজার নিয়ে দর-কষাকষি করে, বাংলাদেশকেও একই মনোভাব নিয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ে দর-কষাকষি করতে হবে। সরকারকে একটি বিষয় বুঝতে হবে—যেকোনো চুক্তির কারণে বাংলাদেশ বোঝা বইবে, আর ভারত কৌশলগত সুবিধা পাবে, তা ব্যাপক জনরোষ তৈরি করতে বাধ্য।

সংযোগ যখন আধিপত্যের হাতিয়ার

প্রতিবেশী অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সংযোগ হলেই যে আধিপত্য তৈরি হয়, তা নয়। একটি সুপরিকল্পিত বন্দর বাংলাদেশের রপ্তানিকারক ও প্রতিবেশী দেশগুলো—দুই পক্ষই ব্যবহার করতে পারে। এতে বাংলাদেশ অনেক লাভবান হতে পারে। বেশি কার্গো এলে জাহাজ চলাচল, লজিস্টিকস ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

সমস্যা তৈরি হয় অসম ক্ষমতার ভিত্তিতে গড়া সহযোগিতায়। ধরা যাক, বাংলাদেশ আর্থিক ও পরিবেশগত দায়ের বড় অংশ নিল। আর ভারত কিছু না দিয়েই সস্তায় ও নির্ভরযোগ্যভাবে বন্দর ব্যবহার করল। তখন মাতারবাড়ী ভারতীয় আধিপত্যের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

চুক্তির শর্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই এটিকেই নিশ্চিত কিছু ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আধিপত্য মানেই ভূখণ্ডের মালিকানা নয়। বড় প্রতিবেশীর স্বার্থ যখন ছোট প্রতিবেশীর অবকাঠামো ও ব্যয়নীতি ঠিক করে দেয়, তখনো আধিপত্য তৈরি হতে পারে। বন্দর বাংলাদেশের এখতিয়ার ও নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কিন্তু এর অর্থনৈতিক বিকাশের দিক অন্যরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তাই কিছু প্রশ্নের উত্তর দরকার। যেমন প্রবেশাধিকারের নীতি কে ঠিক করবে? শুল্ক বা দাম কে নিয়ন্ত্রণ করবে? অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরিতে কে বিনিয়োগ করবে? বাংলাদেশ কি নিজের শুল্ক ও নিরাপত্তাবিধি কার্যকর করতে পারবে? বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক হলে কী পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে?

খরচ কে বহন করবে

‘জাপানের অর্থায়নে’ কথাটির অর্থ স্পষ্ট করা দরকার। ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করলে পরিশোধের দায় তৈরি হয়। এর মানে এই নয় যে, খরচ জাপান বহন করছে। জাইকার সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (২)-এর জন্য ১০৫ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত ঋণচুক্তি করে। ঋণের শর্তগুলো হলো—পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর। গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। প্রকল্পের বার্ষিক সুদের হার ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং পরামর্শক সেবার জন্য আলাদা অতিরিক্ত হার।

এটি মাত্র একটি ঋণ। এটি প্রকল্পের মোট খরচ নয়। এই ঋণ পরিশোধের দায় বাংলাদেশের। বন্দরের আয় এই বোঝা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আয় অপর্যাপ্ত হলে ঝুঁকিতে পড়বে সরকারি খাত।

তাই প্রস্তাবিত আঞ্চলিক ব্যবস্থায় তিনটি বিষয় আলাদা করতে হবে—১. বাংলাদেশের নিজের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। ২. বিদেশি ট্রানজিট সেবা দিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অবকাঠামো। ৩. সেই ট্রানজিটের কারণে সৃষ্ট পরিচালন ব্যয়।

কিছু ভারতীয় কোম্পানি বন্দর ব্যবহার করবে বলে ভারতকে বাংলাদেশের বন্দরের পুরো নির্মাণ খরচ দিতে হবে, এমন নয়। একইভাবে শুধু ভারতের বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশকে বাড়তি সড়ক, রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো, শুল্ক ভবন বা অন্যান্য স্থাপনা বানাতে হবে, এটাও ঠিক নয়।

এসব খরচ মেটাতে হবে আগে থেকে ঠিক করা ব্যবস্থায় বা অন্য কোনো পূর্বসম্মত পদ্ধতিতে।

সরকারকে পুরো অর্থায়ন-পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। এতে থাকতে হবে দেশীয় বিনিয়োগ, ঋণ, পরিচালন ব্যয় ও বাস্তবসম্মত আয়ের প্রাক্কলন। বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের আলাদা আলাদা সুনির্দিষ্ট সংখ্যা-পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে একটি বড় অঙ্ক দেখালে চলবে না।

ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী পাবে

প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর নেই। বাংলাদেশকে ‘সেভেন সিস্টার্স’-এ যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার করার বিনিময়ে ভারত ঠিক কী দেবে? সম্ভাব্য লাভ অনেক; কিন্তু সম্ভাবনা মানেই তা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নয়।

বন্দর ফি, পরিবহন আয়, গুদামভাড়া ও লজিস্টিকস সেবার আয় বাংলাদেশের হতে পারে। জাহাজ-সংযোগ ও শিল্প বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরাও লাভবান হবেন। তবে এসব লাভ নির্ভর করে কার্গোর পরিমাণ, মূল্য, অংশগ্রহণ ও বাজারে প্রবেশাধিকারের ওপর।

বাণিজ্যিকভাবে ন্যায্য একটি চুক্তিতে নিচের বিষয়গুলো থাকা উচিত :

ট্রানজিট থেকে আয় শুধু আকর্ষণীয় রাজনৈতিক শিরোনামের জন্য ঠিক করা উচিত নয়। শুল্ক অতিরিক্ত বেশি হলে কার্গো আসা কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত কম হলে বাংলাদেশের ভূগোলের অর্থনৈতিক মূল্য বিদেশি ব্যবহারকারীদের হাতে চলে যাবে। বাজার কত শুল্ক সইতে পারবে এবং বাংলাদেশের কত আদায় করা দরকার, তা স্বাধীন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।

আসল মাপকাঠি হলো নিট জাতীয় লাভ। হিসাব করতে হবে এসব বাদ দিয়ে—পরিচালন ব্যয়, ঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পরিবেশগত বিবেচনা, অন্য খাতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের হারানো সুযোগ।

করিডোর মানেই শিল্পোন্নত অর্থনীতি নয়

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারণাটি ভালোভাবে বোঝা দরকার। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য গেলেই বাংলাদেশে শিল্প গড়ে ওঠে না। একটি কনটেইনার বন্দর হয়ে সড়ক ধরে চলে যেতে পারে। পথে দেশের ভেতরে খুব সামান্য মূল্য সংযোজন হয়।

মাতারবাড়ী শিল্পায়নের মাধ্যম হতে হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ লাগবে। বিনিয়োগ দরকার শিল্প, সরবরাহ-শৃঙ্খল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্যোক্তা তৈরিতে। সরকারকে প্রশ্ন করতে হবেÑকারখানা কে বানাবে? দক্ষ শ্রমিক কে নিয়োগ দেবে? উচ্চমূল্যের উৎপাদন-ধাপের লাভ কে পাবে?

সীমান্তের ওপারে যদি উৎপাদন বাড়তে থাকে আর বাংলাদেশ শুধু ট্রানজিট পথ হয়ে থাকে, তাহলে লাভের ভাগাভাগি অসম থেকে যাবে। তাই জাপানের ভূমিকা মাপতে হবে বাংলাদেশের উৎপাদন-সক্ষমতায় তার বিনিয়োগ দিয়ে।

চুক্তিতে যা লিখিত থাকতে হবে

বাণিজ্যিক চলাচলের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। চুক্তিতে স্পষ্ট করে নির্ধারণ করতে হবে—পণ্যের ধরন, পরিদর্শন প্রক্রিয়া, দায়বদ্ধতা, বীমা, পরিবেশগত বিষয় ও বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি।

বাণিজ্যিক ট্রানজিট যেন গোপন নিরাপত্তাগত সুবিধা বা প্রবেশাধিকারের উৎস হয়ে না যায়।

বাংলাদেশের আরো কিছু অধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত থাকা উচিত—জরুরি অবস্থায় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার, নিজের আইন প্রয়োগের অধিকার এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে শুল্ক পর্যালোচনার অধিকার।

এসব সুরক্ষা থাকলে বাণিজ্য অনির্ভরযোগ্য হয়ে যায় না। স্পষ্ট নিয়ম বরং বাণিজ্যকে শক্তিশালী করে, আবার সার্বভৌমত্বও রক্ষা করে। দুর্বলতা আসে অস্পষ্টতা থেকে, বিশেষ করে যখন এক পক্ষের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি।

মাতারবাড়ী বন্দর একাধিক অংশীদারের বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ব্যবসার জন্যও খোলা থাকা উচিত। একটিমাত্র দেশের কার্গোর ওপর নির্ভর করলে বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যেতে পারে। রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটলে প্রত্যাশিত আয়ও ঝুঁকিতে পড়বে।

সরকারকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে

অসম চুক্তি নিয়ে জনরোষের সম্ভাবনা উপেক্ষা করলে সরকার বড় ভুল করবে। নাগরিকদের কিছু বিষয় জানার অধিকার আছে। যেমন : বিদেশিদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকার কেন ঋণ নেবে? কেন সেই ঋণের গ্যারান্টি দেবে? বিনিময়ে দেশ কতটা কাজ ও অর্থ পাবে?

কোনো প্রকল্পে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সরকারের উচিত জনগণকে চুক্তির শর্ত জানানো, যথাযথ সমীক্ষা করা এবং সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়া।

প্রকাশিত বিবরণে থাকতে হবে রাজস্বের পরিমাণ, ঋণ, খরচের ভাগ এবং কার্গো প্রত্যাশামতো না এলে কী প্রভাব পড়বে।

আরো কিছু বিষয় আছে। যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে এবং যারা পরিবেশগত পরিবর্তনের ক্ষতি সইবে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ভারত কেন প্রবেশাধিকার চায়, তা বোঝা সহজ। জাপান কেন এই অঞ্চলে শিল্প-নেটওয়ার্ক চায়, তাও বোঝা সহজ। বাংলাদেশকেও নিজের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ঠিক করতে হবে। যে প্রস্তাব দুই পক্ষের জন্য লাভজনক নয়, তা নতুন করে ভেবে দেখতে হবে। ভারতের সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে, কিছু না পেয়ে শুধু দিয়ে যেতে হবে।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রের সাভানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৮ সালের শুরুতেই অলিম্পিক ক্রিকেটের বাছাই পর্ব শুরু হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ এম


২০২৮ সালের শুরুতেই অলিম্পিক ক্রিকেটের বাছাই পর্ব শুরু হবে

১২৪ বছর পর ক্রিকেট অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরে আসছে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য দলগুলোর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের শুরুতেই। পূর্বে ২০২৭ সালে এই প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সূচিতে পরিবর্তন এনে অলিম্পিক শুরুর ছয় মাসেরও কম সময় আগে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সদস্য দেশগুলোর কাছে যে হালনাগাদ সূচি পাঠানো হয়েছে, তাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সূচিতে অলিম্পিক বাছাই পর্বের পাশাপাশি ২০২৮ সালের পুরুষ ও নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৯ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ফাইনালের সময়ও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৯ ডব্লিউটিসি ফাইনাল ৮ থেকে ১২ জুন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ৬টি করে দল অংশগ্রহণ করবে। অলিম্পিক বাছাইপর্বের ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে জানা গেছে, প্রতিটি বিভাগে ৮টি করে দল খেলবে। সরাসরি জায়গা করে নেওয়া দল ছাড়া, র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা সাতটি দল এবং ক্যারিবীয় আঞ্চলিক বাছাইয়ের চ্যাম্পিয়ন দলকে নিয়ে বাছাইপর্ব গঠন করা হবে।

১৯০৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এই প্রথমবার ক্রিকেট অলিম্পিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই সরাসরি খেলার সুযোগ পেতে পারে, তবে এজন্য আইসিসির শর্ত পূরণ করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১৫ এর মধ্যে থাকতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ এম


রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

১.

পাঁচ আগস্টের আগে কেউ জানতো না, শেখ হাসিনা পালাবেন। এমনকি শেখ হাসিনাও জানতেন না, সেদিন তাকে এভাবে পালাতে হবে। কিন্তু পালাতে হলো তাকে। পালাতে হলো কারণ, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি বুঝতে পারতেন না, তার অপরাধটা আসলে কী! তিনি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বক্তৃতায় গর্বের সঙ্গে বলতেন, ‘তার অপরাধ কী, তিনি তা বোঝেন না।’ একজন মানুষের চিন্তায় কতটা দৈন্য থাকতে পারে যে, হাজার অপরাধ করেও সে বুঝতে পারে না তার অপরাধ কী? যে ব্যক্তি ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে পারে না, তার ন্যায়ের চেয়ে অন্যায় করার আশঙ্কাই বেশি থাকে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছে এবং তা তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে হয়েছে।

বিশের দশকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার স্লোগান ছিল—‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’ শিখা পত্রিকার এই স্লোগানের তাৎপর্য হয়তো শেখ হাসিনা কখনোই উপলব্ধি করার চেষ্টা করেননি তার জ্ঞানবুদ্ধির সীমাবদ্ধতার কারণে। অন্যদিকে, যারা তাকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিতেন, তারা কেউই শেখ হাসিনার মঙ্গল চাননি। তারা সবাই ছিলেন ধান্দাবাজ। স্বভাবগত কারণে ধান্দাবাজদের পরামর্শ হাসিনা পছন্দ করতেন এবং তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞও ছিলেন।

শেখ হাসিনার পরামর্শদাতা ধান্দাবাজদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দিল্লির নীতিনির্ধারকরা। তারাই শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সব রসদ জুগিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পেছনে দিল্লির স্বার্থ ছিল বহুবিধ। এর মধ্যে ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ অন্যতম। দিল্লি এখনো সে স্বার্থ চরিতার্থ করার ফন্দি অব্যাহত রাখতে চাইছে। সে সুযোগও আছে; কারণ দিল্লির আশীর্বাদে এ দেশের অধিকাংশ রাজনীতিক বাংলাদেশ শাসনের স্বপ্ন দেখেন। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষ সতর্ক না হলে হাসিনার অনুপস্থিতিতেও ’২৪-এর নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়িত নাও হতে পারে।

২.

হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেন্দ্রিক ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। এজন্য দেশকে ঘিরে রাজনীতির সব নির্যাস এই অধ্যায়ে প্রবাহ সৃষ্টি করে। সেই রাজনীতির শুরুটা হয়েছিল পলাশী যুদ্ধের পর থেকে। ব্রিটিশরা ঢাকা ও মুর্শিদাবাদ কোনোটাকেই তাদের রাজধানী না রেখে কলকাতাকে (১৭৭২-১৯১১) রাজধানী করেছিল। সেখান থেকে এ দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রিত হতে থাকল।

ইংরেজরা এসেছিল ভারতবর্ষ থেকে মুনাফা করতে। মুনাফাকে নিরঙ্কুশ করতে গিয়ে তারা মুসলমানদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের জন্ম (১৯০৬) হয়েছিল। মুসলিম লীগের প্রতিরোধে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে তারা ভারতবর্ষকে মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী করে গড়ে তুলেছিল। ব্রিটিশদের এই কৌশল আয়ত্তে রাখতে পেরেছিলেন ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেস নেতারাও।

ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসি প্রয়োগ করে তারা পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করতে পেরেছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ পরিপূর্ণভাবে দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজনীতি করে এসেছে। আওয়ামী রাজনীতির এই জায়গাটা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-জনতা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। আবরার হত্যাকাণ্ড ছাত্রদের সামনে আওয়ামী রাজনীতির খোলসকে উন্মোচন করেছিল। ফলে আগস্ট বিপ্লবের ভিত্তি শক্ত হতে ও বিপ্লব সংঘটিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

এই বিপ্লবের পর জনমনে প্রত্যাশা যেমন সঞ্চারিত হয়েছে, তেমন শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। শঙ্কার জায়গাটা হলো, কোন আদর্শকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে, তা বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-জনতা এখনো পরিষ্কার করতে পারেনি। তারা এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেছে, ‘বিপ্লবকে ধারণ করার মতো সহনশীল যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।’ এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শগত সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু কোন মতাদর্শের ভিত্তিতে সংস্কার হতে হবে, তা স্পষ্ট নয়।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল চেতনা ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বিএনপির আদর্শ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। জামায়াতের রাজনীতির লক্ষ্য ও আদর্শ হলো কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা পরিচালনা করা। এখন বাংলাদেশ কোন দলের মতাদর্শকে আমলে নিয়ে চলবে, সেটা দ্রুত উত্থাপিত হওয়া জরুরি ছিল; কিন্তু তা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মাহফুজ আলম বলেছিলেন, ‘সংবিধানের চার মূলনীতির সংস্কার হওয়া দরকার।’ কিন্তু চার মূলনীতির পরিবর্তে কী হতে পারে, সেটা তিনি খোলাসা করেননি। এটি খোলাসা করতে পারলে রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত তাদের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারত।

৩.

চিন্তা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর চিন্তা তৈরি হয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। চিন্তার পরিবর্তন মানেই রাষ্ট্রের পরিবর্তন। কাজেই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনায় রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোর ভাবাদর্শগত সংস্কার হতে হবে। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, যারা এই দপ্তরগুলো পরিচালনা করবেন, তাদের মনন, চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন। রাজনৈতিক দলের নেতা ও আমলারাই রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য তাদের চিন্তার পুনর্গঠন হতে হবে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা ও মন-মেজাজ বিপ্লবের চেতনায় পুনর্গঠিত না হলে দাপ্তরিক পরিকাঠামোর পরিবর্তন খুব একটা কাজে আসবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য রিক্রুট প্রক্রিয়ায় আনতে হবে পরিবর্তন। সুনাগরিকতার মূল্যবোধে বিশ্বাসী লোকদের দলের সদস্য নির্বাচন করা যেতে পারে। দলের সদস্য হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতাও নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর সুনাগরিক তৈরির কাজটি করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেজন্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আমরা যদি বিশ্বাস করি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, তাহলে শিক্ষা কমিশন গঠন করা অপরিহার্য। কিন্তু কী কারণে এখনো শিক্ষা কমিশন গঠিত হলো না, তা বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। নিয়োগবাণিজ্য, পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবমূল্যায়ন, সরকারি-বেসরকারি বৈষম্যসহ হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারিকুলাম যোগ্য নাগরিক তৈরিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

শেখ হাসিনার শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে বিকৃত ইতিহাস গেলানোর মাধ্যমে মানবতার মৌলিক জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে শিক্ষিত মানুষগুলোই হয়ে উঠেছে জাতির সর্বনাশের মূল কারিগর। দেশবিমুখ ও সমাজবিমুখ স্বার্থান্বেষী শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এজন্যই দিল্লি বাংলাদেশে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থাই সবসময় রাখতে চেয়েছে। আমরা খেয়াল করেছি, বাংলাদেশে একটি ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা বহাল রাখতে দিল্লিপন্থি একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করে যাচ্ছে। এই চক্রকে উচ্ছেদ করতে শিক্ষাকমিশন গঠন করা জরুরি। এই কমিশন করতে না পারলে জাতি ভুল জীবনদর্শনে পড়ে হাবুডুবু খাবে এবং জনগণের প্রত্যাশামাফিক কল্যাণরাষ্ট্র পেতে আরো বিলম্ব হতে পারে।

৪.

রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এসেছে, এটাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। ‘নিজে বাঁচলে বাপের নাম’—এই পুরোনো চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে নিজেদেরও পুনর্গঠিত হওয়া দরকার। নতুনের এই পথচলায় ঢাকাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রের ধারণা থেকে বেরিয়ে গ্রামগঞ্জের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিয়ে গ্রামীণ জনপদের উৎপাদনমুখী কৃষি এবং কৃষকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষক এবং কৃষকের সন্তান নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে আর যেন বঞ্চিত না হন, তার বন্দোবস্ত থাকতে হবে সংস্কারের তালিকায়।

গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বিনা সুদে ঋণ ও ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার মতো এককালীন অর্থ-সহযোগিতার ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কৃষি ও কৃষক অবহেলিত—এই বক্তব্য যেন আর শুনতে না হয়, সেজন্য বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন থাকা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত প্রান্তিক কৃষকেরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। কৃষকেরাও স্বপ্ন দেখেন—তাদের সন্তানও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করুক। কৃষকের অর্জিত সম্পদ যেন কেউ নানা ফন্দির মাধ্যমে আত্মসাৎ করতে না পারে এবং তার পণ্যের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা হয়—এটি একজন কৃষকের ন্যায্য দাবি। তাদের স্বপ্ন পূরণ ও দাবি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ। ‘কৃষক হাসলে বাংলাদেশও হাসবে’—এই চিন্তা সবার মাথায় রেখে সামনের পথ পাড়ি দিতে পারলেই কেবল একাত্তর ও চব্বিশ সফল হতে পারে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, হাকিমপুর মহিলা কলেজ, দিনাজপুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ৩৮.৪% শিশু সিসাদূষণের ঝুঁকিতে, শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি গুরুতর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ এম


দেশের ৩৮.৪% শিশু সিসাদূষণের ঝুঁকিতে, শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি গুরুতর

দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায়, রক্তে এই মাত্রাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে প্রায় চারজনের রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তাদের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা পাওয়া গেছে। শিল্পাঞ্চলের আশপাশে বসবাসকারী শিশুদের অবস্থা আরো উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বহুমাত্রিক গুচ্ছ জরিপের (এমআইসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায়, রক্তে এই মাত্রাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শিশুদের জন্য সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চলের নিকটবর্তী বসবাসকারী ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমায় বা তার বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, গর্ভবতী নারীদের ৭ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তেও সিসার মাত্রা একই পর্যায়ে পাওয়া গেছে। গর্ভাবস্থায় সিসা মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের কাছে পৌঁছাতে পারে, যা শিশুর বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি রয়েছে। সিলেটে এ হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ, বরিশালে ২৯ শতাংশ, রংপুরে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

শহরের শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও গ্রামীণ এলাকা নিরাপদ নয়। এমআইসিএসের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৪০ শতাংশ এবং গ্রামের ৩৬ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পাঁচ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

গবেষকরা ধারণা করছেন, শিল্পবর্জ্য, পুরনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার, দূষিত ধুলা-মাটি, রং, খেলনা এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের মাধ্যমে শিশুরা সিসার সংস্পর্শে আসতে পারে। তবে কোন উৎস থেকে কতটা দূষণ ঘটছে, তা নিশ্চিত করার জন্য আরো পরীক্ষা প্রয়োজন।

পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন, "সিসা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শিশুদের মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।" তিনি বলেন, ক্ষতি আরো ছড়িয়ে পড়ার আগেই সিসার উপস্থিতি শনাক্ত করা, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসাদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রক্ত ও পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং দূষণের উৎসের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সিসাযুক্ত রং ও পণ্যের মানদণ্ড কার্যকর করা এবং শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে, ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধ’। সিসার বিষক্রিয়া ঘটার আগেই দূষণের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%