ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৮ ট্রেন ও ২৩ রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ, বিপাকে নিম্ন আয়ের যাত্রীরা


৮ ট্রেন ও ২৩ রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ, বিপাকে নিম্ন আয়ের যাত্রীরা

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমিউটার ট্রেনে করে নেত্রকোণার মোহানগঞ্জে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন গোপাল চন্দ্র পাল। তিনি যখন দুইজনের জন্য দুটি টিকিট চাইলেন, তখন কাউন্টার থেকে দুটি টিকেটের টাকা নেওয়া হলেও আসন নম্বর দেওয়া হয়েছে একটি। অপরটির জন্য উল্লেখ করা হয়েছে ‘স্ট্যান্ডিং’ (দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট)।

দুটি টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, আসন সংকটের কারণে একজন যাত্রী যখন টিকিট কিনতে যান, তখন একটির বেশি আসন দেওয়া সম্ভব হয় না।

টিকিট কাউন্টারের এমন ব্যাখ্যা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোপাল চন্দ্র বলেন, “আমি টাকা দিয়ে টিকিট নেব। অথচ আসন দিতে পারবে না- এটা কেমন নিয়ম।”

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

এদিকে, টিকিট কাউন্টারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে গোপাল চন্দ্র ময়মনসিংহ স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্টের কক্ষে যান, কিন্তু সুপারিনটেন্ডেন্টও একই ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ থেকে মোহানগঞ্জগামী লোকাল ট্রেনটি প্রায় এক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেসরকারিভাবে চলাচাল করা কমিউটার ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এভাবেই টিকিট বিক্রি করছে।”

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন হয়ে জামালপুর, ভৈরব ও মোহানগঞ্জ রুটে চলাচল করা আটটি লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। গত আট বছরের মধ্যে এসব ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ওইসব এলাকার যাত্রী বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই রুটগুলোতে থাকা বিভিন্ন স্টেশনও বন্ধ হতে শুরু করে। বর্তমানে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচল করা বিভিন্ন রুটে মোট ২৩টি স্টেশনে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রেলের সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। ছোটখাট ব্যবসার মালামাল পরিবহন ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

রবিবার (২৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন গিয়ে ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী ও রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে শতশত নারী একসময় প্রতিদিন ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে আসা-যাওয়া করতেন। তারা শহর থেকে গৃহস্থালি পণ্য কিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করতেন।

এছাড়া একই স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে বিক্রি করতেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যায় বিসকা স্টেশনটির কার্যক্রম। তবে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ময়মনসিংহ থেকে ভৈবর, মোহানগঞ্জ ও জারিয়াগামী ট্রেন অল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দিত।

বর্তমানে ভৈরব-মোহনগঞ্জ রুটের চার জোড়া ট্রেন বন্ধ রয়েছে। এতে বিসকা স্টেশন হয়ে ময়মনসিংহে আসা গৌরীপুর ও তারাকান্দা উপজেলার হাজারো নিম্ন আয়ের যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছে। বর্তমানে লোকাল ট্রেন শুধু ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটে চলাচল করছে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইঞ্জিন সংকটের কারণে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন হয়ে ভৈরব চলাচল করা দুই জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আর ময়মনসিংহ-মোহানগঞ্জ রুটে চলাচল করা দুই জোড়া লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে দেওয়াগঞ্জগামী, ময়মনসিংহ থেকে যমুনা সেতুগামী ধলেশ্বরী এবং ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) রুটে একটি মেইল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আটটি ট্রেন গত কয়েক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ট্রেন প্রতিদিন অন্তত ১৮ বার চলতো।

সূত্রে আরো জানা যায়, ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ও পরে ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ২৩টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মূলত রেলের লোকবল সংকটের কারণে এসব স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলো হলো ময়মনসিংহ জেলার বিসকা, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, ধলা ও বাইগন বাড়ি; নেত্রকোনা জেলার হিরণপুর, বাংলা ও অতিথিপুর এবং জামালপুর জেলার দুরমুট, জাফরশাহী ও বাউশি রেলওয়ে স্টেশন।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আর লোকবল সংকটের কারণে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করে।

সুপারিনটেন্ডেন্ট আরো বলেন, “এসব ট্রেন ও স্টেশন পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, “রেলওয়ের ইঞ্জিন কেনার বিষয়টি সরাসরি আমার বিভাগের নয়। তবু যতদূর জানি, সরকারের ৩০টি ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কেনা হলে হয়তো ময়মনসিংহ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি কার্ডের আয়ের ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


বিদেশি কার্ডের আয়ের ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশি টাকায় ভাঙাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সুযোগটি হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিক্রির বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রিতে আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেনের বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখা যাবে।

এই সুযোগের আওতায় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষণের পরিমাণ মোট প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশি টাকায় ভাঙিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষিত অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা সার্কুলারের প্রথম অংশের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর।

এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। এসব বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিক্রির বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের সীমা, অবশিষ্ট অর্থ টাকায় রূপান্তর, বৈধ লেনদেনে অর্থের ব্যবহার এবং কর, মূসক ও অর্থপাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান মেনে চলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে চিকেন স্যান্ডউইচ: ধনী-গরিবের ব্যবধানের প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


লেবাননে চিকেন স্যান্ডউইচ: ধনী-গরিবের ব্যবধানের প্রতীক

ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলীয় দেশ লেবাননে আর্থিক বিপর্যয়ের সাত বছর পর একটি চিকেন স্যান্ডউইচের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা ধনী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে ব্যবধানকে সামনে এনেছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে কিছু ক্রেতা বিলাসী জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানী বৈরুতের স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের জন্য ‘দ্য গ্লো প্যারাডাইস’ নামের একটি রেস্তোরাঁ ‘চিক তাউক’ স্যান্ডউইচ চালু করেছে। লেভান্ত অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবার শিশ তাউকের স্বাস্থ্যসম্মত সংস্করণ হিসেবে তৈরি এই স্যান্ডউইচের দাম প্রায় ১৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈরুতে সাধারণ একটি চিকেন স্যান্ডউইচের তুলনায় এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে অতিরিক্ত দাম আদায় বলে সমালোচনা করেছেন।

সমালোচনাও পুঁজি

তবে সমালোচনার পরও বিক্রির সংখ্যা কমেনি। রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার হারাগ জেঘালিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি ‘চিক তাউক’ স্যান্ডউইচ বিক্রি হয়েছে। অনলাইনে বিতর্ককে তিনি স্বাভাবিক বিপণন কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন।

বৈরুতের সেন্ট জোসেফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সামি নাদের মন্তব্য করেছেন, রেস্তোরাঁয় ক্রেতাদের ভিড় দেখে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। তবে গত মাসে অন্তত ২২টি রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে।

আর্থনৈতিক বিপর্যয়

২০১৯ সালে দুর্নীতি ও শাসকগোষ্ঠীর লাগামহীন ব্যয়ের কারণে লেবাননে আর্থিক বিপর্যয় শুরু হয়। এরপর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ২০২০ সালে বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণ এবং একাধিক সংঘাত পরিস্থিতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিলের গত সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি পাঁচটি পরিবারের চারটি মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ নাদেরের মতে, ধারাবাহিক সংকটে লেবাননের মধ্যবিত্ত শ্রেণি কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জেনারেটরের খরচও বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে জেনারেটরের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। অথচ দেশটির ন্যূনতম মজুরি ৪০০ ডলার।

বৈরুতের হামরা এলাকার ৫৩ বছর বয়সী রেস্তোরাঁকর্মী ফুয়াদ ফাখরেদ্দিন জানিয়েছেন, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জন্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বেতন পাওয়ার পরেও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ বছর পলাতক মাসুদ মিয়া গ্রেপ্তার, ৪ বছরের সাজা রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


২০ বছর পলাতক মাসুদ মিয়া গ্রেপ্তার, ৪ বছরের সাজা রয়েছে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সশ্রম কারাদন্ডের আদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসুদ মিয়াকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুদ মিয়া উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি-বুড়িভিটা গ্রামের ভুলু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ মিয়া এলাকায় চিহ্নিত মাদককারবারি ছিলেন। ২০০৪ সালে মাদকদ্রব্য বিক্রির সময় তৎকালীন শাহজাহানপুর থানা পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই থানায় মামলা করা হয়। পরে বগুড়ার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত ২০০৬ সালে ওই মামলায় তাকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।

এদিকে বিচারকের রায় ঘোষণার আগে মাসুদ মিয়া উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক থাকা অবস্থায় আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পলাতক ছিলেন তিনি।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাসুদ মিয়াকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ গঠনে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরি: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


দেশ গঠনে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরি: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তরুণদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ মোকাবেলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হলে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের মিলনায়তনে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারটি সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলী। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রধান ও পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুনন্নাহার সুমি এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব আবু আহমেদ।

এসময় বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পরিসংখ্যানের প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ ও একটি পরিবার রয়েছে, যারা প্রায়ই একাকী এবং নীরবে এ সংকট মোকাবিলা করেন বলে উল্লেখ করেন। অনেকেই মানসিক অসুস্থতাকে রোগ হিসেবে না দেখে দুর্বলতা, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, পাপের ফল কিংবা জিন-ভূত বা জাদুটোনার প্রভাব মনে করেন। সামাজিকভাবে ‘পাগল’ তকমা পাওয়ার ভয়ে অনেকে চিকিৎসা নিতে দ্বিধা করেন। পরিবারগুলোও অনেক সময় বিষয়টি গোপন রাখে, ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%