প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমিউটার ট্রেনে করে নেত্রকোণার মোহানগঞ্জে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন গোপাল চন্দ্র পাল। তিনি যখন দুইজনের জন্য দুটি টিকিট চাইলেন, তখন কাউন্টার থেকে দুটি টিকেটের টাকা নেওয়া হলেও আসন নম্বর দেওয়া হয়েছে একটি। অপরটির জন্য উল্লেখ করা হয়েছে ‘স্ট্যান্ডিং’ (দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট)।
দুটি টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, আসন সংকটের কারণে একজন যাত্রী যখন টিকিট কিনতে যান, তখন একটির বেশি আসন দেওয়া সম্ভব হয় না।
টিকিট কাউন্টারের এমন ব্যাখ্যা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোপাল চন্দ্র বলেন, “আমি টাকা দিয়ে টিকিট নেব। অথচ আসন দিতে পারবে না- এটা কেমন নিয়ম।”
এদিকে, টিকিট কাউন্টারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে গোপাল চন্দ্র ময়মনসিংহ স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্টের কক্ষে যান, কিন্তু সুপারিনটেন্ডেন্টও একই ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ থেকে মোহানগঞ্জগামী লোকাল ট্রেনটি প্রায় এক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেসরকারিভাবে চলাচাল করা কমিউটার ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এভাবেই টিকিট বিক্রি করছে।”
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন হয়ে জামালপুর, ভৈরব ও মোহানগঞ্জ রুটে চলাচল করা আটটি লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। গত আট বছরের মধ্যে এসব ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ওইসব এলাকার যাত্রী বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সূত্র জানায়, ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই রুটগুলোতে থাকা বিভিন্ন স্টেশনও বন্ধ হতে শুরু করে। বর্তমানে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচল করা বিভিন্ন রুটে মোট ২৩টি স্টেশনে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
রেলের সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। ছোটখাট ব্যবসার মালামাল পরিবহন ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন গিয়ে ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী ও রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে শতশত নারী একসময় প্রতিদিন ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে আসা-যাওয়া করতেন। তারা শহর থেকে গৃহস্থালি পণ্য কিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করতেন।
এছাড়া একই স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে বিক্রি করতেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যায় বিসকা স্টেশনটির কার্যক্রম। তবে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ময়মনসিংহ থেকে ভৈবর, মোহানগঞ্জ ও জারিয়াগামী ট্রেন অল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দিত।
বর্তমানে ভৈরব-মোহনগঞ্জ রুটের চার জোড়া ট্রেন বন্ধ রয়েছে। এতে বিসকা স্টেশন হয়ে ময়মনসিংহে আসা গৌরীপুর ও তারাকান্দা উপজেলার হাজারো নিম্ন আয়ের যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছে। বর্তমানে লোকাল ট্রেন শুধু ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটে চলাচল করছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইঞ্জিন সংকটের কারণে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন হয়ে ভৈরব চলাচল করা দুই জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আর ময়মনসিংহ-মোহানগঞ্জ রুটে চলাচল করা দুই জোড়া লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে।
এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে দেওয়াগঞ্জগামী, ময়মনসিংহ থেকে যমুনা সেতুগামী ধলেশ্বরী এবং ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) রুটে একটি মেইল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আটটি ট্রেন গত কয়েক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ট্রেন প্রতিদিন অন্তত ১৮ বার চলতো।
সূত্রে আরো জানা যায়, ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ও পরে ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ২৩টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মূলত রেলের লোকবল সংকটের কারণে এসব স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলো হলো ময়মনসিংহ জেলার বিসকা, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, ধলা ও বাইগন বাড়ি; নেত্রকোনা জেলার হিরণপুর, বাংলা ও অতিথিপুর এবং জামালপুর জেলার দুরমুট, জাফরশাহী ও বাউশি রেলওয়ে স্টেশন।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আর লোকবল সংকটের কারণে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করে।
সুপারিনটেন্ডেন্ট আরো বলেন, “এসব ট্রেন ও স্টেশন পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, “রেলওয়ের ইঞ্জিন কেনার বিষয়টি সরাসরি আমার বিভাগের নয়। তবু যতদূর জানি, সরকারের ৩০টি ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কেনা হলে হয়তো ময়মনসিংহ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন