মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৯ এম
পূর্ব স্পেনে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে বেশ কিছু শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত শনিবার শুরু হওয়া অ্যাডাম ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যার পানির কারণে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নদীর পানি উপচে পড়ছে এবং রাস্তাঘাট খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্য দুই বছর আগে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উপকূলীয় রিসোর্ট শহর অলিভাতে দুজন, সাগুনতোর একটি সৈকতে একজন এবং কাতালোনিয়ায় একটি খরস্রোতা খালে পড়ে আরেকজন মারা গেছেন।
এদিকে সোমবার সকালে ৮ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকেল নাগাদ এই নির্দেশ শুধুমাত্র আটটি মিউনিসিপ্যালিটির ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য কার্যকর রাখা হয়।
সরকারি প্রতিনিধি পিলার বের্নাবের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, বাড়ির ছাদে আটকা পড়া ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝড়টি ব্যালেরিক দ্বীপপুঞ্জ এবং কাতালোনিয়াতেও আঘাত হানে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সোমবার প্রায় ১০০টি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
আঞ্চলিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিকেলের আগেই অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
আলিকান্তের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এলস পোবলেতস এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে গাড়ি ও ভ্যানগুলো একে অপরের ওপর স্তূপ হয়ে জমে গেছে। বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে যতটুকু সম্ভব জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেজ বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা—সত্যি বলতে, এটি একটি বিপর্যয়। ২০০৭ সালেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। তখন মানুষ সবকিছু হারিয়েছিল, আর এবারও তারা আবারও সবকিছু হারাল।’
সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার মূলত অলিভা এলাকা থেকে ২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যালেন্সিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
পেগোর মেয়র এনরিক মল সোমবার আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম ‘আ পুন্ত’ রেডিওকে জানান, বেশ কয়েকজন মানুষ এখনো তাদের বাড়ির ছাদে আটকা পড়ে আছেন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘এইএমইটি’ শুক্রবার জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট ছিল স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ইতিহাসে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। এর ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসটিও ছিল দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ সেপ্টেম্বর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের ফলস্বরূপ শ্বশুরের কুড়ালের আঘাতে জামাই নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার কারী গোলাম রহমানের পুত্র। অপরদিকে, অভিযুক্ত শ্বশুর তরিকুল ইসলাম ওই গ্রামের গাজী রহমানের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাই আব্দুর রহমান গতকাল শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিছুদিন ধরে শশুর ও জামাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এর ফলে আজ ভোররাতে শ্বশুর তরিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে আব্দুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় এলাকাবাসী মিথ্যা অভিযোগ, বানোয়াট সংবাদ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মামুরদী ও হরিহরদী গ্রামের জনগণের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মামুরদী গ্রামের আল আমিন, শাহ জালাল, জাকির, শাহ আলম, গিয়াসউদ্দিন, সাইদ ও শফিকুল এবং হরিহরদী গ্রামের আল আমিন, মাসুম, সামসুল ডাক্তার ও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন যে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা সবাই মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তারা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, "কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত।" যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ বা অভিযোগ প্রচার করা হলে এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত লোকজন একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা মিথ্যা অভিযোগ এবং বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনিতা কানওয়াল, যিনি একসময় বলিউডের একজন প্রভাবশালী অভিনেত্রী ছিলেন, বর্তমানে কাজের সন্ধানে রয়েছেন। তার হাতে যে সঞ্চয় রয়েছে, তা দিয়ে তিনি আর বড়জোর এক বছর চলতে পারবেন। কাজের প্রয়োজন শুধু অর্থের জন্য নয়, বরং মানসিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। যদিও তার সন্তানরা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত, তবুও তাদের ওপর নির্ভরশীল হতে চান না এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল বিকি লালওয়ানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অনিতা কানওয়াল তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি জানান, তার হাতে থাকা সঞ্চয় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দৈনন্দিন খরচ সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে আয় করতে হবে। হয়তো আরও ১০ বছর বাঁচব, কিংবা ২০ বছর। এই সময়টাতে আমি কী করব? আমি একটি সুন্দর বাড়িতে থাকি। বাড়িটির কিছু অংশ আমার বাবা-মা তৈরি করেছিলেন। বাকি অংশের জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, যা পরে শোধ করেছি। এটিই আমার একমাত্র সম্পদ। কিছু সঞ্চয় আছে, তবে জানি, এক বছরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। তাই আমার কাজ প্রয়োজন। আমার তহবিল ফুরিয়ে আসছে।”
অনিতা জানান, তার সন্তানরা তাকে নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। তারা আর্থিকভাবে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু তিনি চান না সন্তানদের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটাতে। বরং আগের মতোই সন্তানদের উপহার দেওয়ার এবং প্রয়োজনের সময় অন্যদের সাহায্য করার সামর্থ্য ধরে রাখতে চান।
তিনি বলেন, “আমি কখনোই এমন অবস্থায় পৌঁছাতে চাই না, যখন সন্তানদের ওপর নির্ভর করতে হবে কিংবা তাদের কাছে কিছু চাইতে হবে। আমি সব সময়ের মতো তাদের দিয়ে যেতে চাই। তারা মাঝেমধ্যে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘মা, তুমি এখনো আমাদের জন্মদিনে উপহার দাও কেন?’ তারা এমন কথা বললে আমার কষ্ট হয়। কারণ, উপহার দিতে আমার ভালো লাগে। আমি এমন অবস্থানে থাকতে চাই, যেন সেটা চালিয়ে যেতে পারি।”
অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার দাদা ছোটবেলায় তাকে শিখিয়েছিলেন, মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিবর্তে অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করা উচিত। তার দাদা হিমাচল প্রদেশের একজন কৃষক ছিলেন। সেই শিক্ষা এখনও তার মনে রয়েছে।
খরচের বিষয়ে সতর্ক থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। নিজের পাশাপাশি যারা তার জন্য কাজ করেন, তাদের দায়িত্বও পালন করতে হয়।
কাজে ফেরার বিষয়ে অনিতা বলেন, তিনি কাজের জন্য মরিয়া নন। তবে তিনি চান তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হোক। তার অভিযোগ, বিনোদনজগতের অনেক তরুণই তার আগের কাজ সম্পর্কে জানেন না। আবার কখনও কখনও তার কাছে এমন চরিত্রের প্রস্তাব আসে, যেগুলো তার চেয়ে অনেক কম বয়সি নারীদের উপযোগী।
অডিশন দেওয়ার পর এবং কাস্টিং পরিচালকদের সঙ্গে দেখা করার পরও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিনয়ের প্রস্তাব পাননি তিনি। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের আত্মসম্মান ও স্বাবলম্বিতা ধরে রেখে কাজ চালিয়ে যেতে চান এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভালোবাসার মানুষটি হয়তো প্রতিদিনই বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ কিন্তু কখনো কি মনে হয়েছে, কথাটি শুনেও মনের ভেতর কোথাও একটা শূন্যতা রয়ে গেছে? সঙ্গী ভালোবাসেন, অথচ তার আচরণে সেই ভালোবাসার নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়া যায় না। কখনো উত্তর দিতে দেরি করা, কখনো হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া, আবার কখনো মনোমালিন্যের পর দূরত্ব তৈরি হওয়া— এসব ছোট ঘটনাও সম্পর্কে জন্ম দিতে পারে অনিশ্চয়তা।
সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার কথা বলাই যথেষ্ট নয়, সেই ভালোবাসার অনুভূতি সঙ্গীর কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্পরিক আশ্বাস সম্পর্ককে নিরাপদ ও স্থিতিশীল অনুভব করতে সাহায্য করে। কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকার কথা জানানো কিংবা ছোট্ট একটি খোঁজ নেওয়াও সম্পর্কের গভীরতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পর্কে মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে
একটি সুস্থ সম্পর্কে দুজন মানুষই চান, তাদের অনুভূতি গুরুত্ব পাক। সঙ্গী যখন ব্যস্ততার মধ্যেও খোঁজ নেন, কোনো কাজের প্রশংসা করেন কিংবা ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেন, তখন অন্যজন বুঝতে পারেন যে তিনি এই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু মুখের কথায় নয়, আচরণেও সেই ভালোবাসার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকলে সম্পর্কের প্রতি আস্থা বাড়ে। তখন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা কিংবা দুর্বল মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়াও সহজ হয়।
ছোট সন্দেহ বড় সমস্যা হওয়ার আগেই থামায়।
সঙ্গী হঠাৎ মেসেজের উত্তর দিতে দেরি করছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে কম কথা বলছেন কিংবা কোনো কারণে চুপচাপ আছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি কি রাগ করেছেন? আগের মতো ভালোবাসেন না? নাকি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন?
অথচ এর পেছনে থাকতে পারে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা মানসিক ক্লান্তি। বিষয়টি পরিষ্কার করে জানালে অপ্রয়োজনীয় ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
‘আজ খুব ব্যস্ত আছি, তবে তোমার কথা মনে আছে’— এমন একটি ছোট বার্তাও সঙ্গীর মনে স্বস্তি এনে দিতে পারে। অনুমানের ওপর নির্ভর না করে খোলামেলা কথা বলাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।
মনোমালিন্যের সময় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় কমায়।
মতবিরোধ যেকোনো সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ঝগড়ার সময় অনেকেই ভয় পান, এই মতবিরোধের কারণে সঙ্গী হয়তো সম্পর্ক ছেড়ে চলে যাবেন। ফলে মূল সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে তারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এমন সময়ে আশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সঙ্গীকে বলা যায়, ‘আমাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে, কিন্তু আমি চাই আমরা কথা বলে এর সমাধান করি।’
এ ধরনের কথা দুজনকেই বুঝতে সাহায্য করে, মতের অমিল মানেই ভালোবাসার অবসান নয়। এতে একে অপরকে দোষারোপ না করে সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
সঙ্গীকে নিজের গুরুত্ব অনুভব করায়
দীর্ঘদিনের সম্পর্কে অনেক সময় একে অপরের উপস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে যায় যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই কমে আসে। সঙ্গী প্রতিদিন যে পরিশ্রম করছেন, যত্ন নিচ্ছেন কিংবা ছোট ছোট দায়িত্ব পালন করছেন, সেগুলো আর আলাদা করে চোখে পড়ে না।
কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এসব প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। ‘আজ আমার জন্য এত কিছু করেছ, ধন্যবাদ’ কিংবা ‘তুমি পাশে থাকলে আমার ভালো লাগে’— এমন কথাগুলো সঙ্গীকে তার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
ভালোবাসা প্রকাশের জন্য জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা বিশেষ কোনো দিনের অপেক্ষা করতে হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বীকৃতিই সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখতে পারে।
কঠিন সময়ে দূরত্ব তৈরি হতে দেয় না।
কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা— জীবনের নানা পরিস্থিতিতে সঙ্গীকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
এমন সময়ে নিজের পরিস্থিতি খোলাখুলি জানানো এবং সঙ্গীর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো সম্ভব না হলেও, আন্তরিকভাবে খোঁজ নেওয়া কিংবা কিছুটা সময় কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্কের সংযোগ ধরে রাখা যায়।
সঙ্গীকে বোঝানো প্রয়োজন, বর্তমান সময়টা কঠিন হলেও সম্পর্কটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সাময়িক ব্যস্ততা বা দূরত্বকে ভালোবাসার অভাব বলে মনে করার আশঙ্কা কমে।
ভালোবাসার কথা নয়, আচরণেও চাই আশ্বাস
সম্পর্কে আশ্বাস দেওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি সন্দেহের জবাব দিতে হবে কিংবা সব সময় ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে। বরং এর অর্থ হলো, দুজনের মধ্যে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পাবেন না।
একটি ‘আমি আছি’, সময়মতো খোঁজ নেওয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা কিংবা ভুল হলে তা স্বীকার করা— এসব ছোট আচরণই ভালোবাসাকে বাস্তব করে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ