১০:১৯ এম
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৯/১১-এর মতো হামলা চালিয়ে সেটি ভবন বা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) হেফাজতে থাকা হামামি তদন্তকারীদের কাছে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটের মূল পাইলট স্মিত মাচ্চারকে সরিয়ে দিয়ে বিমানটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন হামামি। তার উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহ তৈরি না করে প্রয়োজনীয় অবতরণের অনুমতি নেওয়া এবং শেষ মুহূর্তে হামলা চালানো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগে হামামি জর্ডানের আকাশসীমায় ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্চার ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের পর হামামি জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্চারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হামলার সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পরে বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামামি এর আগেও হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তে এক ক্রু সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে তিনি সরে যান বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পরে জুন মাসে ইসরায়েল সফরের সময় হামলার প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহে মনোযোগ দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন বিমান সংস্থাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন হামামি। এ কারণেই ফ্লাইদুবাইকে বেছে নেওয়া হয় বলে তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন কিংবা জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক স্থাপনায় বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে হামামির জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামামির কাছ থেকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাননি এবং ইউএই ও সৌদি আরবের তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন
এদিকে ইউএইর কর্তৃপক্ষ হামামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামামি বর্তমানে ইউএইর হেফাজতে রয়েছেন এবং তার পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য অন্য কোনো সহযোগীর বিষয়ে তদন্ত চলছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন