১০:২০ এম
ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর দিক গোপন করার অভিযোগে তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে একটি মামলার শুনানি সোমবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলার রায়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আরও কয়েক ডজন জলবায়ু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল হতে পারে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
‘সানকর বনাম বোল্ডার’ নামে পরিচিত মামলাটি ২০১৮ সালে শুরু হয়। সেই সময়ে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহর ও বোল্ডার কাউন্টি এক্সনমবিল এবং সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
তাদের অভিযোগ, উক্ত কোম্পানি দুটি ‘জেনেশুনে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটিয়েছে ও এতে ভূমিকা রেখেছে’ এবং একই সঙ্গে তাদের পণ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে ‘তথ্য গোপন ও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।’
সানকর কলোরাডোয় একটি তেল শোধনাগার পরিচালনা করে। অপরদিকে, রকি মাউন্টেন অঞ্চলের কলোরাডোর সঙ্গে এক্সনমবিলের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান।
মামলাকারীরা দাবি করেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবানল, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনায় তারা কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বোল্ডারের মামলাটি একক কোনো ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর, অঙ্গরাজ্য, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সরকার এ ধরনের প্রায় ৪০টি মামলা দায়ের করেছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
এসব মামলা অনেকটা তামাক ও ওপিওয়েড বা শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির বিরুদ্ধে সফল আইনি লড়াইয়ের আদলে করা হয়েছে।
তেল কোম্পানিগুলোর দাবি, এসব মামলার মাধ্যমে তাদের ওপর বিপুল পরিমাণের এক ধরনের ‘কার্বন কর’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে জ্বালানি শিল্প বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, এমনকি কিছু কোম্পানি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে বলে তাদের যুক্তি।
কোম্পানিগুলোর আরও দাবি, এসব মামলা আসলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের একটি অবৈধ পদ্ধতি। তাই তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এসব মামলা বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
মামলাটি ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কোম্পানিগুলো রাজ্য আদালতে মামলা খারিজ করার আবেদন করে। সেখানেও তারা হেরে যায়। পরে কলোরাডো সুপ্রিম কোর্টেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে মামলাটি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়। সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মামলাটি শুনতে সম্মত হয়।
সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন বিবেচনা করবে।
প্রথমত, ফেডারেল আইন—বিশেষ করে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’—বোল্ডারের করা এই মামলা নিষিদ্ধ করে কি না।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন সংবিধান নিজেই এ ধরনের মামলা করার পথে বাধা সৃষ্টি করে কি না।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
তৃতীয়ত, মামলার মূল বিচার বা ট্রায়াল শুরু হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারে কি না।
পেস ইউনিভার্সিটির পরিবেশ আইনবিষয়ক অধ্যাপক ক্যাটরিনা কু এএফপিকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি শুধু তৃতীয় প্রশ্নটির ওপর গুরুত্ব দেয়, তাহলে বিষয়টি মূলত ‘সামনে ঠেলে দেওয়া’ হবে। কারণ, পরবর্তী সময়ে আবারও বড় আইনি প্রশ্নগুলো আদালতের সামনে আসতে পারে।
তবে ফেডারেল আইনসংক্রান্ত প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট যদি সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে এর প্রভাব একই ধরনের চলমান অনেক মামলার ওপর পড়তে পারে।
কুর মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত ‘এসব মামলা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে।’
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
অথবা আদালত মামলাগুলোর পরিধি সীমিত করে দিতে পারে। যেমন, কলোরাডোকে শুধু অঙ্গরাজ্যের ভেতরে হওয়া কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব আইন প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
‘ক্লাইমেট সুপারফান্ড’ নিয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
এই মামলার আইনি প্রশ্নগুলোর সঙ্গে তথাকথিত ‘ক্লাইমেট সুপারফান্ড’ আইনগুলোরও সম্পর্ক রয়েছে।
নিউইয়র্ক ও ভারমন্টে করা এসব আইনের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রকল্পের খরচের একটি অংশ দূষণকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আদায় করা।
আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত
গত মাসে নিউইয়র্কের আইনটি একটি ফেডারেল বিচারক বাতিল করে দেন। সুপ্রিম কোর্ট যদি এ ধরনের আইনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে আপিলের মাধ্যমে নিউইয়র্কের আইনটি পুনরায় কার্যকর করার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ ও উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জোনাথন অ্যাডলার বোল্ডারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি তেল কোম্পানিগুলোর আইনি যুক্তির সঙ্গে একমত নন এবং মনে করেন, এ ধরনের মামলা ‘আইনগতভাবে চালানো সম্ভব’। তবে মামলাগুলোর মূল দাবিগুলো যথার্থ কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মত দেননি।
অ্যাডলার বলেন, বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, নিল গোরসাচ ও ক্লারেন্স থমাসের অবস্থানের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। কারণ, তিনজনই অতীতে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে রাজ্যীয় আইনকে ব্যাপকভাবে নিষ্কিয় করার যুক্তি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই ধরনের জলবায়ু মামলার প্রতিও ওই বিচারপতিদের সংশয় থাকতে পারে।
শুনানির আগে রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো মামলাটি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
সমালোচকেরা তার তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ারের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আলিতো না থাকলেও রক্ষণশীল বিচারপতিদের ৫-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এখন ৪-৪ সমতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে ভোট সমান হলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে। সে ক্ষেত্রে কলোরাডোর রায় বহাল থেকে মামলাটি মূল বিচারের পর্যায়ে এগিয়ে যেতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন