রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ পি.এম
মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও বিভিন্ন বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিএনপি এই ঘটনার জন্য ক্ষুব্ধ ও বিব্রত।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গরু বাজারে মাদকবিরোধী যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত সুপারস্টার ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমরান সালেহ প্রিন্স এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সৃষ্ট জটিলতা থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কোনো প্রকার বাছবিচার ছাড়াই ‘বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলবাজি’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, ‘এই দুঃখজনক ঘটনায় বিএনপি ক্ষুব্ধ ও বিব্রত। তবে বিএনপি এতে জড়িত নয়। জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিএনপির অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, মিরপুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিএনপি ক্ষুব্ধ ও বিব্রত। দায়িত্ব পালনে কোনো দুর্বলতা, উদাসীনতা বা গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি দুই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, অপরাধের দায় প্রমাণ ছাড়া বিএনপির ওপর চাপানো যাবে না। তবে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
এমরান সালেহ প্রিন্স আরো বলেন, এসব হামলা ও ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বিএনপি কোনো অজুহাতে কোনো ঘটনার অপরাধীকে আড়াল করতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের থাকার সময়ে মিরপুরে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, এ জন্য বিএনপি দুঃখিত। বিএনপি জনগণের কাছে জবাবদিহি করে বলেই অপরাধীদের চিহ্নিত করছে। ঘটনার সময় নির্লিপ্ত থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান।’
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে ‘বিএনপির চাঁদাবাজি বা দখল’ বলে যে প্রচার করা হয়েছে, তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারিত হওয়ার আগে বিএনপিকে দায়ী করা দুরভিসন্ধিমূলক।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই বাছবিচার না করে শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বক্তব্য ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ সাকেরুল্লাহ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন ও মনিরুজ্জামান স্বাধীন, যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান আসিফসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া গাজীপুরকে শিল্প, প্রকৃতি ও পর্যটনের সমন্বয়ে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় জানান।
জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় গাজীপুরে আসতে মানুষের সময় ও শ্রম তুলনামূলকভাবে কম লাগে। রাজধানীর কোলাহল ও ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে মানুষ গাজীপুরে আসে। এখানকার সবুজ প্রকৃতি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং বিভিন্ন রিসোর্ট পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের তুলনায় গাজীপুরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। শিল্পের পাশাপাশি সবুজের সমারোহ ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। তাই পর্যটন খাতকে আরও পরিকল্পিতভাবে বিকশিত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এ জেলায়।
মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রিসোর্ট মালিকদের নিয়ে সভা করা হবে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভ্রমণপিপাসুরা জানতে পারবেন, কোনো রিসোর্টে কতটি কক্ষ খালি রয়েছে, ভাড়া কত এবং সেখানে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকেরা আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে রিসোর্ট মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গাজীপুরের রিসোর্টগুলোকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাকে একটি পর্যটনকেন্দ্রিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। শিল্প, প্রকৃতি ও পর্যটনের সমন্বয়ে গাজীপুরকে আরও আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এসি (ডিবি-উত্তর) মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গাজীপুরের ইনচার্জ মো. মাইন উদ্দিন, ডা. সিয়াম মোর্শেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে গাজীপুরের টুরিস্ট পুলিশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য-‘ডিজিটাল অ্যাজেন্ডা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পর্যটনের রূপান্তর’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) মোল্লা বক্তিয়ার রহমানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, বিদায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি ও কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, সবুজ কান্তি সিকদার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ ফকিরসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
বিদায় সংবর্ধনা শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বিদায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন,
দীর্ঘ অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে আজ বিদায় নিচ্ছি। পিরোজপুর জেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সব শিক্ষকের সহযোগিতায় কাজ করার চেষ্টা করেছি। কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার আজ যেভাবে আমাকে সম্মানিত ও ভালোবাসায় সিক্ত করল, তা আমার সারাজীবন স্মরণে থাকবে। পিরোজপুরের শিশুদের মানসম্মত ও আলোকিত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক সমাজকে ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।"্
অনুষ্ঠানের সভাপতি কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
আমাদের সম্মানিত ডিপিইও মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্যার পিরোজপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত ও আধুনিকায়নে অত্যন্ত দক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি তিনি শিক্ষকদের সাথে অভিভাবকের মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। আজকের এই আনুষ্ঠানিকতা মূলত তাঁর কর্মমুখর প্রতিভার প্রতি আমাদের সম্মান ও শুভকামনার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা তাঁর অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এবং শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিদায়ী অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও বিদায়ী উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের সমস্যাগুলি তুলে ধরার আশ্বাস প্রদান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার, রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠকে শিল্পটির সমস্যা, সম্ভাবনা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "তৈরি পোশাকসহ দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রপ্তানি বাড়াতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত শুনেছেন। তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার আহমেদ জানান, প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলা এবং জাতীয় সংসদে বিষয়গুলো তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সেক্টরের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে এ খাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছি। বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমাদের কথা শুনেছেন।"
শাহরিয়ার আহমেদ জানান, ডা. শফিকুর রহমান এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন দিতে অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের অনুরোধ করেছেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য ওই প্রতিবেদন কাজে লাগানো হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্যাকেজিং শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে এ খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক বাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের। অথচ এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য। প্যাকেজিং, অ্যাক্সেসরিজ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে অংশ নিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিশ্বমানের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ কারখানা পরিদর্শনের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সময়-সুযোগ অনুযায়ী এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে শিল্প খাতের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। এ সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, "মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে আমরা সময় দিতে চাই, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করতে চাই। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে।"
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও রাহাজানিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যাঁরা আছেন, তাঁদেরই রাজনীতিটা করা উচিত।"
ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সম্প্রতি মিরপুরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো খাতই নিরাপদ থাকবে না। সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
মব সৃষ্টি, পেশিশক্তির ব্যবহার ও সহিংসতার মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও নিন্দা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। তাদের ওপর হামলা ও অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈঠকে বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার আহমেদ ছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্লোরিডার সেন্ট পিট বিচের বাসিন্দা অটাম কেলসো বর্তমানে ফ্লোরিডার ফায়ার রেসকিউ বিভাগে একজন সক্রিয় ফায়ার ফাইটার ও প্যারামেডিক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাঁচ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে তিনি ফায়ার ফাইটার হিসেবে কাজ করে আসছেন।
সম্প্রতি, তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন। অটামের নাম বিশ্ব রেকর্ডের পাতায় উঠে এসেছে তার উচ্চতার কারণে, যা তাকে ফায়ার ফাইটার হওয়ার পথে বাধা দেয়নি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, অটামের উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি (প্রায় ১৪৭ সেন্টিমিটার)। বয়স যখন ২০-এর কোঠায়, তখন তিনি করপোরেট দুনিয়ায় তার কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু একসময় তিনি উপলব্ধি করেন, ডেস্কের পেছনে বসে কাজ করা তার জন্য উপযুক্ত নয়।
অটাম সমাজে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন, এই চিন্তা থেকেই তিনি ফায়ার ফাইটার হিসেবে নতুন পেশার দিকে নজর দেন। তবে, উচ্চতার কারণে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। এ সময় তার বন্ধুদের উৎসাহ তাকে নতুন পেশায় প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
অটাম কখনোই তার উচ্চতাকে কাজের পথে বাধা হতে দেননি। তিনি বলেন, "আমি সব সময় আমার কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করি।" তার সহকর্মীরা তাকে "স্পাইডার মাংকি" বলে ডাকেন, কারণ তিনি প্রয়োজন হলে যেকোনো স্থানে লাফিয়ে উঠে কাজ করতে পারেন।
অটাম আরও জানান, সহকর্মীদের উৎসাহের জন্যই তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী মাপজোখের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সবচেয়ে কম উচ্চতার নারী ফায়ার ফাইটারের স্বীকৃতি লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ