০৬:২৩ এম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর আগেই এক কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে অভিযানের তথ্য জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজান ভূঁইয়া রবিন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় জানিয়ে সতর্ক করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রবিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মিজান ভূঁইয়ার সঙ্গে রবিন নামে এক ব্যক্তির কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে মিজান ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়-৫টা থেকে অভিযান শুরু হবে। আমি থানায়। রাত পর্যন্ত সরে থাকিস।’ অডিওর আরেক অংশে তাকে বলতে শোনা যায়-এখানে মেইন হলো দারোগা। এই পর্যন্ত তোমারে যতবার সেভ করে এনেছি, দারোগা দিয়ে এনেছি।’
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির পূর্ণাঙ্গতা, কণ্ঠস্বরের পরিচয় এবং কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অডিওতে অভিযানের সময় আগাম জানিয়ে কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তাদের ভাষ্য, অভিযোগটি সত্য হলে এটি মাদকবিরোধী অভিযানের গোপনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রকাশ্যে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা হলেও আড়ালে যদি কেউ মাদক কারবারিদের সহযোগিতা করেন, তাহলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান।
এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এসব অডিওতে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা দেওয়া এবং অভিযানসংক্রান্ত তথ্য আগাম জানিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা মিজান ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘ঘটনার ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আপাতত আমি ছুটিতে আছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অডিওটি ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। তদন্তে অডিওর উৎস, কণ্ঠস্বর, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট এবং অভিযানের তথ্য আগাম ফাঁসের অভিযোগ—সবকিছুই খতিয়ে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন