ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিস্তার ভাঙনে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ, গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে আমন ধান


তিস্তার ভাঙনে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ, গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে আমন ধান

বর্ষা মৌসুম বিদায় নিয়ে হেমন্তকাল শুরু হয়েছে। হেমন্তের আগাম নবান্নে কৃষকদের মুখে হাসি দেখা গেছে। নদ-নদীর পানি কমেছে, কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন নদীর অববাহিকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। একের পর এক এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট এবং অন্যান্য অবকাঠামো।

তিস্তাপাড়ে পরিস্থিতি একই রকম। অব্যাহত ভাঙনে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ফসলি জমিরও ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে তাদের স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় এ বিষয়ে বলেছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সময় কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।"

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষকের লাউবাগানের গাছ কেটে রাতের আঁধারে স্বপ্ন শেষ

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে তীব্র স্রোতের কারণে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও নদী গর্ভে চলে গেছে বসতভিটা, আবার কোথাও ভাঙনের মুখে রয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই চরের ২৭টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন— বাবর আলী, গোলাপী বানু, গোলজার হোসেন, নুর ইসলাম, মতিয়ার রহমান, আহাদ আলী, জহুরা বেগম, আসাদুল ইসলাম, আব্দুল হক, মইনুল ইসলাম, শাহ আলম, নজু মিয়া, মোন্নাফ আলী, আবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, দুলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, নাজমুল হক, ঝন্টু, বেলাল, ওমরসহ অন্যান্যরা। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। ওই এলাকায় ইতিমধ্যে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, "কয়েক বছর ধরে জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। হঠাৎ তিস্তার স্রোতের গতিপথ চরের দিকে গেলে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করে।"

আরও পড়ুন: নাটোরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই শুরু ৩০ অক্টোবর

লক্ষ্মীটারী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী গণমাধ্যমকে বলেন, "কয়েকদিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।"

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "তিস্তার ভাঙনে বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, "বন্যার পর হঠাৎ করে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আরও পড়ুন: সৈয়দপুরের কৃষকরা আগাম শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, "তিস্তার বাম ও ডান তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষক বাধ্য হয়ে আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৭ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচাই কেটেছে কৃষক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ১২ সেকেন্ডে বৃদ্ধের ব্যাগ ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


চট্টগ্রামে ১২ সেকেন্ডে বৃদ্ধের ব্যাগ ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট এলাকায় রাতে হেঁটে যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধের কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ছিনতাইকারী চক্র। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র ১২ সেকেন্ডে। ব্যাগ হারিয়ে অপরাধীদের পেছনে বৃদ্ধকে দৌড়াতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া ছিনতাইয়ের এ দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিবিরহাট কাঁচাবাজারের ১ নম্বর গলিতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গলায় ব্যাগ ঝুলিয়ে গলি দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধ। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে দুই ব্যক্তি হেঁটে তার দিকে এগিয়ে আসেন। তাদের ঠিক পেছনেই ধীরগতিতে একটি অটোরিকশা আসছিল। ওই দুই ব্যক্তি বৃদ্ধের কাছাকাছি আসামাত্রই আচমকা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং গলার ব্যাগটি ধরে হ্যাঁচকা টান দেন। ব্যাগটি হাতানোর সঙ্গে সঙ্গেই পেছনে থাকা অটোরিকশাটিতে উঠে চম্পট দেন তারা। হতচকিত বৃদ্ধ নিজের ব্যাগ রক্ষায় তাদের পেছনে পেছনে দৌড়ে যান, কিন্তু ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা দ্রুত সটকে পড়ে।

ফেসবুকে ‘যোদ্ধা’ নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করার পর মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে শত শত নাগরিক নগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাদের গলিতে যদি এমন হয়, আমরা কিভাবে নিরাপদ থাকব।’

অন্যদিকে শাহেদ হোসাইন নামের এক ব্যবহারকারী লেখেন, বিহাইন্ড দ্য সিন ব্যাটারিচালিত রিকশাই ছিনতাইকারীদের দ্রুত পালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজটি নজরে আসার পরই ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ এবং ছিনতাইকারী চক্রটিকে শনাক্ত করার জোর চেষ্টা চলছে।

তবে এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। নানা অপরাধের শিকার হয়ে অনেক নাগরিক পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে হয়রানি হওয়ার অভিযোগ তুলে থানাবিমুখ নিত্যদিনের ঘটনা। সম্প্রতি কোতোয়ালি থানার সীমানা ঘেঁষে হওয়া ছিনতাইয়েও ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেননি। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। থানা পুলিশ আসামি ধরতে ব্যর্থ হলেও ডিবি পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেসলা মানুষের মতো রোবট অপটিমাসের উৎপাদন শুরু করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


টেসলা মানুষের মতো রোবট অপটিমাসের উৎপাদন শুরু করেছে

মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক বাণিজ্যিক মানের উৎপাদন শুরু করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এই রোবটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রিমন্ট কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এটি টেসলার প্রথম উৎপাদনমানের অপটিমাস রোবট তৈরির উদ্যোগ। যদি সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোয়, তবে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোবটগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইলন মাস্ক অপটিমাসের উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

মাস্ক বলেন, ফ্রিমন্ট কারখানায় বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য তৈরি লাইনে প্রাথমিকভাবে রোবট বানানো শুরু হয়েছে। উৎপাদিত রোবটগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিমন্ট কারখানার একটি অংশকে রোবট উৎপাদনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পূর্বে সেখানে মডেল এস ও মডেল এক্স বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কার্যক্রম চলত। বর্তমানে সেই জায়গায় অপটিমাসের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদনব্যবস্থার বড় অংশ স্থাপন করা হলেও এখনো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রোবটের নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ফলে শুরুতে উৎপাদনের গতি ধীর থাকবে।

ইলন মাস্কের লক্ষ্য আগামী এক বছর বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার অপটিমাস রোবট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১০ লাখ রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিমন্ট কারখানায়। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমানে উৎপাদিত রোবটের সংখ্যা নয়। টেসলা এখন পর্যন্ত মোট কতটি উৎপাদনমানের অপটিমাস তৈরি করেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি। মাস্ক নিজেও স্বীকার করেছেন, এত জটিল প্রযুক্তির রোবট ব্যাপক হারে তৈরি করতে সময় লাগবে।

অপটিমাস মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি মানুষের আকৃতির রোবট। টেসলার লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের জন্য পুনরাবৃত্তিমূলক, শারীরিকভাবে কঠিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঘরোয়া কাজেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমানে অপটিমাস কত ধরনের কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করতে পারে, তার বিস্তারিত স্বাধীন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।

উৎপাদন শুরু হলেও অপটিমাসের সামনে কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের হাতের মতো সূক্ষ্মভাবে কোনো বস্তু ধরা, স্থানান্তর করা এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে হাত ব্যবহার করার সক্ষমতা উন্নত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, একটি রোবট কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহারের পর অচল হয়ে গেলে তা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে না। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও জরুরি।

এসব সমস্যা সমাধানে টেসলা ‘অপটিমাস একাডেমি’ নামে একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সেখানে রোবটগুলোকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বাস্তব কাজের তথ্য সংগ্রহ করা। ফলে বিপুলসংখ্যক রোবট তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোকে দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপটিমাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এআই৫ চিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের এপ্রিলের দিকে এই চিপ রোবটে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তার দাবি, নতুন চিপ রোবটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তবে পরিকল্পিত এই সময়সূচি ও সক্ষমতা এখনো বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। টেসলা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অপটিমাসের আরও উন্নত কাজের একটি প্রদর্শনী প্রকাশের কথাও জানিয়েছে।

এদিকে অপটিমাসের বাজারজাতকরণের সময়সূচি নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন মাস্ক। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ টেসলার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য রোবটটি কবে বাজারে আসবে, কত দাম হবে কিংবা কোন দেশে প্রথম বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের সময়সূচিকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিক্রি শুরুর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। টেসলার পাশাপাশি বোস্টন ডায়নামিকস, ফিগার এআই এবং অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের কাজের উপযোগী রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বিশেষ করে শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় রোবটের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বাস্তব কর্মপরিবেশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজারে সফলতা অর্জনের জন্য আরও পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন।

অপটিমাসের মতো রোবট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি কত কর্মসংস্থান তৈরি করবে অথবা কত কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে।

টেসলার অপটিমাস উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও রোবটিকস প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিস্তারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারা হবে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কাজ সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে অপটিমাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকান’

ভারতের জনপ্রিয় জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক শনিবার মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের কাজের মান উন্নত করার এবং তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অশান্তির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে আন্দোলন-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে বা করতে না দিলে কী পরিণতি হতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মুম্বাইতে আয়োজিত ‘আইপিএফ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ অত্যন্ত আনন্দের সাথে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়, এমনকি তা দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওয়াংচুক দাবি করেন যে, অনেক দেশে সংসদ ভবনের সামনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এসব দেশে সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অনুমতি রয়েছে।

ভারতে প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতে প্রতিবাদের জায়গা সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি যখন কেবল যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ ছিল, সেটাও ছিল সংসদ থেকে বহু দূরে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি ইতিবাচকভাবে দেখে, তবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন হলো তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার একটি চমৎকার প্রতিক্রিয়া ও ফিডব্যাক পদ্ধতি।”

তার এই মন্তব্যটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে এসেছে, যখন ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার রাজধানী জুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সরকারের আন্দোলন করতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলোও।

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ওয়াংচুক সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভ করতে না দিলে বা জনগণকে বাকস্বাধীনতা না দিলে কী পরিণতি হয়, তা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”

তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার জন্য সরকারের কাছে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যেমন বড় কোনো উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি সামাল দেওয়ার বিষয়েই কেবল সরকারি তদারকি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, প্রতিবাদের অধিকার রুদ্ধ করার জন্য নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


সরকার বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের জন্য সরকার কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন কার্যকর হলে কক্সবাজারের অনেক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ব্যবস্থাপক, সংশ্লিষ্ট সমিতি ও অংশীজনদের সঙ্গে কক্সবাজার পাবলিক হলে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি কাজল আরও বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এবং সমুদ্র সৈকতে পর্যটক ডুবে মৃত্যুর মতো বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই প্রেক্ষাপটে পর্যটন খাতের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও পরিচালন ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সেবা চালু করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। তিনি হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে রুম ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিদুল ইসলাম হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার বিধিবিধান, নিবন্ধন, নবায়ন, লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল এবং তারকামানের হোটেলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

এতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব সানজিদা বেগম, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের অফিস প্রধানসহ পর্যটন সেবী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকেরা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%