ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টেসলা মানুষের মতো রোবট অপটিমাসের উৎপাদন শুরু করেছে


টেসলা মানুষের মতো রোবট অপটিমাসের উৎপাদন শুরু করেছে

মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক বাণিজ্যিক মানের উৎপাদন শুরু করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এই রোবটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রিমন্ট কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এটি টেসলার প্রথম উৎপাদনমানের অপটিমাস রোবট তৈরির উদ্যোগ। যদি সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোয়, তবে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোবটগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইলন মাস্ক অপটিমাসের উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

আরও পড়ুন: ইরাকের আল-ফাও উপকূলে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা

মাস্ক বলেন, ফ্রিমন্ট কারখানায় বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য তৈরি লাইনে প্রাথমিকভাবে রোবট বানানো শুরু হয়েছে। উৎপাদিত রোবটগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিমন্ট কারখানার একটি অংশকে রোবট উৎপাদনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পূর্বে সেখানে মডেল এস ও মডেল এক্স বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কার্যক্রম চলত। বর্তমানে সেই জায়গায় অপটিমাসের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদনব্যবস্থার বড় অংশ স্থাপন করা হলেও এখনো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রোবটের নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ফলে শুরুতে উৎপাদনের গতি ধীর থাকবে।

ইলন মাস্কের লক্ষ্য আগামী এক বছর বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার অপটিমাস রোবট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১০ লাখ রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিমন্ট কারখানায়। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমানে উৎপাদিত রোবটের সংখ্যা নয়। টেসলা এখন পর্যন্ত মোট কতটি উৎপাদনমানের অপটিমাস তৈরি করেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি। মাস্ক নিজেও স্বীকার করেছেন, এত জটিল প্রযুক্তির রোবট ব্যাপক হারে তৈরি করতে সময় লাগবে।

অপটিমাস মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি মানুষের আকৃতির রোবট। টেসলার লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের জন্য পুনরাবৃত্তিমূলক, শারীরিকভাবে কঠিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঘরোয়া কাজেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমানে অপটিমাস কত ধরনের কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করতে পারে, তার বিস্তারিত স্বাধীন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর

উৎপাদন শুরু হলেও অপটিমাসের সামনে কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের হাতের মতো সূক্ষ্মভাবে কোনো বস্তু ধরা, স্থানান্তর করা এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে হাত ব্যবহার করার সক্ষমতা উন্নত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, একটি রোবট কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহারের পর অচল হয়ে গেলে তা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে না। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও জরুরি।

এসব সমস্যা সমাধানে টেসলা ‘অপটিমাস একাডেমি’ নামে একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সেখানে রোবটগুলোকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বাস্তব কাজের তথ্য সংগ্রহ করা। ফলে বিপুলসংখ্যক রোবট তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোকে দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপটিমাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এআই৫ চিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের এপ্রিলের দিকে এই চিপ রোবটে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তার দাবি, নতুন চিপ রোবটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তবে পরিকল্পিত এই সময়সূচি ও সক্ষমতা এখনো বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। টেসলা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অপটিমাসের আরও উন্নত কাজের একটি প্রদর্শনী প্রকাশের কথাও জানিয়েছে।

এদিকে অপটিমাসের বাজারজাতকরণের সময়সূচি নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন মাস্ক। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ টেসলার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য রোবটটি কবে বাজারে আসবে, কত দাম হবে কিংবা কোন দেশে প্রথম বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের সময়সূচিকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিক্রি শুরুর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। টেসলার পাশাপাশি বোস্টন ডায়নামিকস, ফিগার এআই এবং অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের কাজের উপযোগী রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বিশেষ করে শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় রোবটের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বাস্তব কর্মপরিবেশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজারে সফলতা অর্জনের জন্য আরও পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন।

অপটিমাসের মতো রোবট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি কত কর্মসংস্থান তৈরি করবে অথবা কত কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে।

টেসলার অপটিমাস উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও রোবটিকস প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিস্তারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারা হবে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কাজ সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে অপটিমাস।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু থাকছেন নাকি বিদায় নিচ্ছেন, আজ হবে রায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকান’

ভারতের জনপ্রিয় জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক শনিবার মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের কাজের মান উন্নত করার এবং তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অশান্তির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে আন্দোলন-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে বা করতে না দিলে কী পরিণতি হতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মুম্বাইতে আয়োজিত ‘আইপিএফ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ অত্যন্ত আনন্দের সাথে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়, এমনকি তা দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওয়াংচুক দাবি করেন যে, অনেক দেশে সংসদ ভবনের সামনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এসব দেশে সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অনুমতি রয়েছে।

ভারতে প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতে প্রতিবাদের জায়গা সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি যখন কেবল যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ ছিল, সেটাও ছিল সংসদ থেকে বহু দূরে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি ইতিবাচকভাবে দেখে, তবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন হলো তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার একটি চমৎকার প্রতিক্রিয়া ও ফিডব্যাক পদ্ধতি।”

তার এই মন্তব্যটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে এসেছে, যখন ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার রাজধানী জুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সরকারের আন্দোলন করতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলোও।

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ওয়াংচুক সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভ করতে না দিলে বা জনগণকে বাকস্বাধীনতা না দিলে কী পরিণতি হয়, তা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”

তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার জন্য সরকারের কাছে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যেমন বড় কোনো উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি সামাল দেওয়ার বিষয়েই কেবল সরকারি তদারকি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, প্রতিবাদের অধিকার রুদ্ধ করার জন্য নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


সরকার বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের জন্য সরকার কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন কার্যকর হলে কক্সবাজারের অনেক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ব্যবস্থাপক, সংশ্লিষ্ট সমিতি ও অংশীজনদের সঙ্গে কক্সবাজার পাবলিক হলে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি কাজল আরও বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এবং সমুদ্র সৈকতে পর্যটক ডুবে মৃত্যুর মতো বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই প্রেক্ষাপটে পর্যটন খাতের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও পরিচালন ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সেবা চালু করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। তিনি হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে রুম ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিদুল ইসলাম হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার বিধিবিধান, নিবন্ধন, নবায়ন, লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল এবং তারকামানের হোটেলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

এতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব সানজিদা বেগম, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের অফিস প্রধানসহ পর্যটন সেবী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকেরা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা সীমান্তে ৩৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


কুমিল্লা সীমান্তে ৩৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার আমানগন্ডা বিওপির বিশেষ টহলদল এই অভিযানটি সম্পন্ন করে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার ভোরে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের সময় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনাপুর নামক স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া শাড়ির সিজার মূল্য ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা শাড়ি বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইআইটি থেকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ভারত-ইউএনডিপির সাত দশক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


আইআইটি থেকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ভারত-ইউএনডিপির সাত দশক

ভারত এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর মধ্যে চলমান অংশীদারিত্ব, যা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে, দেশের প্রযুক্তিগত এবং স্বাস্থ্য খাতের বিবর্তনে একটি অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিপ্লব—এই যৌথ প্রচেষ্টা দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৫০-এর দশকে, ভারত ছিল একটি তরুণ রাষ্ট্র, যা তার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করছিল। নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছিল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রসারিত হচ্ছিল এবং দেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছিল। জাতিসংঘও সেই যাত্রার একটি অংশ ছিল।

১৯৬৫ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বছর চারেক আগে, জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত সক্ষমতা জোরদার করার প্রচেষ্টাগুলোকে সমর্থন প্রদান করছিল।

দেশের শুরুর দিকের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি) প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ডিজিটাল শাসন এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকাশ—ভারতের পরিবর্তনশীল অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গে এই অংশীদারির পরিধিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে, সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর দিকে ফিরে তাকানো হয়েছে, যা এই দীর্ঘ যাত্রাকে একটি রূপ দিয়েছে।

১৯৫০-এর দশক : বৈজ্ঞানিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ভারতের শুরুর দিকের উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল এমন সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেগুলো বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরি করতে সক্ষম।

জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা ১৯৫০ সালে আইআইটি খড়গপুর এবং ১৯৫৮ সালে আইআইটি বোম্বে গঠনে ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটে, যা ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করেছে।

শিক্ষা ও গবেষণায় এই শুরুর দিকের বিনিয়োগই কয়েক দশকের উদ্ভাবনের ভিত্তি স্থাপন করে দিয়েছিল।

১৯৬০-এর দশক : খনিজ তেল অনুসন্ধান থেকে স্যাটেলাইট যোগাযোগ

ভারত তার শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের যৌথ সহযোগিতা শক্তি এবং যোগাযোগ খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে।

১৯৬৬ সালে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনের (ওএনজিসি) ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন-এ প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তেল অনুসন্ধান সক্ষমতা জোরদার করা হয়।

এর এক বছর পর, ভারতের প্রথম ‘এক্সপেরিমেন্টাল স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন আর্থ স্টেশন’ (আহমেদাবাদে অবস্থিত) গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে সহায়তা করা হয়।

উপগ্রহ-ভিত্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বিকাশে এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; যা পরবর্তীতে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়ার মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিল।

১৯৭০-এর দশক : দুগ্ধ খাত, সম্প্রচার এবং পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রূপান্তর

১৯৭০-এর দশক দৈনন্দিন জীবনকে স্পর্শ করে এমন সব আধুনিক ব্যবস্থার ওপর নতুন আলোকপাত করে। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সাথে কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে, ইউএনডিপি ‘অপারেশন ফ্লাড’ কর্মসূচিতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচিটি ভারতের দুগ্ধ খাতকে আমূল বদলে দিতে এবং দেশজুড়ে দুধের সরবরাহ শৃঙ্খলকে জোরদার করতে সাহায্য করেছিল।

গণমাধ্যম ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে, পেশাদার সম্প্রচার দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি পুনের ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’র বিকাশ ঘটায় এবং একটি নির্দিষ্ট টেলিভিশন প্রশিক্ষণ বিভাগ গঠনে সহায়তা করে।

এদিকে, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারকে সহায়তার মাধ্যমে জনপ্রশাসনে মেইনফ্রেম কম্পিউটিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়, যা ডিজিটাল শাসনের দিকে ভারতের যাত্রায় একটি প্রাথমিক মাইলফলক ছিল।

১৯৮০-এর দশক: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং গবেষকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন

১৯৮০-এর দশকের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল।

ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সাথে ইউএনডিপির যৌথ কাজ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

১৯৮৬ সালে ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের অগ্রগামী শিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্ক ‘আর্নেট’ গড়ে ওঠে, যা নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করে।

ভারত যখন আমদানিকৃত বীজের ব্যবহার বাড়াচ্ছিল, তখন কীটপতঙ্গ ও জীবাণুর হাত থেকে কৃষিকে রক্ষা করার জন্য উদ্ভিদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনগুলোকে শক্তিশালী করতেও ইউএনডিপি সহায়তা প্রদান করেছিল।

১৯৯০-এর দশক: উন্নয়নের কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া

১৯৯০-এর দশকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গণ্ডি পেরিয়ে সার্বিক মানব উন্নয়নের মূল ভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।

ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সাথে কাজ করে ইউএনডিপি নীতি নির্ধারণে ‘মানব উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি’র ব্যবহার জোরদার করতে সাহায্য করে, যা মানুষের জীবনের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য জাতীয় ও রাজ্য-পর্যায়ের ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করে।

তৃণমূল পর্যায়ে, ‘দক্ষিণ এশিয়া দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি’ অন্ধ্রপ্রদেশের নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা প্রদান করেছিল, যা গ্রামীণ আর্থিক ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য পরবর্তীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

এছাড়াও এই সহযোগিতা হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য ক্লিন এনার্জি কৌশল, পাট খাতে গবেষণা ও বহুমুখীকরণ, ওষধি গাছের সংরক্ষণ এবং ‘অলিভ রিডলি’ সামুদ্রিক কাচ্ছপের পরিযাণ পথ বোঝার মতো বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রচেষ্টায় বিস্তৃত ছিল।

যার মূল লক্ষ্য ছিল—মানুষ, জীবিকা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান জোর দেওয়া।

২০০০-এর দশক: অধিকার রক্ষা, স্থানীয় শাসন ও দুর্যোগ মেকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন

নতুন সহস্রাব্দে নাগরিক অধিকার, জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২০০৫ সালে ‘তথ্য জানার অধিকার আইন’ চালুর পর, এই আইনটি কার্যকর করতে ইউএনডিপি সরকারি তথ্য কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

২০০৬ সাল থেকে, ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন’ (এমজিএনআরইজিএ) বাস্তবায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রককে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়।

ইউএনডিপি ‘পঞ্চায়েতি রাজ’ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের সক্ষমতা তৈরিতেও কাজ করে এবং জেন্ডারভিত্তিক বাজেট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভারত সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে, এই অংশীদারি রাজ্য-পর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের নেতৃত্বাধীন পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে জোরদার করে, যা পুনর্গঠন কাজের মূল কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্থান দেয়।

সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ছিল জীববৈচিত্র্য পরিকল্পনা, টেকসই গ্রামীণ পর্যটন, এইচআইভি-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ‘স্টেট অ্যাকশন প্ল্যান’।

২০১০-এর দশক: ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু অর্থায়ন

২০১০-এর দশকে এই অংশীদারি ক্রমবর্ধমানভাবে প্রযুক্তি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বকে একসূত্রে বেঁধেছিল।

একটি অন্যতম বড় মাইলফলক ছিল ‘ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ (ইভিন)। টিকার মজুদ এবং কোল্ড-চেইনের তাপমাত্রা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারির জন্য ইউএনডিপি এটি ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করেছিল।

টিকা সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারি উন্নত করার মাধ্যমে ইভিন টিকাদান ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে সাহায্য করে এবং পরবর্তীতে কোভিড-১৯ প্রতিষেধক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রদান করে।

ইউএনডিপি রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) ব্যক্তিদের অধিকার এগিয়ে নেওয়া, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করা এবং ‘দিশা’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করেছিল—যা দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করে।

পরিবেশগত দিক থেকে, ২০১৫ সালে ভারতে চালু হওয়া ‘বায়োডাইভারসিটি ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ (বায়োফিন) অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য অর্থায়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।

শিল্পক্ষেত্র এবং ভারতীয় রেলওয়েতে জ্বালানি দক্ষতার ওপর কাজটি দর্শিয়েছিল যে কীভাবে পরিবেশগত স্থায়িত্বকে প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলোর সাথে সমন্বিত করা যেতে পারে।

২০২০-এর দশক: সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ

কোভিড-১৯ যখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, তখন ইউএনডিপি ডিজিটাল ভ্যাকসিন লজিস্টিকস এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ব্যবস্থার সহায়তার মাধ্যমে ভারতের মহামারি মোকাবিলা প্রচেষ্টায় পাশে দাঁড়িয়েছিল।

এই অংশীদারি কোভিড-১৯ টিকাদানের জন্য ‘কোউইন’ এবং পরবর্তীতে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ডিজিটাল ব্যবস্থা জোরদার করতে দেশব্যাপী ‘ইউ-উইন’ চালুর কাজে সহায়তা করেছিল।

মহামারির সংকটের বাইরেও, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’কে (এসডিজি) পরিমাপযোগ্য অগ্রগতিতে রূপান্তর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউএনডিপি-সমর্থিত এসডিজি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় সংক্রান্ত মডেলগুলো উপাত্ত-ভিত্তিক (ডাটা-ড্রাইভেন) পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পদক্ষেপগুলোকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, মরুকরণ এবং ওজন স্তর রক্ষাসহ ভারতের পরিবেশগত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নেও এই অংশীদারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ে, সরকারি সহযোগীদের সাথে এই যৌথ কাজ আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার ও জীবিকা জোরদার করা, শস্য বিমার মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের সাহায্য করা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা উন্নত করার ওপর আলোকপাত করে।

জনস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে জলবায়ু সহনশীলতা—এই দীর্ঘযাত্রার মূল লক্ষ্যই হলো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: ইউএনডিটি ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%