ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের দায়িত্ব ও বেতন নিয়ে আলোচনা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের দায়িত্ব ও বেতন নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত এই রাজনীতিকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার কাজ, ক্ষমতা ও বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিনেটের সদস্য হিসেবে তিনি কী কী দায়িত্ব পালন করবেন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা কতটা এবং এ পদে থেকে বছরে কত অর্থ বেতন পাবেন—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

সিনেটরের বেতন কত?

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দেশটির একজন সাধারণ সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে তার বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে বেতনের বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাবও কমবেশি হবে।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা গঠন করল ‘হাওয়ারিয়্যীন পরিষদ’

সিনেটরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কতটুকু?

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষের একটি হলো সিনেট। এটি উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য এই কক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সিনেটর হিসেবে আল-সাইয়েদের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বা ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা থাকবে।

আইন ও বাজেট প্রণয়ন: জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব এবং চূড়ান্ত ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন আল-সাইয়েদ। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের মূল্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতের আইন প্রণয়নে তার ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের ভোট বিল পাসের জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শেখ পদবিধারীদের নামের সংখ্যা সর্বাধিক

গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বিচারিক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ধরনের প্রায় ১ হাজার ৩০০ গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন আল-সাইয়েদ।

আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধনীতি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো চুক্তি অনুমোদনে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ অন্তত ৬৭টি ভোট লাগবে। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তা, সামরিক ব্যয় ও যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির ওপর নজরদারির দায়িত্বও পালন করবেন সিনেটররা।

অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের বিচার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা শীর্ষ ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের অভিযোগ আনা হলে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয় সিনেটে। এ ক্ষেত্রে সিনেট বিচারিক কক্ষ হিসেবে কাজ করে। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারবেন আল-সাইয়েদ।

নতুন হলেও ভোটের মূল্য সমান

আরও পড়ুন: সহিংসতা সত্ত্বেও জেন-জিদের বিক্ষোভের পক্ষে: জার্মানির আইনমন্ত্রী

সিনেটে দায়িত্ব ও প্রভাবের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং কমিটিতে নেতৃত্বের অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়। তবে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোটের ক্ষেত্রে সব সিনেটরের ক্ষমতা সমান। অর্থাৎ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কোনো জ্যেষ্ঠ সিনেটরের ভোটের মূল্য যতটুকু, নবনির্বাচিত আল-সাইয়েদের ভোটের মূল্যও ঠিক ততটুকু।

ফলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিলের ভোটাভুটিতে তার একটি ভোটও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম থাকলে তার অবস্থান জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি

এআরবি

আরও পড়ুন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

টালিউডের সর্বকালের সেরা নায়িকাদের তালিকা করলে প্রথম সারিতে স্থান পাবে টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বাংলা সিনেমা করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া গুণী এই অভিনেত্রী হাতে গোনা কয়েকজন তারকার মধ্যে একজন। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার শুভ জন্মদিন।

১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ঋতুপর্ণা। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হতে থাকে।

১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন ঋতুপর্ণা। সেখান থেকেই তিনি বড়পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধ শতাধিক সিনেমায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তিনি টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।

সময়ের সঙ্গে বাংলা সিনেমার ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, দর্শকের রুচি বদলেছে এবং নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছেন। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা উল্লেখযোগ্য কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার কাজের পরিধি বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।

ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় তিনি এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমার জন্য ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা।

বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানা- দুই ধরনের সিনেমাতেই তিনি সমান উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ঋতু বলেছিলেন,

"আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।"

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল এবং আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো ব্যক্তিগত জীবনও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে নিহত সাবেক বিজিবি সদস্য খোরশেদ আলমের দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


সৌদি আরবে নিহত সাবেক বিজিবি সদস্য খোরশেদ আলমের দাফন সম্পন্ন

সৌদি আরবে সুদানি সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. খুরশীদ আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত শুক্রবার দুপুরে তাঁর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। জানাজা শেষে শনিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা উত্তরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের মৃত হাজী নুরুল ইসলামের পুত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চাকরিজীবন শেষে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান খোরশেদ আলম। তিনি শুরুতে দেশটির আভা খামিজের মোসাইদ খালেদিয়া এলাকায় ফয়সাল আহমারী মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন, পরে সেখানে একটি লন্ড্রি ব্যবসা শুরু করেন।

গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায় ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে দোকানের কর্মচারী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাসিন্দা আহাদ মিয়ার সাথে কয়েকজন সুদানি নাগরিকের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুদানিরা আহাদের ওপর হামলা চালালে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন খোরশেদ আলম। এ সময় সুদানি সন্ত্রাসীরা খোরশেদ আলমকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই সুদানি নাগরিককে আটক করে।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল মতিন জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, খোরশেদ আলম চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার ও চার কন্যাসন্তানসহ পুরো পরিবার এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। পরিবারটি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন, প্রয়োজনে টিকিট দেব: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন, প্রয়োজনে টিকিট দেব: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, "প্রয়োজনে তাকে দেশে আসার টিকিট দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।"

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল সমাবেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আপনারা মানুষ হত্যা করে পালিয়েছেন, এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুংকার দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সেই হুংকার বুঝে গেছে। কাজেই আপনাদের এখন দেশে আসতেই হবে। গোপনে নয়, এখনই চলে আসেন, প্রয়োজনে আমরা টিকিট দিয়ে দেব।"

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং গুম-খুন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ নারী-শিশুর রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

পলাতকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

নান্দাইলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিমধ্যে ১৮৬টি রাস্তা ইটের সোলিং করা হয়েছে এবং আরও ১০৪টি রাস্তা ইটের সোলিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের অনুদান আনা হয়েছে, যা ময়মনসিংহের অন্য কোনো উপজেলায় আসেনি। গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ৩৬টি ঘর প্রদান করা হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ১০৪টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরপুর ও চরবেতাগৈর সেতু নির্মাণসহ ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে জনগণের মতামত ও জরিপের ভিত্তিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আপনারা উন্নয়নের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি আপনাদের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের সেবা করে যেতে চাই। উন্নয়নের মাঠে, রাজপথে এবং সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।"

নান্দাইলের স্থানীয় চণ্ডীপাশা স্কুল মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশ বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে: পীর সাহেব চরমোনাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


জামায়াত ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার সম্ভাবনা জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতার লোভের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোকে, বিশেষ করে কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক মঞ্চে আনার আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীসহ আরো কয়েকটি দলও যুক্ত ছিল।

জামায়াতের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে এমনটি বুঝতে পেরেই জামায়াত দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসলামি দলগুলোর মধ্যকার ঐক্যের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা গেলেই কেবল দেশে প্রকৃত শান্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। অথচ গত ৫৫ বছর ধরে যে নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হতে দেখা গেছে, সেই একই পুরোনো নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করা সম্পূর্ণ অমূলক ও অযৌক্তিক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে পীর সাহেব চরমোনাই পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মানুষকে সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তি দিতে হলে ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের আর কোনো বিকল্প নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%