০৫:৫৪ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে কড়া হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
এই তথ্য বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প এই হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সবকিছু লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থামতে না বলব, ততক্ষণ এই আক্রমণ চলবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সম্পর্কে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে তিনি শেষের জন্য রেখে দিয়েছেন। তবে, পরিস্থিতি না বদলালে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও মার্কিন বাহিনী কঠোর হামলা চালাবে। আগামী রাতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। পরের রাতেও আকাশ থেকে বোমা ফেলা হবে। তারপর, আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ তখন ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এরপর সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা হবে। ট্রাম্প বলছেন, তারা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ অচল করে দেবেন এবং সব সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে চূড়ান্ত পরিণতি হবে এটাই।
ট্রাম্পের দাবি, নতুন একটি চুক্তি ছাড়া ইরানের সামনে কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সাক্ষাৎকার দেওয়ার এক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা আসলে চুক্তি করতে চায়। তাদের জন্য চুক্তি করা এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নইলে তাদের দেশে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায় বলেও ট্রাম্প জানান। তিনি বলেন, আগে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি ফি আরোপ করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে। তাই তিনি ফি আরোপের ধারণাটি আপাতত বাতিল করেছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক
ট্রাম্প আরও বলেন, এই লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন করা। আর সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা। মার্কিন বাহিনী সেটাই করে দেখিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানিরা সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা একেবারে দুর্বল করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অঞ্চলটিতে তাদের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই বিপুল সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন