প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এক প্রসূতি নাজমা আক্তার (৩০) মারা গেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমা আক্তার ওই গ্রামের জেলে মো. হক সাবের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানিতে তলিয়ে রয়েছে। গত দুই দিনে স্বাভাবিক হলেও, বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ফের ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক এবং চলাচলের পথও পানি ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
এর মধ্যে বুধবার সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে, নাজমা আক্তারকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করেন। কিন্তু চারদিকে পানি জমে থাকার কারণে এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, তাকে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে সময়মতো নেওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মারা যান।
২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি এবং জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগের এক করুণ উদাহরণ। এলাকার মানুষ এখন শোকাবহ অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, প্রসূতির পূর্বে দুইটি সন্তান রয়েছে। এটি তার তৃতীয় সন্তান হওয়ার কথা ছিল। চারপাশে জোয়ার ও চলাচলের স্থানের অভাবে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। আমাদের রাস্তা নেই। ভালো হাসপাতালও নেই। এতে আমাদের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন