০৫:৫৫ পি.এম
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি অনন্য নেতৃত্বের স্থানে পৌঁছাচ্ছে।
তিনি জানান, বিশ্বের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এর সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ‘বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ’ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভার পর এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র, শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি মানুষের জন্য চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, প্রাইভেট সেক্টর এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই একটি ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে, এবং আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘স্পেক্স ২০৩০’ ইনিশিয়েটিভ।
চক্ষু সেবার তিনটি অতি জরুরি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে ড. মুহিত জানান, বর্তমানে দেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষ ছানিজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করেছে। তাদের কাছে দ্রুত অস্ত্রোপচার সেবা পৌঁছাতে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিষয়, গ্রামে-গঞ্জে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী চশমার অভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে এবং মধ্যবয়সী কর্মক্ষম মানুষের উৎপাদনশীলতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাচ্ছে। আমরা সব বয়সের মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজে চশমা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি আরও জানান, দেশে অসংক্রামক ব্যাধি হিসেবে দ্রুত ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিসের কারণে মানুষ যাতে দৃষ্টিশক্তি হারাতে না পারে, সে জন্য জেলা পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং’ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, হেলথ ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের এই পরিবর্তন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসাধারণ নজির স্থাপন করবে।
সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম ক্বাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ড. ওয়াতিন আলম, আর্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোমানা হক, রিসার্চ এসোসিয়েট বদরুদ্দীন সাইফিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং আইএনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন