ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্লান্ত দুপুরে পাতিচখায় খাবার সারেন চা শ্রমিকরা


ক্লান্ত দুপুরে পাতিচখায় খাবার সারেন চা শ্রমিকরা

চা শ্রমিকদের খাবার দুপুরের ক্লান্তি কাটাতে পাতিচখায় চলে আসে।

 

ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তাদের যাত্রা। কারো মাথায় ঝুড়ি, কারো কাঁধে পাতাভর্তি ব্যাগ থাকে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

 

আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে তাদের গন্তব্য চা-বাগান। চারপাশে সারি সারি সবুজ চা-গাছ দেখা যায়। সেই সবুজের ভেতর কাঁচি হাতে, আঙুলের ফাঁকে কচি পাতা তুলে দিন শুরু হয় চা শ্রমিকদের।

দূর থেকে দৃশ্যটি মনোমুগ্ধকর মনে হয়।

 

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

কিন্তু এই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অন্য এক গল্প। সেই গল্প ক্ষুধা, অভাব এবং বেঁচে থাকার কঠিন লড়াইয়ের।

দুপুর গড়িয়ে এলে চা-বাগানের ব্যস্ততায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে পড়েন শ্রমিকরা।

 

কারো কাছে পলিথিনে করে আনা মুড়ি, কারো পাত্রে পান্তা ভাত থাকে। কেউ সঙ্গে আনেন চালভাজা কিংবা আটার মোটা রুটি। সেই রুটির সঙ্গে থাকে চা-পাতা দিয়ে তৈরি ঝাল এক খাবার—শ্রমিকদের ভাষায় ‘পাতিচখা’ বলে পরিচিত।

আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের

চা গাছের কচি পাতা, কাঁচা মরিচ, রসুন-পেঁয়াজ—কখনও কাঁচা, কখনও সামান্য ভেজে প্রস্তুত হয় এই খাবার। অভাবের সংসারে এটি কোনো শখের খাবার নয়; বরং চা শ্রমিকের কাছে এটি দুপুরের ক্ষুধা সামলানোর অন্যতম ভরসা।

চায়ের সবুজ পাতায় মিশে রয়েছে শ্রমিকের জীবনের এমনই এক নির্মম বৈপরীত্য। যে পাতা দেশের অর্থনীতিতে মূল্য যোগ করে, সেই পাতাই ক্লান্ত দুপুরে চা শ্রমিক পরিবারে ক্ষুধা নিবারণের উপকরণ হয়ে দাঁড়ায়।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শমশেরনগর ইউনিয়নে অবস্থিত কানিহাটি চা-বাগানে গিয়ে দেখা মেলে এই বাস্তবতার। রবিবার দুপুর ২টার দিকে পাতা ওজন করে গাড়িতে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন শ্রমিকরা। ব্যস্ততার মধ্যেই চোখে পড়ে দুপুরে তাদের একসঙ্গে বসে খাবারগ্রহণের দৃশ্য।

চা শ্রমিক গীতা বুনার্জীর সংসারের গল্প যেন পুরো বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। অভাবের সংসারে চাল জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন ডাল কিংবা তরকারি তাদের কাছে প্রায় বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত: শৃঙ্খলা ও সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ -পুলিশ সুপারের

গীতা বুনার্জী জানান, "তাদের ঘরে চাল থাকে না। ডাল বা তরকারি তাদের কাছে বিলাসিতা। দুপুরের খাবারে তাই রুটি বানিয়ে নেন। আর চায়ের কুঁড়ি দিয়ে পাতিচখা বানিয়ে খেয়ে নেন। কখনো কাঁচা পাতা, কখনো ভেজে নেন। এটা দিয়েই তাদের দিন চলে যায়।"

গীতা বুনার্জীর এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ‘পাতিচখা’র অর্থ।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহের ছয় দিন তাদের কাজে থাকতে হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে বাগানের কাজ। এর পরও দিনের পরিশ্রম শেষ হয় না।

ঘরে ফিরেই অপেক্ষা করে আরেক দফা দায়িত্ব- রান্না করা, পানি সংগ্রহ, সন্তানদের দেখাশোনা, সংসারের কাজ। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য কর্মস্থলের পর ঘরের কাজ হয়ে ওঠে দ্বিতীয় কর্মদিবস।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা

এক নারী শ্রমিক জানান, "সপ্তাহে ছয় দিনই সকাল ৮টায় কাজে যোগ দেন। ছুটি হয় বিকেল ৫টায়। এরপর ঘরে ফিরে রান্না, পানি আনা, বাচ্চাদের দেখভাল—সব করতে হয়।"

বাগান দূরে হলে ভোরের আগেই ঘর ছাড়তে হয় চা শ্রমিকদের। তাদের অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছান। দিনভর পরিশ্রমের পর হাতে আসে ১৭৮ টাকা। নির্ধারিত পরিমাণ পাতা তুলতে না পারলে মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই আয়ে সংসারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-সবকিছুর হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রতিদিনই হিমশিম খেতে হয় তাদের।

সরেজমিন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চা-পাতা তোলার কাজ বাইরে থেকে সহজ ও নান্দনিক মনে হলেও বাস্তবে তা অনেক কঠিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামনে ঝুঁকে কাজ করতে হয়। গরম, বৃষ্টি, কাদা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া-কিছুই তাদের শ্রম থামাতে পারে না।

আরও পড়ুন: সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

শ্রমিকদের কেউ কেউ জানান, "দীর্ঘসময় ধরে কাজ করার কারণে পা ফুলে যায়। হাতে পড়ে কড়া, কখনও চামড়া উঠে যায়, তবু বিশ্রামের সুযোগ নেই। কারণ একদিন কাজ বন্ধ মানেই একদিনের আয় বন্ধ। আর আয় কমে গেলে কমে যায় পরিবারের খাবারের পরিমাণও।"

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯২টি চা-বাগান। দেশের চা উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। চা শিল্পের পাশাপাশি পর্যটনের জন্যও এ জেলার রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। পাহাড়, টিলা আর বিস্তীর্ণ চা-বাগানের সবুজে মুগ্ধ হন দেশ-বিদেশের পর্যটক।

কিন্তু সেই সবুজ সৌন্দর্যের আড়ালেই বসবাস করেন এমন মানুষ, যাদের জীবন বাস্তবতায় অনেকটাই বিবর্ণ।

শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চা শিল্পের বিকাশ ঘটলেও এই শিল্পের অন্যতম প্রধান শক্তি চা শ্রমিকদের জীবনমান এখনও কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক শ্রমিকের বসতঘর পুরনো ও জরাজীর্ণ। স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল। স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সীমিত। শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানকেন্দ্রিক জীবনে বেড়ে ওঠা মানুষের বড় একটি অংশ এখনও দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও নানা সামাজিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে খোঁজ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার ১২ হাজার ৫৯২ জন চা শ্রমিককে প্রতিমাসে ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। শিগগির বর্ধিত অর্থ পাবেন তারা।"

ইউএনও বলেন, "চা-বাগানে পাতা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের স্যানিটেশনের প্রয়োজন হয়, কিন্তু অনেক জায়গায় সেটি নেই। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পুষ্টির বিষয়েও বাগান ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবিপ্রবি পরিবহন পুলে নতুন বাস সংযোজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


নোবিপ্রবি পরিবহন পুলে নতুন বাস সংযোজন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবহন পুলে নতুন একটি রিনোভেট বাস সংযোজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাসটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাসটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে রিনোভেট করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং পরিবহন সংকট কিছুটা কমবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শিগগিরই আরও দুটি বাস পরিবহন পুলে সংযোজন করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা আরও বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বাস সংযোজনেরও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নাম শুনলে একটু বাটপার বাটপার ভাব চলে আসে- ছাত্রদল নেতা হিমেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নাম শুনলে একটু বাটপার বাটপার ভাব চলে আসে- ছাত্রদল নেতা হিমেল

মাদারীপুরের রাজৈরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিমেল আল ইমরানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

রাজৈর বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হওয়া আনন্দ র‍্যালিটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হিমেল আল ইমরান। তিনি বলেন, রাজৈরে অনেকে বিএনপির পরিচয় দিলেও দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে তাদের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিষয়টি তাকে কষ্ট দিয়েছে। তাই নেতাকর্মী ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে নিয়ে মন্তব্য করেন হিমেল আল ইমরান। তিনি বলেন, “নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নাম শুনলে একটু বাটপার বাটপার ভাব চলে আসে।” তার এ মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাইদুল আকন, রাজৈর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সোহেল মাতুব্বর ও যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল, রাজৈর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব সোহাগ সরদার, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন কাজী।

এ ছাড়া ছাত্রদল নেতা রিজবী আহমেদ সবুজ, মেহেদী হাসান অনিক, ছাব্বির বেপারীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজৈর উপজেলা জুড়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আনন্দ র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


পুলিশের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়।

বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।

এতে বলা হয়েছে, অন্যথায় ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য হবেন।

আদেশ অনুযায়ী, এসবি ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল হোসেন সরকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গাজীপুরের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেন কে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজীকে বরিশাল গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানজিনা চৌধুরীকে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আরিফ রাইয়ানকে চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা বি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বরিশাল গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দীনকে বরিশাল বিএমপি অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীন বরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বিএইউএসটি এআইএস বিভাগের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোহেল, বেরোবি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


নবীন বরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বিএইউএসটি এআইএস বিভাগের

 

নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), সৈয়দপুর-এর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগ। নবীন বরণ উপলক্ষে সেমিনার, ফুলেল শুভেচ্ছা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএইউএসটি একাউন্টিং ক্লাব-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আলম। সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারমিন আক্তার মিতু, এসিএ, ম্যানেজার, ইন্টার্নাল অডিট ডিপার্টমেন্ট, ব্র্যাক, ঢাকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এআইএস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম।

সেমিনারে “ফ্রম একাউন্টিং এডুকেশন টু প্রফেশনাল এক্সেলেন্সঃ অপরচুনিটিজ, স্কিলস অ্যান্ড ক্যারিয়ার গ্রোথ” শীর্ষক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে একাউন্টিং শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সুযোগ, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সেমিনার শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শামীম রেজা, পিএইচডি (অবঃ), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাওসার, পিবিজিএম (অবঃ), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ সালাহউদ্দিন নয়ন, বিজিওএম, পিএসসি (অবঃ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আলম সহ বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

নবীন বরণকে আরও অর্থবহ ও পরিবেশবান্ধব করতে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএইউএসটি ক্যাম্পাসে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি নিজ হাতে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এআইএস বিভাগের ৫৫ জন নবীন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করেন।

শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্যাম্পাস সবুজায়ন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের বার্তা তুলে ধরা হয়। নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর স্পন্সরে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়াই নয়; বরং তাদের মধ্যে পেশাগত দক্ষতা, ক্যারিয়ার সচেতনতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেমিনার, নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণের সমন্বয়ে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনাকে আনন্দময়, শিক্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তোলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%