ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে রাডারে মানবসৃষ্ট কাঠামোর সন্ধান


তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে রাডারে মানবসৃষ্ট কাঠামোর সন্ধান

পাহাড়ের ঢালে একটি অদ্ভুত আকৃতির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাটির নিচে একটি বিশাল নৌযান রয়েছে। বহু বছর ধরে এই দৃশ্যটি গবেষকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কিছু গবেষক মনে করেন, এটি একটি প্রাকৃতিক শিলাগঠন। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, এখানে বাইবেলে বর্ণিত নূহের নৌকার চিহ্ন লুকিয়ে থাকতে পারে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে নতুন রাডার জরিপ সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ‘নোয়াহ’স আর্ক স্ক্যানস’ নামের একটি গবেষণা সংগঠন দাবি করেছে, তাদের নতুন ভূগর্ভস্থ রাডার স্ক্যানে ওই স্থানের নিচে কিছু কাঠামোর সন্ধান মিলেছে, যা প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠনের পরিবর্তে মানবসৃষ্ট কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং গবেষণাটি পিয়ার-রিভিউডও নয়।

মাটির নিচে কী দেখা গেল?

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে: রাষ্ট্রদূত টম বারাক

নতুন জরিপে ব্যবহার করা হয়েছে প্রকৌশলী ড. খসরো বাখতারের তৈরি ‘বাখতাররাডার’ নামের একটি ভূগর্ভস্থ ইমেজিং প্রযুক্তি। নোয়াহ’স আর্ক স্ক্যানস (এনএএস) -এর দাবি, স্ক্যানে কয়েকটি সরলরেখা, কোণাকুণি সংযোগ, স্তরবিন্যাস এবং সম্ভাব্য ফাঁকা জায়গার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব বৈশিষ্ট্যকে সম্ভাব্য করিডর, কক্ষ বা অভ্যন্তরীণ একাধিক স্তরের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাদের মতে, এগুলো কেবল স্বাভাবিক শিলার অস্বাভাবিকতা নয়; বরং একই কোনো কাঠামোর অংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ড. বাখতার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তার কয়েক দশকের কর্মজীবনে এমন অস্বাভাবিকতা তিনি আগে দেখেননি। তবে এসব কাঠামো আসলে কী- নৌযান, অন্য কোনো বস্তু, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু- সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তিনি।

নূহের নৌকার সঙ্গে যোগসূত্র কেন?

আরও পড়ুন: জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তৃতীয় মেয়াদে লড়ার দাবি ট্রাম্পের

তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশন প্রথম নজরে আসে ১৯৫৯ সালে। কুর্দি এক রাখালের আবিষ্কারের পর তুরস্কের সেনা কর্মকর্তা ইলহান দুরুপিনারের নাম অনুসারে জায়গাটির নামকরণ করা হয় দুরুপিনার। এর অস্বাভাবিক নৌকার মতো আকৃতি এবং আরারাত পর্বতের কাছাকাছি অবস্থান দ্রুতই এটিকে নূহের নৌকার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়।

বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের সময় নূহের কিশতি আরারাত পর্বতমালার এলাকায় থেমেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই সূত্র ধরেই কয়েক দশক ধরে দুরুপিনারকে সম্ভাব্য নৌকার স্থান হিসেবে দেখার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু এত বছরেও প্রত্নতাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা জায়গাটিকে নূহের কিশতির ধ্বংসাবশেষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বরং ১৯৯০-এর দশকে প্রকাশিত এক গবেষণায় আমেরিকান উদ্ধার বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফাসোল্ড ও ভূতত্ত্ববিদ লরেন্স কলিন্স যুক্তি দেন, দুরুপিনারের গঠনটি আসলে প্রাকৃতিক শিলাগঠন। কথিত লোহার অংশ নিয়েও তাদের গবেষণায় প্রাকৃতিক আগ্নেয় খনিজের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল।

এবার খননেও জোর

আরও পড়ুন: ইউরোপে কি দিন দিন ইসলামবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে?

২০২৬ সালে তুরস্ক সরকার দুরুপিনার এলাকায় আরও বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের অনুমতি দেয়। এর পরই নোয়াহ’স আর্ক স্ক্যানস (এনএএস) নতুন করে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে। রাডার জরিপের পাশাপাশি গবেষকরা গঠনটির ভেতরে ড্রিলিং শুরু করেছেন। উদ্দেশ্য-মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা এবং সেখানে কাঠ বা অন্য কোনো জৈব পদার্থের অস্তিত্ব আছে কি-না, তা পরীক্ষা করা।

এমনকি সরু ছিদ্র দিয়ে একটি ছোট ‘গোফার’ রোবটও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নোয়াহ’স আর্ক স্ক্যানস (এনএএস)। সংগঠনটির দাবি, রোবটটি নিচে গিয়ে এমন কোনো শক্ত শিলা বা বেডরকে আটকে যায়নি, যা পুরো কাঠামোটিকে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।

এ ছাড়া ফরমেশনের উন্মুক্ত পাশ ও কিনারা থেকেও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনায় জীবাশ্মকৃত কাঠ কিংবা মানুষের তৈরি কোনো উপাদানের চিহ্ন রয়েছে কি-না, তা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

প্রমাণ মিলবে, নাকি রহস্যই থেকে যাবে?

আরও পড়ুন: মক্কা ও জেদ্দায় ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব

দুরুপিনারকে ঘিরে নূহের কিশতির রহস্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে নানা দাবি, অনুসন্ধান ও তত্ত্ব এই জায়গাটিকে আলোচনায় রেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দাবিই বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্ত প্রমাণে পরিণত হয়নি।

নতুন রাডার স্ক্যানের ফলাফল তাই কৌতূহল বাড়ালেও একে নূহের নৌকার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনই নেই। রাডারে দেখা অস্বাভাবিক কাঠামো আসলে কী, তা জানতে মাটির নমুনার পরীক্ষার ফল, আরও বিস্তৃত খনন এবং স্বাধীন গবেষকদের যাচাই প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের পর্দা উঠলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের পর্দা উঠলো

খুলনা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ও বড় আসরটির প্রতি নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আজ থেকে শুরু হলো ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলা।

আজ শনিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি পরিচালক, নারী উইংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আলম তুহিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম এবং শফিকুল ইসলাম হোসেনসহ বিসিবি ও ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আজ থেকে দেশের আটটি বিভাগীয় দল নিয়ে শুরু হয়েছে ৪ দিনের এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞ। প্রথম রাউন্ডে স্বাগতিক খুলনা বিভাগের প্রতিপক্ষ বরিশাল বিভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল মোট ৭টি করে ম্যাচ খেলবে। আগামী ১৭ নভেম্বর টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘটবে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে খেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন বিসিবি পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে বিসিবি’র টেকনিক্যাল টিম।

বিসিবি পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন বাসস’কে জানান, ‘এনসিএলের ম্যাচ আয়োজনের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিন পর খুলনায় জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট মাঠে গড়ালো। মাঠে খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিসিয়াল ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিসিবি থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, কেবল এনসিএল নয়, আগামী ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ডি-থ্রি’ টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলোও খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিবি টিমের এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এনসিএল সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং ডি-থ্রি ও ভবিষ্যতে বিসিবি’র পরিকল্পিত বড় পরিসরের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরের ভেন্যু হিসেবে খুলনার সক্ষমতা যাচাই করা। যদিও ভেন্যুর কিছু সংস্কার কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

এদিকে, এনসিএলের এই ম্যাচ শুরুর মাধ্যমে খুলনায় আবারও নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ফেরানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও আয়োজকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন এখন বেশি জনপ্রিয়, জানাল সমীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন এখন বেশি জনপ্রিয়, জানাল সমীক্ষা

লাতিন আমেরিকার প্রভাব বিস্তারে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে চীন অগ্রগামী হয়েছে। আঞ্চলিক একটি নতুন জরিপের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ জনগণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে অধিক ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। চিলিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ল্যাটিনোবারোমেট্রো’র ২০২৬ সালের সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ৫৭ শতাংশ। ২০২০ সালে যেখানে ৪৮ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করতেন, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। ১৭টি দেশের মধ্যে কেবল কোস্টারিকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব চীনের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়।

যদিও প্রভাবের দিক থেকে চীন এগিয়ে গেছে, তবুও সামগ্রিক পছন্দের বিচারে লাতিন আমেরিকার ৬৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৫৮ শতাংশ মানুষ চীনকে পছন্দ করেন। এছাড়া, ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে আর্জেন্টিনা ছাড়া বাকি সব দেশের অধিকাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, মে থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ মানুষের ওপর মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নিয়ে এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে করা এবং বাল্যবিবাহের তথ্য গোপন করা রোধ করা সম্ভব হবে।

আজ শনিবার সকালে, রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিবাহ নিবন্ধনের এই অনলাইন তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের সব কাজিকে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

এছাড়া, ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ভাঙতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়ন শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবেশ ও সমুদ্রভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় শুরু হওয়া পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজন করছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও কৃষিসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সেল কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। এসব কর্মী তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও তিনি গুরুত্ব দেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর তিনি জোর দেন। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে স্কুলের পোশাক, ব্যাগ, দুপুরের খাবার ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগও সম্প্রসারণ করা হবে।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা হবে। তিনি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন।

পানি নিরাপত্তার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরি ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। তিনি শান্তি ও সম্প্রীতিকে যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘বিভাজন, সীমান্ত ও ভবিষ্যৎ: পরিবর্তিত বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%