ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে: আইনমন্ত্রী


বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে করা এবং বাল্যবিবাহের তথ্য গোপন করা রোধ করা সম্ভব হবে।

আজ শনিবার সকালে, রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিবাহ নিবন্ধনের এই অনলাইন তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

তিনি বলেন, ‘দেশের সব কাজিকে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

এছাড়া, ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ভাঙতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়ন শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবেশ ও সমুদ্রভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় শুরু হওয়া পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজন করছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও কৃষিসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সেল কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। এসব কর্মী তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও তিনি গুরুত্ব দেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর তিনি জোর দেন। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে স্কুলের পোশাক, ব্যাগ, দুপুরের খাবার ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগও সম্প্রসারণ করা হবে।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা হবে। তিনি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন।

পানি নিরাপত্তার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরি ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। তিনি শান্তি ও সম্প্রীতিকে যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘বিভাজন, সীমান্ত ও ভবিষ্যৎ: পরিবর্তিত বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, কৃষিখাত আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগকে আরও সহজলভ্য করার জন্য আমরা কাজ করছি। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ, "আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।"

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।"

বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। "আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।" এর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "সাথে সাথে এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।"

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করা হচ্ছে। "দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি।" উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সব খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

"আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান।" ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে।

‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।" তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন।

তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। "আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।" পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, "আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে।" এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি বলেন, "আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি।" তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান।

ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি।" তিনি চান, "আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।"

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।" পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি পরিবেশ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। "আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব।" সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। "বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাকটরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে।" পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে।"

জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, "আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে।" আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি।" নতুন বাজার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে আরও সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, "সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।" ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। "আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।" একই সঙ্গে, তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব।"

কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে।

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নববীর অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


মসজিদে নববীর অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের

তুরস্ক, সউদী আরবের মদিনায় মসজিদে নববীর সেবা-সংশ্লিষ্ট বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান শুক্রবার এই নিন্দা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দুরান উল্লেখ করেন, "দুই পবিত্র মসজিদের পবিত্রতা, শান্তি ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা পুরো মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন অনুভূতির ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করা এ ধরনের হামলা দ্রুত বন্ধ হবে।

দুরান আরও বলেন, "তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে সউদী আরবের পাশে থাকবে তুরস্ক।" এর আগে, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মদিনায় মসজিদে নববীর সেবা দেওয়া বেসামরিক অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার নিন্দা জানায়।

এর আগে, সউদী নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করে যে, ইয়েমেনের হুথিরা মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এই কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি বলে জানায় জোট। তবে হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কেপি থেকে আগামীকাল পিটিআইয়ের পদযাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


দক্ষিণ কেপি থেকে আগামীকাল পিটিআইয়ের পদযাত্রা শুরু

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে রোববার পদযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির খাইবার পাখতুনখোয়া শাখার তথ্যসচিব শওকত ইউসুফজাই জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইউসুফজাই বলেন, ৪ অক্টোবরের পদযাত্রা যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। মালাকান্দ ডিভিশন থেকে আসা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি ও জাতীয় পরিষদের সদস্য জুনাইদ আকবর খান। দক্ষিণাঞ্চল, পেশোয়ার, মালাকান্দ ও হাজারার মিছিলগুলো সোয়াবিতে একত্রিত হবে বলে জানান তিনি।

ইউসুফজাই বলেন, পদযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্পদের ঘাটতি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হবে না। পদযাত্রার চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান আলোচনার সাফল্য সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তাঁর মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে।

শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ইউসুফজাই বলেন, এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতি উৎসাহব্যঞ্জক। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে পরিণত ও সমঝোতাপ্রবণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সামনে এগোনোর পথ বের হবে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি সমস্যার সমাধান করবে না বলেও মন্তব্য করেন ইউসুফজাই। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই নেতাদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%