ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী


শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, কৃষিখাত আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগকে আরও সহজলভ্য করার জন্য আমরা কাজ করছি। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ, "আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।"

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।"

আরও পড়ুন: কাজের সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন পোশাক শ্রমিক, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল খারাপ আচরণ

বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। "আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।" এর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "সাথে সাথে এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।"

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করা হচ্ছে। "দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি।" উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সব খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: বিএডিসিসহ কৃষি ফার্মের শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ ও মজুরি বাড়ানোর দাবি

"আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান।" ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে।

‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।" তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন।

তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: চিফ হুইপ: তারেক জিয়া নন, উনি ‘আরেক জিয়া’

শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। "আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।" পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, "আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে।" এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি বলেন, "আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি।" তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান।

আরও পড়ুন: গজারিয়ায় ফুলদী নদীতে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি।" তিনি চান, "আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।"

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।" পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

আরও পড়ুন: হুইপ দুলুর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজের নির্দেশ

তিনি পরিবেশ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। "আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব।" সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। "বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাকটরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে।" পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে।"

জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, "আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে।" আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি।" নতুন বাজার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে আরও সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, "সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।" ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। "আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।" একই সঙ্গে, তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব।"

কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে।

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নববীর অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


মসজিদে নববীর অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের

তুরস্ক, সউদী আরবের মদিনায় মসজিদে নববীর সেবা-সংশ্লিষ্ট বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান শুক্রবার এই নিন্দা প্রকাশ করেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দুরান উল্লেখ করেন, "দুই পবিত্র মসজিদের পবিত্রতা, শান্তি ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা পুরো মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন অনুভূতির ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করা এ ধরনের হামলা দ্রুত বন্ধ হবে।

দুরান আরও বলেন, "তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে সউদী আরবের পাশে থাকবে তুরস্ক।" এর আগে, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মদিনায় মসজিদে নববীর সেবা দেওয়া বেসামরিক অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার নিন্দা জানায়।

এর আগে, সউদী নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করে যে, ইয়েমেনের হুথিরা মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এই কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি বলে জানায় জোট। তবে হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কেপি থেকে আগামীকাল পিটিআইয়ের পদযাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


দক্ষিণ কেপি থেকে আগামীকাল পিটিআইয়ের পদযাত্রা শুরু

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে রোববার পদযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির খাইবার পাখতুনখোয়া শাখার তথ্যসচিব শওকত ইউসুফজাই জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইউসুফজাই বলেন, ৪ অক্টোবরের পদযাত্রা যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। মালাকান্দ ডিভিশন থেকে আসা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি ও জাতীয় পরিষদের সদস্য জুনাইদ আকবর খান। দক্ষিণাঞ্চল, পেশোয়ার, মালাকান্দ ও হাজারার মিছিলগুলো সোয়াবিতে একত্রিত হবে বলে জানান তিনি।

ইউসুফজাই বলেন, পদযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্পদের ঘাটতি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হবে না। পদযাত্রার চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান আলোচনার সাফল্য সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তাঁর মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে।

শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ইউসুফজাই বলেন, এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতি উৎসাহব্যঞ্জক। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে পরিণত ও সমঝোতাপ্রবণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সামনে এগোনোর পথ বের হবে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি সমস্যার সমাধান করবে না বলেও মন্তব্য করেন ইউসুফজাই। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই নেতাদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ৩ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ।

ডিএমপি শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) এবং মো. সজিব (৩৬)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানার একটি টহলদল উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়ির দশতলার ফ্ল্যাটে যায়।

সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন।

এক পর্যায়ে তারা মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভয়ে তিনি তাদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন। পরে তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান তিনি।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। পরিচয়পত্রটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া একটি পরিচয়পত্র, একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি বনাম রোনালদো: বুয়েনস আয়ার্সে উৎসব, লিসবনে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


মেসি বনাম রোনালদো: বুয়েনস আয়ার্সে উৎসব, লিসবনে ক্ষোভ

দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সম্মিলিত চেতনায় আবদ্ধ থাকার পর, লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একসঙ্গে শেষ হওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী ছিল। তবে, এই দুই ফুটবল কিংবদন্তির বিদায়ের মুহূর্তে বাজছে ভিন্ন সুর। একদিকে, একটি জাতি এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরাগীদের কাঁদিয়ে বিদায় নিচ্ছেন মেসি, অন্যদিকে রোনালদোর বিদায় ঘিরে রয়েছে ক্ষোভ, হতাশা এবং অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি তার শেষ ম্যাচ খেলবেন—বুয়েনস আয়ার্সে বেনিনের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে। প্রতিপক্ষের পরিচয় এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি মূলত একটি ফুটবল ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এক কিংবদন্তিকে বিদায় জানানোর উৎসব, যাকে অনেকেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে মনে করেন।

ইউরোপের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নরওয়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় নেশনস লিগের ম্যাচে বেঞ্চে বসানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে পর্তুগালের শিবির ছেড়ে গেছেন রোনালদো এবং কোচ জর্জ জেসুসের ব্যাখ্যায়ও অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি, তবে সেটি খুব কাছেই মনে হচ্ছে।

রোনালদো ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময়মতো আমি সব পর্তুগিজ মানুষকে সত্য বলব যে কোন কারণ আমাকে জাতীয় দল ছাড়তে বাধ্য করেছে, যাকে আমি সবসময় নিবেদিতভাবে ভালোবেসেছি।”

এটি পড়তে অনেকটা পুরনো ফেসবুক স্ট্যাটাসের মতো মনে হচ্ছে—আধা-গোপন, খানিকটা ক্ষুব্ধ এবং মনোযোগ আকর্ষণকারী অভিযোগ। যেন তিনি বোঝাতে চাইছেন “… কিছু মানুষ আসলে এতটা বিশ্বস্ত নয় যতটা আমি ভেবেছিলাম।”

একজন খেলোয়াড় হিসেবে, যিনি সবসময় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি আর আগের মতো নেই, তার উপস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের ভারসাম্য নষ্ট করেছে, তবুও তীব্র সমালোচনার মাঝেও আগের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে তিনি প্রায় সব ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন।

জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি সৌদি প্রো লিগে আল নাসরে রোনালদোকে কোচিং করেছেন, তাই হয়তো ছাড় দেবেন। অন্যদিকে, তিনি কঠোর প্রকৃতির, মর্যাদায় কম প্রভাবিত, তাই হয়তো তিনিই রোনালদোকে বাস্তবতার মুখোমুখি করবেন। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়টিই ঘটেছে।

জেসুস নরওয়ে ম্যাচের পর বলেন, “আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, আমি তাকে দিয়ে শুরু করি বা বেঞ্চে রাখি, সেটা কোচের সিদ্ধান্ত। খেলা আমাকে বলে কী করতে হবে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো শেষ দিকে তাকে দরকার হবে, কিন্তু খেলা অন্য গল্প বলল এবং আমি তাকে নামালাম না।”

আগের কোচদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—আগে রোনালদোকে যুক্তি ছাড়াই মাঠে রাখা হতো।

সম্ভবত পরে কোনো সমঝোতা হবে, সবাই বলবে এটি যোগাযোগের ভুল ছিল এবং রোনালদো বিদায়ী ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু তবুও স্পষ্ট, শেষটা খুব কাছেই এবং ক্ষোভ সঙ্গে নিয়ে।

দুইজনই হয়তো আবার তুলনা পছন্দ করবেন না, কিন্তু লক্ষণীয় যে তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার একই সময়ে শেষ হচ্ছে। পার্থক্য হলো, রোনালদোর ক্ষোভে বিষয়টি তার নিজের দিকে ঘুরে গেছে, আর মেসির ক্ষেত্রে সত্যিই সবকিছু তার জন্যই।

দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে—মেসি ৩৯, রোনালদো ৪১—দুজনই এখনও খেলছেন কারণ তারা কিছুটা সক্ষম। দুজনই নিজ নিজ লিগে শিরোপা জিতেছেন এবং গোল করছেন। তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তাদের পথ আলাদা।

তবে শেষ দুই বিশ্বকাপের দিকে তাকালে দেখা যায়। মেসি দুটো ফাইনালে পৌঁছেছেন, একটি জিতেছেন। এবং দুই অভিযানেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রোনালদো ফাইনালের ধারেকাছেও যেতে পারেননি, আগেই বিদায় নিয়েছেন এবং প্রশ্ন উঠেছে তার আদৌ দলে থাকা উচিত কি না।

দুজনকেই ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে মেসির ক্ষেত্রে সেটি কার্যকর হয়েছে—দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ। কারণ স্কালোনি দলকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যাতে মেসির শক্তি কাজে লাগে। মার্তিনেজ বা সান্তোস তা পারেননি রোনালদোর ক্ষেত্রে। জেসুস স্পষ্ট করেছেন, চেষ্টা করাও মূল্যহীন।

ফর্ম বিবেচনায়, রোনালদোর কয়েক বছর আগেই অবসর নেওয়া উচিত ছিল। তবে কেউ সুযোগ দিলে তিনি খেলতে চেয়েছেন। এর ফলে দেখা গেছে, একসময়কার মহাতারকা মাঠে হাঁটছেন, কিন্তু আগের মতো আর কিছু করতে পারছেন না।

তবে রোনালদোকে এখানে পুরোপুরি দায়ী করাও হয়তো ঠিক নয়। মেসির সাফল্যে ভাগ্যেরও ভূমিকা ছিল—স্কালোনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মূলত অর্থাভাবের কারণে। যদি পর্তুগালে একইভাবে কোনো সাধারণ সাবেক খেলোয়াড় দায়িত্ব নিয়ে রোনালদোর চারপাশে দল গড়ে তুলতেন, হয়তো আজ তার বিদায়ী ম্যাচে সব নজর থাকত।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, একজন খেলোয়াড় এক ম্যাচে বেঞ্চে বসানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় দল ছেড়ে যাচ্ছেন। ঠিক যেভাবে সহানুভূতি দ্রুতই হারিয়ে যায়।

এটা কল্পনা করা কঠিন যে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদোর এটাই শেষ। তিনি বিদায়ী ম্যাচ চাইবেন—এবং তার পারফরম্যান্স অনুযায়ী সেটি প্রাপ্যও। কিন্তু আচরণ ভিন্ন হলে হয়তো তিনি সেটি পেতেন, এই ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা ছাড়া।

রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা মেসির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। তিনি বিদায় নিচ্ছেন ঠিক রাজার বেশেই। ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে এখনও তিনি যে জাদু দেখিয়ে চলেছেন তাতে ভক্তদের মাঝে একটা গোপন চাওয়া থেকেই যাচ্ছে, আরও কিছুদিন কি চালিয়ে যেতে পারতেন না মেসি।

আর এখানেই যেন ফুটে উঠেছে সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের মধ্যে পার্থক্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%